চীনা আগ্রাসনের মুখে বাজার ধরে রাখার লড়াইয়ে Toyota
বিশ্ববাজারে চীনা গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর তীব্র অগ্রগতির মুখে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে এখন গুণগত মান ও নির্ভরযোগ্যতার যুক্তি দিচ্ছে Toyota।
২০২৫ সালের বৈশ্বিক গাড়ি বিক্রির তালিকায় শীর্ষ ১০টি অবস্থানের মধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গা দখল করে নিয়েছে চীনা অটোমেকাররা। এর মধ্যে ৪.৬ মিলিয়ন গাড়ি বিক্রি করে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে BYD, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৭.৭২ শতাংশ বেশি। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ওয়াং চুয়ানফু আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বের এক নম্বর গাড়ি নির্মাতা হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এছাড়া MG-এর মূল কোম্পানি SAIC ৪.৫ মিলিয়ন গাড়ি বিক্রি করে সপ্তম এবং Geely ৪.১২ মিলিয়ন গাড়ি বিক্রি করে (২৬ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি) নবম স্থানে রয়েছে।
এই তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যেও Toyota এবং তাদের বিলাসবহুল Lexus বিভাগ ২০২৫ সালে ১০.৫ মিলিয়নের কিছু বেশি গাড়ি বিক্রি করে টানা ষষ্ঠ বছরের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। সহযোগী Daihatsu-সহ এই সংখ্যা প্রায় ১১.২ মিলিয়ন, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা Volkswagen গ্রুপের (৮.৭ মিলিয়ন) চেয়ে বেশি।
তীব্র প্রতিযোগিতার এই ধারাবাহিক সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে তাদের গুণগত মান ও নির্ভরযোগ্যতাকে দেখছেন কোম্পানিটির কর্মকর্তারা। Drive ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে Toyota অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তা জন পাপাস দাবি করেন, Toyota-র আসল শক্তি লুকিয়ে আছে এর পণ্যের মান, স্থায়িত্ব এবং নির্ভরযোগ্যতার মধ্যে। তার মতে, মহামারীর মতো অনিশ্চিত সময়ে গ্রাহকরা চেনা ও বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের দিকেই ঝুঁকেছে এবং এই আস্থাই তাদের এতদিন টিকিয়ে রেখেছে।
পাপাস আরও যুক্তি দেখান যে, শক্তিশালী ডিলারশিপ নেটওয়ার্ক, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং গাড়ির উচ্চ পুনঃবিক্রয় মূল্যের (resale value) কারণে তারা প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছেন। তবে এই সাফল্যের দাবির মাঝেই বাস্তব পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং পরিচালন ব্যয় কমাতে Toyota খুব দ্রুতই তাদের বিশাল পণ্য তালিকা (product portfolio) ছোট করার কথা বিবেচনা করছে।
গত বছরই আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করার পর এবার বড় ধরনের বিনিয়োগের ইঙ্গিত দিল জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Toyota।