চীনা বিলাসবহুল ভ্যানের ব্রেক ফেল
ছবিঃ Maextro
গাড়ির ব্রেক ফেল হওয়াটাই একটি বিপদজনক ব্যাপার। কিন্তু যখন একটি দুই কোটি টাকার বিলাসবহুল ভ্যান জরুরি মুহূর্তে থামতে গিয়ে ব্রেকের প্যাডেলটাই দুই টুকরো করে ফেলে তখন ব্যাপারটা হয় আরও ভয়াবহ।
কিন্তু তাই ঘটেছে Maextro-র তৈরি V800-এ, যা চীনের বাজারে বিক্রি হওয়া একটি অতি-বিলাসবহুল এক্সটেন্ডেড-রেঞ্জ ইলেকট্রিক মিনিভ্যান।
Dongchedi-এর পরীক্ষকদের স্বাধীন নিরীক্ষায় এই ছয় অঙ্কের ডলার মূল্যের এই ফ্ল্যাগশিপের ব্রেকিং ব্যবস্থায় গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়েছে। ঘণ্টায় ৬২ মাইল (১০০ কিমি) গতিতে চলা অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে গাড়ি থামানোর অনুকরণমূলক পরীক্ষায় তিনটি পৃথক V800-এর ব্রেক প্যাডেল সম্পূর্ণ ভেঙে যায়।
ছবিঃ Dongchedi
অনুসন্ধানটি অনুযায়ী, সমস্যাটি ব্রেক প্যাডেলে নয়, বরং সেটিকে জায়গায় ধরে রাখার ব্র্যাকেটে। যন্ত্রাংশটি তৈরি হয়েছে ৪০ শতাংশ গ্লাস ফাইবার দিয়ে শক্তিশালী করা পলিপ্রোপিলিন থেকে, যা গাড়ি নির্মাণে বহুল ব্যবহৃত একটি উপাদান। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্র্যাকেটটির মূল কাঠামোগত নকশায় শোচনীয় দুর্বলতা রয়েছে বলে এটি এভাবে ভেঙে যাচ্ছে।
এছাড়াও ব্র্যাকেটের সংযোগস্থলে পর্যাপ্ত সহায়ক দৃঢ়তা নেই। একই সঙ্গে ব্রেক প্যাডেলের ঘূর্ণনবিন্দু থেকে প্যাডেলের কেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্বও অস্বাভাবিকভাবে বেশি। CarNewsChina-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দূরত্ব ৫.১ ইঞ্চি (১৩০ মিলিমিটার)। ফলে চালক ব্রেক প্যাডেলে চাপ দিলে যান্ত্রিক লিভারেজ ও ব্র্যাকেটের ওপর মাত্রাতিরিক্ত প্রেসার পড়ে।
Dongchedi-এর পরীক্ষকরা উল্লেখ করেছেন, জরুরি মুহূর্তে গাড়ি থামানো কোনো অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত কঠিন পরীক্ষা নয়। এমন পরিস্থিতিতে ব্রেক প্যাডেল ভেঙে যাওয়া যেকোনো গাড়ির ক্ষেত্রেই অগ্রহণযোগ্য। আর গাড়িটির দাম যখন আস্ত বাড়ির সমান, তখন এমন ত্রুটি আরও বিব্রতকর।
Maextro অবশ্য গাড়িটির সাফাই গেয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গ্রাহকদের ব্যবহৃত V800-এ ব্রেক প্যাডেল ব্র্যাকেট ভেঙে যাওয়ার কোনো অভিযোগ তারা পায়নি। তাদের আরও দাবি, ত্রুটিগুলো ঘটেছে “প্রচলিত মানদণ্ডের বাইরে থাকা চরম পরীক্ষার পরিস্থিতিতে”। পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানটি জোর দিয়ে বলেছে, গাড়িটির ব্রেকিং ব্যবস্থা চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বৃহত্তর গাড়িশিল্পের নির্ধারিত নিরাপত্তা মানদণ্ডের চেয়েও উন্নত।
মজার ব্যাপার হলো, এই আত্মবিশ্বাসী দাবির পাশাপাশি Maextro ব্র্যাকেটের নকশা উন্নত করার এবং বর্তমান মালিকদের বিনা মূল্যে নতুন হার্ডওয়্যার দিয়ে আপগ্রেড করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এটি অবশ্যই একটি যুক্তিসংগত পদক্ষেপ। তবে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে: পুরোনো যন্ত্রাংশটি যদি নিরাপত্তার মানদণ্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো ভালোই হয়, তাহলে সেটির নকশা বদলানোর প্রয়োজন পড়ছে কেন?
১ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের V800-তে অবশ্য দামি প্রযুক্তির অভাব নেই। এর এক্সটেন্ডেড-রেঞ্জ ইলেকট্রিক পাওয়ারট্রেনে রয়েছে দুটি বৈদ্যুতিক মোটর, যেগুলো সম্মিলিতভাবে ৫২৩ হর্সপাওয়ার (৩৯০ কিলোওয়াট) শক্তি উৎপাদন করে। মোটর দুটির সাথে যুক্ত আছে CATL-এর তৈরি ৬৫ kWh ব্যাটারি। আর ১.৫ লিটারের পেট্রোল ইঞ্জিনটি কেবল জেনারেটর হিসেবে কাজ করে। চাকার সঙ্গে এর কোনো সরাসরি যান্ত্রিক সংযোগ নেই।
কেবিনে রয়েছে স্টিয়ার-বাই-ওয়্যার প্রযুক্তি, কফি মেশিন, ৪১.৬ ইঞ্চির প্রজেক্টর স্ক্রিন, ৪১টি স্পিকারযুক্ত অডিও সিস্টেম এবং হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণযোগ্য পাওয়ার উইন্ডো। এক কথায় বললে, এটি একটি চলন্ত বিলাসবহুল লাউঞ্জ।
তবে বলা বাহুল্য, থামার সময় চালক যদি ব্রেক প্যাডেলের ওপর ভরসা করতে না পারেন, তাহলে এসব বিলাসিতার কোনোটিরই তেমন মূল্য থাকে না।
বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরিতে চীনা প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে এমন গাড়ি নির্মাতাদের তালিকায় এবার যোগ হলো Suzuki।