বাংলাদেশে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে Toyota
ছবিঃ Toyota
দেশে কারখানা স্থাপনের মেগা প্ল্যান ঘোষণার পরপরই, সরাসরি ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতে এবার প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার বা ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে Toyota।
Toyota Motor Corporation এই অর্থ দিয়ে দুটি 3S সেন্টার স্থাপন করবে, যেখানে একই ছাদের নিচে থাকবে গাড়ি বিক্রি, সার্ভিসিং এবং খুচরা যন্ত্রাংশের সুবিধা। কেন্দ্র দুটি স্থাপন করা হবে ঢাকায় ও চট্টগ্রামে। নির্মাণকাজ শুরু হবে ২০২৬ সালের নভেম্বরে। উল্লেখ্য এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে Toyota মূলত স্থানীয় ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করেছে।
Invest Bangladesh Authority-এর তথ্য অনুযায়ী, এই বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে কর্মকর্তারা পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে Toyota-র সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছিলেন। Invest Bangladesh-এর সদস্য Nahian Rahman Rochi TBS-কে বলেন, “Toyota তাদের প্রথম 3S (বিক্রয়, সার্ভিসিং ও খুচরা যন্ত্রাংশ) সেন্টার চালু করবে। আগামী নভেম্বরে এগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হবে।” তিনি আরও জানান, কেন্দ্র দুটির জন্য জায়গাও ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশ নিয়ে Toyota-র পরিকল্পনা শুধু সার্ভিস সেন্টারেই সীমাবদ্ধ নয়। Toyota Tsusho Corporation দেশে হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকল (HEV) উৎপাদনশিল্প গড়ে তুলতে চায়। কারখানার কাজ শুরু হবে ২০২৭ সালে, আর পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু হতে পারে ২০২৯ সাল নাগাদ।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি পরিচালিত হবে “with Bangladesh, for Bangladesh” বা বাংলাদেশের সঙ্গে, বাংলাদেশের জন্য—দর্শন অনুসরণ করে। গত ৬ অক্টোবর সচিবালয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে Toyota Tsusho-র একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠকের পর এ ঘোষণা আসে। দলটির নেতৃত্বে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান Ichiro Kashitani। উৎপাদন কার্যক্রম প্রতিষ্ঠায় সহায়তার জন্য Invest Bangladesh Authority-ও ধারাবাহিক নীতিগত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বাংলাদেশে Toyota-র উচ্চাকাঙ্ক্ষা কত দূর এগোবে, তা অবশ্য এখনও দেখার বিষয়। সার্ভিস সেন্টার স্থাপন করা এক ব্যাপার; আর সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দেশে গাড়ি উৎপাদন করা একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। তবে আমাদের দেশে Toyota-র মতো জনপ্রিয়তা খুব কম গাড়ি নির্মাতাই অর্জন করেছে।। স্থানীয় ক্রেতাদের মাঝে ব্র্যান্ডটির প্রতি রয়েছে এক অন্ধ আনুগত্য। এই পরিস্থিতিতে দেশে সংযোজিত হাইব্রিড গাড়ি বাজারে এলে Toyota-র ব্র্যান্ড ভ্যালু ও ক্রেতাদের আকর্ষণ যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দাম নির্ধারণ। চীনা গাড়ি নির্মাতারা ক্রমেই প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে। আধুনিক ফিচার ও বিদ্যুতায়িত পাওয়ারট্রেনসহ গাড়ি তারা এমন দামে দিচ্ছে, যা প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলোর ওপর বিপুল চাপ তৈরি করছে। স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে Toyota যদি দামের এই ব্যবধান কমাতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের নতুন গাড়ির বাজারে প্রতিষ্ঠানটি আরও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে।
তবে Toyota-র এই সম্প্রসারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে তাদের চিরাচরিত প্রতিদ্বন্দ্বীরা নয়, বরং ভিন্ন একটি খাত। দেশে Toyota-র শক্তিশালী উপস্থিতি, প্রতিযোগিতামূলক দাম এবং নতুন গাড়ির সহজলভ্যতা বাড়লে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির ব্যবসার উপর চাপ তৈরি হতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই এটি BARVIDA-র প্রতিনিধিত্ব করা প্রতিষ্ঠিত আমদানিকারকদের জন্য কোনো সুখবর না; যারা দীর্ঘদিন ধরে জাপান থেকে আমদানি করা ব্যবহৃত গাড়ির ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতাকে পুঁজি করে ব্যবসা করে আসছে।
তবে বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং মানসম্পন্ন নতুন গাড়ি কেনার সুযোগ শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। যেহেতু Toyota-র রয়েছে শক্তিশালী ব্র্যান্ড আনুগত্য, আর এবার সেই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে তারা বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করতেও প্রস্তুত। যদিও এই সুবিধাকে বাংলাদেশের রাস্তায় সাশ্রয়ী দামের গাড়িতে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে এই বিনিয়োগ নতুন কোনো অধ্যায়ের সূচনা করবে, নাকি শেষ পর্যন্ত আরেকটি ব্যয়বহুল প্রতিশ্রুতি হয়েই থাকবে।
দেশে কারখানা স্থাপনের মেগা প্ল্যান ঘোষণার পরপরই, সরাসরি ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতে এবার প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার বা ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে Toyota।