গুণগত মানের জোট গড়ছে জাপানি গাড়ি নির্মাতারা

ছবিঃ Toyota

কয়েক দশক আগে অসম্ভব মনে হলেও এবার বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে একজোট হয়ে কাজ করছে জাপানের শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

গত জুলাইয়ের শেষের দিকে Toyota-র Tahara কারখানায় একত্রিত হয়েছিল Toyota, Honda, Mazda, Suzuki এবং Mitsubishi। সেখানে ব্র্যান্ডগুলোর ১০০ জনেরও বেশি মাননিয়ন্ত্রণ ও ক্রয় বিশেষজ্ঞ এবং যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী প্রতিনিধিরা অংশ নেন। যৌথ সাপ্লাই চেইনের মাধ্যমে কীভাবে উৎপাদন খরচ কমানো যায় এবং পণ্যের কার্যকারিতা বাড়ানো যায়, তা নিয়ে সরাসরি যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করে আলোচনা করেন তারা।

মূলত ২০১৭ সালে শুরু হওয়া Toyota-র ‘Smart Standard Activity’ (SSA) কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই যৌথ উদ্যোগ। এর মূল লক্ষ্য ছিল, যন্ত্রাংশের কার্যকারিতা বা গ্রাহকের সন্তুষ্টিতে কোনো প্রভাব না ফেললে ছোটখাটো দৃশ্যমান ত্রুটি বা সামান্য দাগ থাকা সত্ত্বেও সেগুলো বাতিল না করে গ্রহণ করা। এতে সময় ও অপচয় কমানোর পাশাপাশি উৎপাদন খরচও কমানো সম্ভব হয়। যেমন—পেছনের সিটের এসি ভেন্টের নিচের অংশে সামান্য দাগ থাকলেও তা বাদ না দিয়ে ব্যবহারের উপযোগী ঘোষণা করা হয়, কারণ স্বাভাবিক অবস্থায় বসে সেই দাগ দেখা যায় না এবং এতে কার্যকারিতাতেও কোনো প্রভাব পড়ে না।

এর মাধ্যমে অপচয় রোধ হলেও, যারা Toyota-র কাছ থেকে সবসময় নিখুঁত ফিনিশিং আশা করেন, সেই গ্রাহকদের মনে কিছুটা সংশয় জেগেছে। এছাড়া একই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যখন একাধিক ব্র্যান্ডের জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি করে, তখন মাননিয়ন্ত্রণের ভিন্ন নিয়ম সরবরাহকারীদের জন্য ব্যাপক জটিলতা ও বাড়তি খরচের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই সমস্যা সমাধানে চার বছর আগেই স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর সাথে কাজ শুরু করেছিল Toyota। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের এপ্রিলে ‘Japan Automobile Manufacturers Association’ (JAMA) এবং ‘Japan Auto Parts Industries Association’ (JAPIA) যৌথভাবে একটি এসএসএ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করে যা চলতি বছর চূড়ান্ত রূপ নেয়। তবে মূল্য নির্ধারণ, উৎপাদন প্রক্রিয়া কিংবা নিজস্ব প্রযুক্তির মতো প্রতিযোগিতামূলক বিষয়ে তারা কোনো সমঝোতা করছে না; বরং অ-প্রতিযোগিতামূলক দৃশ্যমান মানদণ্ড ও উৎপাদন খরচে কমানোর দিকে নজর দিচ্ছে।

২০২৫ সালের শেষ নাগাদ Toyota-র নিজস্ব এসএসএ কাঠামোর আওতায় উত্থাপিত প্রস্তাবের ৬৭ শতাংশই সফলভাবে গৃহীত হয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে সাশ্রয়ী চীনা গাড়ির যে জোয়ার শুরু হয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রায় ৫৫ লাখ কর্মী নির্ভর জাপানি অটোমোবাইল সাপ্লাই চেইনের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা নিশ্চিত করা। ইতোমধ্যেই উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ায় এই কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালেও ইঞ্জিন উন্নয়নের ক্ষেত্রে অ-প্রতিযোগিতামূলক যৌথ উদ্যোগ নিয়েছিল Toyota, Mazda ও Subaru। সুলভ মূল্যের চাইনিজ বৈদ্যুতিক গাড়ির চাপ মোকাবিলায় ইউরোপীয় নির্মাতারা ইতোমধ্যেই অনেক দেরি করে ফেলেছে বলে অতি সম্প্রতি Ford-এর সিইও Jim Farley সতর্ক করলেও, জাপানি অটোমোবাইল শিল্প তার পুনরাবৃত্তি হতে দিতে রাজি নয়। শেষ পর্যন্ত জাপানি নির্মাতাদের এই ‘স্মার্ট’ মাননিয়ন্ত্রণ ও ব্যয় সংকোচন কৌশল কতটুকু কাজে আসে এবং তাদের এতদিনের অর্জিত সুনাম অক্ষুণ্ণ থাকে কি না—তা-ই এখন দেখার বিষয়।

Previous
Previous

স্মরণসভায় Mazda-র অনন্য ‘পপি আর্ট কার’

Next
Next

ইভি-বিরোধী অভিযোগ নাকচ করল Porsche