জাপানে মার্কিন গাড়ির মান নিয়ে সতর্কতা
আমেরিকা থেকে আমদানি করা বেশ কিছু গাড়ির নির্মাণত্রুটি ও রঙের অসঙ্গতি নিয়ে জাপানি ক্রেতাদের সতর্ক করছে Toyota এবং Nissan।
যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মধ্যে গত বছরের শেষের দিকে স্বাক্ষরিত একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তির আওতায়, Toyota এবং Nissan আমেরিকান কারখানায় তৈরি তাদের কিছু মডেল সরাসরি জাপানের বাজারে বিক্রি শুরু করেছে। এই মডেলগুলোর মধ্যে রয়েছে Nissan Murano, Toyota Tundra এবং Toyota Highlander। দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী, এই গাড়িগুলো সামান্য কিছু রেগুলেটরি পরিবর্তন (যেমন—হেডলাইট রিক্যালিব্রেশন, অ্যাম্বার রিয়ার টার্ন সিগন্যাল, মেট্রিক ইন্সট্রুমেন্টেশন ও ইমার্জেন্সি ফ্লেয়ার) করে জাপানে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে। এর বিনিময়ে আমেরিকায় জাপানি পণ্য রপ্তানির ওপর শুল্ক ১৫ শতাংশে সীমিত করা হয়েছে।
তবে এই আমদানির ফলে দুই দেশের উৎপাদন মানের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য সামনে চলে এসেছে। গাড়ির বাহ্যিক ফিনিশিং ও রঙের তারতম্য নিয়ে Toyota তাদের গ্রাহকদের কাছে একদম খোলামেলা নোটিশ দিয়েছে। তাদের ব্রোশিয়ারে লেখা হয়েছে, "এই পণ্যের পেইন্ট ফিনিশটি বিদেশি বাজারের জন্য ডিজাইন করা। আপনারা হয়তো কিছু ত্রুটি লক্ষ্য করতে পারেন, তবে এগুলো গাড়ির কার্যক্ষমতা বা পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলবে না।" এই ত্রুটিগুলোর মধ্যে রয়েছে পাতলা পেইন্ট, অসম রঙ, পলিশিংয়ের দাগ এবং পেইন্ট ফুলে থাকা। একইভাবে Nissan-ও তাদের আমেরিকান কারখানায় তৈরি Nissan Murano ক্রেতাদের সতর্ক করে বলেছে যে, গাড়িতে রঙের নিচে ধূলিকণা আটকে থাকা, প্যানেলের মাঝে অসম ফাঁকা জায়গা এবং ট্রিম অ্যালাইনমেন্টের সমস্যা দেখা যেতে পারে।
কসমেটিক বা বাহ্যিক ত্রুটি ছাড়াও, জাপানের বাজারে এই আমেরিকান মডেলগুলোতে বেশ কিছু প্রযুক্তিগত ফিচার বাদ দেওয়া হয়েছে। যেমন, Nissan Murano গাড়িটি তার প্যানিক অ্যালার্ম এবং রিমোট ইঞ্জিন স্টার্টার সুবিধা হারিয়েছে। এছাড়া তিনটি মডেল থেকেই ইন-কার টিভি রিসেপশন, AM/FM রেডিও, HDMI ইনপুট, ইমার্জেন্সি কল ফাংশন, রোড-সাইন রিকগনিশন এবং রিমোট কানেক্টিভিটি সেবা বাদ পড়েছে। গাড়ির বিল্ট-ইন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেমগুলো কেবল English, Spanish এবং French ভাষা সাপোর্ট করে। ফলে জাপানি ভাষায় নেভিগেশনের জন্য ক্রেতাদের বাধ্য হয়ে Android Auto অথবা Apple CarPlay ব্যবহার করতে হচ্ছে।
গাড়ির কনফিগারেশন বা ড্রাইভিং পজিশনও স্থানীয় চালকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জাপানের বাজারে আসা Nissan Murano এবং Toyota Tundra গাড়ি দুটি লেফট-হ্যান্ড ড্রাইভ (LHD) বা বাম দিকে স্টিয়ারিং বিশিষ্ট। কেবল Toyota Highlander মডেলটি রাইট-হ্যান্ড ড্রাইভ (RHD) হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে, কারণ এটি মূলত অস্ট্রেলিয়ার মতো ডান-স্টিয়ারিংয়ের বাজারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে এটি Kluger নামে বিক্রি হয়। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়াতেও রাইট-হ্যান্ড ড্রাইভের Toyota Tundra বিক্রি হলেও, Toyota তাদের টেক্সাস প্ল্যান্টে এটি কেবল লেফট-হ্যান্ড ড্রাইভ হিসেবেই তৈরি করে। পরে অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রকৌশল সংস্থা Walkinshaw-এর মাধ্যমে চড়া খরচে সেটিকে রাইট-হ্যান্ড ড্রাইভে রূপান্তর করা হয়।
উত্তর আমেরিকা থেকে গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে জাপানের এমন অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম নয়। অতীতে ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে বিক্রি হওয়া Honda LaGreat, দুই প্রজন্মের Toyota Avalon (যার দ্বিতীয় প্রজন্মকে Pronard নামে রিব্যাজ করা হয়েছিল) এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের Acura ও Honda NSX-এর উদাহরণ রয়েছে। এই তালিকায় আরেকটি উল্লেখযোগ্য নাম হলো Toyota Cavalier; বাণিজ্যিক উত্তেজনা কমাতে ওহিওতে General Motors-এর কারখানায় Chevrolet Cavalier গাড়িটিকে রিব্যাজ করে এটি তৈরি করা হয়েছিল। তবে অতিরিক্ত মূল্য এবং প্রশ্নবিদ্ধ নির্মাণশৈলীর কারণে সেটি জাপানি ক্রেতাদের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
ঐতিহ্য ছুড়ে ফেলে অতি-বিলাসী বাজারে ঢোকার পরিকল্পনার অংশ হিসবে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ‘Type 01’ গ্র্যান্ড ট্যুরার উন্মোচন করেছে ব্রিটিশ গাড়ি নির্মাতা Jaguar।