প্রথমবার অল-ইলেকট্রিক সংস্করণসহ এলো নতুন BMW X5

বিলাসবহুল গাড়ির বাজারে নিজেদের জনপ্রিয় এসইউভি ‘এক্স৫’-এর পঞ্চম প্রজন্মের ‘G65’ মডেল উন্মোচন করেছে জার্মানির বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিএমডব্লিউ। একই সাথে এই প্রথমবারের মতো গাড়িটির সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক বা অল-ইলেকট্রিক সংস্করণ ‘আইএক্স৫’ সামনে এনেছে কোম্পানিটি। নতুন প্রজন্মের এই বিলাসবহুল লাইনে চালকদের জন্য পেট্রোল, diesel, প্লাগ-ইন হাইব্রিড এবং ব্যাটারি-চালিত ইলেকট্রিক—সব ধরনের ইঞ্জিনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এই গাড়িগুলো ধাপে ধাপে বাজারে আসবে, যার মধ্যে পেট্রোলচালিত এবং dieselচালিত মডেল দুটি চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থাৎ ২০২৬ সালের চতুর্থ কোয়ার্টারে শোরুমগুলোতে পৌঁছাবে। আর প্লাগ-ইন হাইব্রিড এবং অল-ইলেকট্রিক সংস্করণ দুটি বাজারে আসবে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে।

বিএমডব্লিউ-এর ডিজাইন প্রধান আদ্রিয়ান ভ্যান হুইডংক-এর নির্দেশনায় গাড়িটির বাহ্যিক রূপ দেওয়া হয়েছে। এর হুইলবেস ৬০ মিলিমিটার বাড়িয়ে ৩০৩৫ মিলিমিটার করা হয়েছে, যার ফলে গাড়ির মোট দৈর্ঘ্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯৯২ মিলিমিটার এবং উচ্চতাও কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। এর এক্সটেরিয়রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে ইলুমিনেটেড বা আলো জ্বলানো কিডনি গ্রিল, ২১ ইঞ্চি থেকে ২৩ ইঞ্চি পর্যন্ত অ্যালয় হুইল এবং ঐতিহ্যবাহী স্প্লিট-টেইলগেটের বদলে একক অংশের সিঙ্গেল-পিস টেইলগেট। গাড়িটির অ্যারোডাইনামিকস উন্নত করার ফলে এর ড্র্যাগ কোফিসিয়েন্ট আগের ০.৩৩ থেকে কমে ০.২৯-এ নেমে এসেছে। এছাড়া গ্রাহকরা চাইলে এতে একটি অতিরিক্ত স্পোর্টস প্যাকেজ যুক্ত করতে পারবেন, যা গাড়ির চেসিস ও সাসপেনশনকে আরও উন্নত করবে।

ভেতরের কেবিনেও এসেছে আভিজাত্যের ছোঁয়া। ড্যাশবোর্ডে থাকছে একটি বিশাল ১৭.৯ ইঞ্চির সেন্ট্রাল টাচস্ক্রিন এবং প্যানোরামিক আইড্রাইভ ডিসপ্লে, যা চলবে পরবর্তী প্রজন্মের দ্রুতগতির নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেমে। চালকের সুবিধার জন্য হেড-আপ ডিসপ্লে এবং সামনের যাত্রীর জন্য ফ্ল্যাগশিপ ৭ সিরিজের মতো ১৪.৬ ইঞ্চির আলাদা স্ক্রিন যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। গাড়ির স্টিয়ারিং হুইলে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক ‘শাই’ প্রযুক্তি, যার বাটনগুলো কেবল প্রয়োজনের সময়ই হ্যাপটিক ফিডব্যাক সেন্সরের মাধ্যমে জ্বলে উঠবে। সিটের জন্য স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে থাকছে সিন্থেটিক লেদার এবং এর সেন্ট্রাল কনসোলে বিএমডব্লিউ-এর সহযোগী ব্র্যান্ড রোলস-রয়েসের স্টাইল থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পাথরের তৈরি সূক্ষ্ম ডিজাইন ব্যবহার করা হয়েছে।

যান্ত্রিক স্পেসিফিকেশনের ক্ষেত্রে diesel চালিত মডেলটিতে ৩.০ লিটার টুইন-টার্বো ইনলাইন-সিক্স ইঞ্জিনের সাথে একটি ১৩ কিলোওয়াটের ইলেকট্রিক মোটর যুক্ত করা হয়েছে, যা ২১০ কিলোওয়াট শক্তি ও ৬৭০ নিউটন-মিটার টর্ক উৎপাদন করে এবং এটি শূন্য থেকে ১০০ কিলোমিটার গতি তুলতে সময় নেয় ৬.১ সেকেন্ড। পেট্রোল চালিত মডেলটিতে থাকছে মাইল্ড-হাইব্রিড প্রযুক্তির ৩.০ লিটার টুইন-টার্বো ইনলাইন-সিক্স ইঞ্জিন, যা ২৯৪ কিলোওয়াট শক্তি ও ৫৪০ নিউটন-মিটার টর্ক সরবরাহ করবে। আংশিক বিদ্যুতায়িত প্লাগ-ইন হাইব্রিড মডেলটি ৩.০ লিটারের পেট্রোল ইঞ্জিনের সাথে ১৪৫ কিলোওয়াটের একটি বৈদ্যুতিক মোটর মিলিয়ে মোট ৩৬০ কিলোওয়াট শক্তি এবং ৭০০ নিউটন-মিটার টর্ক তৈরি করে, যা মাত্র ৫.০ সেকেন্ডে ১০০ কিলোমিটার গতি স্পর্শ করতে পারে এবং শুধু ব্যাটারির শক্তিতেই ৮৬ থেকে ১০২ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম। সবশেষে এই লাইনের মূল আকর্ষণ অল-ইলেকট্রিক মডেলটি ৮০০-ভোল্টের ইলেকট্রিক আর্কিটেকচারে তৈরি, যেখানে বিএমডব্লিউ তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ১৪৪ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি প্যাক ব্যবহার করেছে। এটি ৪২৫ কিলোওয়াট শক্তি এবং ৮০৫ নিউটন-মিটার টর্ক উৎপন্ন করে মাত্র ৪.৬ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ১০০ কিলোমিটার গতি তুলতে পারে এবং ফুল চার্জে সর্বোচ্চ ৮৪৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম।

Previous
Previous

“বৈশ্বিক নকশা” নীতি থেকে সরছে Audi

Next
Next

AI ব্যর্থ, অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের কাজে ফেরাল Ford