নতুন V8 ইঞ্জিনে Mercedes-AMG SUV

হাইব্রিড ফোর-সিলিন্ডার থেকে পিছিয়ে এসে নিজেদের লাক্সারি SUV লাইনে নতুন V8 ইঞ্জিন যুক্ত করছে Mercedes।

হাই-পারফরম্যান্স V8 ইঞ্জিনকে নিজেদের স্থায়ী অংশ হিসেবেই রাখছে Mercedes-AMG। সম্প্রতি উন্মোচিত হওয়া আমূল পরিবর্তিত AMG GLE 63 S Coupe এবং GLS 63 পারফরম্যান্স SUV দুটি তারই প্রমাণ। পারফরম্যান্স গাড়ির লাইনে ইঞ্জিন ছোট করে ফোর-সিলিন্ডার প্লাগ-ইন হাইব্রিড আনার যে সিদ্ধান্ত কোম্পানিটি আগে নিয়েছিল, তা থেকে সরে আসার পর এই নতুন হাই-পারফরম্যান্স মডেলগুলো বাজারে আনা হলো।

উভয় SUV-তেই ব্যবহার করা হয়েছে টুইন-টার্বোচার্জড 4.0-liter V8 ইঞ্জিনের একটি ব্যাপকভাবে আপগ্রেড করা সংস্করণ, যা 603 horsepower এবং 627 pound-feet অফ টর্ক উৎপাদন করে। ইঞ্জিনের ভেতরের ঘূর্ণন ওজন কমাতে এবং রেভিং ক্ষমতা বাড়াতে এতে যুক্ত করা হয়েছে নতুনভাবে তৈরি একটি ফ্ল্যাট-প্লেন ক্র্যাঙ্কশ্যাফ্ট। এর পাওয়ারট্রেনে আরও রয়েছে আপগ্রেডেড ইনটেক ও সংশোধিত টার্বোচার্জার এবং একটি নতুন 48-volt mild-hybrid সিস্টেম। এই সেটআপে একটি উন্নত Integrated Starter Generator ব্যবহার করা হয়েছে, যা গাড়ির রেসপন্সিভনেস বাড়াতে বাড়তি 23 horsepower এবং 151 pound-feet অফ টর্ক যোগ করতে পারে।

AMG-র দাবি, এই মেকানিক্যাল আপগ্রেডের ফলে ভারী ও লাক্সারি এই গাড়িগুলো স্পোর্টস কারের মতো পারফরম্যান্স দেবে। আকারে কিছুটা ছোট AMG GLE 63 S Coupe গাড়িটি মাত্র 3.6 seconds-এ ০ থেকে ৬০ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিবেগ তুলতে পারে। অন্যদিকে, আকারে বড় ও তিন সারির আসনবিশিষ্ট AMG GLS 63 মডেলটির একই গতি তুলতে সময় লাগে 3.9 seconds। দুটি গাড়িরই সর্বোচ্চ গতি ইলেক্ট্রনিকভাবে প্রতি ঘণ্টায় ১৭৪ মাইলে (174 miles per hour) সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

এই বিপুল শক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে এর মেকানিক্যাল ও হ্যান্ডলিং প্যাকেজে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে থাকছে AMG Ride Control+ এয়ার সাসপেনশন সিস্টেম। এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে AMG Active Ride Control-এর মাধ্যমে অ্যাক্টিভ রোল স্ট্যাবিলাইজেশন প্রযুক্তি। এই সিস্টেমটি প্রতি সেকেন্ডে ১,০০০ বার রাস্তার উপরিভাগ স্ক্যান করে কর্নারিং বা মোড় নেওয়ার সময় গাড়ির বডি রোল সক্রিয়ভাবে প্রতিরোধ করে। এছাড়াও এর ড্রাইভিং ডাইনামিকস চমৎকারভাবে সামলানোর জন্য রয়েছে সম্পূর্ণ পরিবর্তনশীল AMG Performance 4MATIC+ অল-হুইল-ড্রাইভ সিস্টেম এবং ট্র্যাকশন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি ইলেক্ট্রনিকালি নিয়ন্ত্রিত রিয়ার লকিং ডিফারেনশিয়াল।

গাড়িগুলোর বাহ্যিক বা এক্সটেরিয়র ডিজাইনে খুব বেশি পরিবর্তন না এনে মূল অনুপাতগুলো আগের মতোই রাখা হয়েছে। তবে এতে যুক্ত হয়েছে AMG-নির্দিষ্ট গ্রিল, নতুন এলইডি লাইটিং সিগনেচার, বড় ফ্রন্ট এয়ার ইনটেক, সিগনেচার কোয়াড এক্সহস্ট টিপস এবং নতুন আকৃতির রিয়ার ডিফিউজার। পাশাপাশি GLS মডেলটিতে এক সেট এক্সক্লুসিভ ১০-স্পোক চাকা দেওয়া হয়েছে।

গাড়ির ভেতরের বা ইন্টেরিয়রের সুযোগ-সুবিধাগুলো মূলত অপরিবর্তিতই রয়েছে। এতে থাকছে AMG-নির্দিষ্ট টেলিমেট্রি গ্রাফিক্সসহ বড় ডিজিটাল ডিসপ্লে এবং ড্রাইভ-মোড ডায়াল সংবলিত একটি আপডেটেড AMG Performance স্টিয়ারিং হুইল। এর ভেতরের MB.OS সফটওয়্যারটি চালকের সামনে রিয়েল-টাইম পারফরম্যান্সের তথ্য যেমন—লাইভ টর্ক স্প্লিট, ল্যাটারাল জি-ফোর্সেস এবং ইঞ্জিনের বিভিন্ন পরিসংখ্যান প্রদর্শন করবে। 

কোম্পানির MANUFAKTUR পারসোনালাইজেশন প্রোগ্রামের অধীনে কাস্টমাইজেশনের সুযোগ আরও বাড়ানো হয়েছে, যার মাধ্যমে গ্রাহকরা নিজেদের পছন্দমতো পেইন্ট ফিনিশ এবং Yacht Blue ও Tartufo Brown-এর মতো চমৎকার ইন্টেরিয়র লেদার কম্বিনেশন বেছে নিতে পারবেন। তবে আপডেটেড এই মডেল দুটির আনুষ্ঠানিক দামের বিবরণ এখনো প্রকাশ করেনি Mercedes-AMG।

Previous
Previous

সস্তা ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরি করেছে মেক্সিকো 

Next
Next

Jeremy Clarkson-এর প্রস্টেট ক্যান্সার শনাক্ত