আসছে Tesla-র উড়ন্ত Roadster  

ছবিঃ Tesla

নয় বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে দ্বিতীয় প্রজন্মের Roadster-এর নতুন সংস্করণ উন্মোচন করেছে Tesla। তবে ২০১৭ সালে দেখানো গাড়িটির সঙ্গে নতুন মডেলটির বিন্দুমাত্র মিল নেই।

আর হ্যাঁ, নতুন এই গাড়িটি শুধু মাটি আঁকড়ে চলে না।

নতুন Roadster উল্টো হয়ে চলতে পারে, শূন্যে ডিগবাজি খেতে পারে এবং Tesla-এর উৎপাদিত গাড়ির পুরো সারি টপকে লাফ দিতে পারে। দাবি করা হচ্ছে গাড়িটি ২০২৮ সালেই  বাজারে আসবে। তবে এখানে “দাবি করা” শব্দটি গুরত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের Texas অঙ্গরাজ্যের McGregor-এ উন্মোচিত নতুন Roadster-এর বডি সম্পূর্ণ নতুন করে নকশা করা হয়েছে। প্রচলিত Tesla-র বদলে নতুন গাড়িটিকে দেখতে একটি Lotus এবং  Lamborghini-র  সংকর মনে হয়। সুপারকারের অত্যাবশ্যকীয় নাটকীয়তা আনতে এতে যোগ করা হয়েছে চমকপ্রদ  গালউইং দরজাও। তবে আসল চমক লুকিয়ে রয়েছে বডির নিচে।

নতুন গাড়িটির সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো একটি সাকশন ফ্যান। Tesla-এর Engineering বিভাগের Vice President Lars Moravy বলেছেন, Roadster-এর এই ফ্যান সর্বোচ্চ ২G সাকশন তৈরি করতে পারে। এর ফলে গাড়িটি অত্যন্ত বেশি গতিতে বাঁক নিতে এবং অবিশ্বাস্য শক্তিতে গতি বাড়াতে পারবে। প্রদর্শনীর সময় একটি র‍্যাম্পে গাড়িটিকে উল্টো করে চালিয়ে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা দেখানো হয়। উল্টো চলার সময় ফ্যান ব্যবস্থার সাহায্যে গাড়িটিকে পৃষ্ঠের সঙ্গে আটকে রাখা হয়েছিল।

অন্য একটি গাড়ির জন্য এটুকুই অবিশ্বাস্য রকমের কীর্তি হতো। কিন্তু Tesla-র কাছে শুধু  ছাদে আটকে থাকাটা যথেষ্ট উদ্ভট নয়। Roadster-এ আরও রয়েছে কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার। এতে ব্যবহৃত ২৫০ কেজির কম্প্রেসড গ্যাস প্রপেল্যান্ট একটি কার্বন ফাইবার ট্যাংক থেকে ১০টি থ্রাস্টারের মাধ্যমে নির্গত হয়। এই শক্তিশালী নির্গমন ব্যবস্থা গাড়িটিকে অবিশ্বাস্য রকমের গতি ও শক্তি প্রদানের মাধ্যমে উড়তে সাহায্য করে।

Tesla-এর CEO Elon Musk যথারীতি সংযত ভাষায় এই গ্যাস ব্যবস্থাটির বর্ণনা দিয়েছেন: “এটি রকেটের মতো উড়তে পারে। ডিগবাজি দিতে পারে, পাগলাটে সব কসরত করতে পারে, যা চাই, তাই সম্ভব”।

অনুষ্ঠানে Tesla এই দাবিগুলির প্রমাণও করেছে। প্রদর্শনীর আগে Musk সতর্ক করে বলেছিলেন, “প্রসঙ্গত, সাফল্যের নিশ্চয়তা নেই।” অবশ‍্য এরপর তিনি আবার যোগ করেন, “সম্ভবত কাজ করবে।” তবে শেষ পর্যন্ত ওই সতর্কবার্তাটি  অপ্রয়োজনীয় ছিল।

প্রদর্শনীর সময় Roadster থ্রাস্টারের সাহায্যে শূন্যে ডিগবাজি খেয়ে নিরাপদে মাটিতে নেমে এসেছে। এরপর Tesla-র বর্তমানে উৎপাদিত সব মডেলের সারি লাফ দিয়ে পার হয়েছে গাড়িটি। 

 এই প্রদর্শনী যদি চোখ ধাঁধানো মনে হয়, Musk-এর দাবি, উৎপাদন সংস্করণটি এই প্রদর্শিত পারফরম্যান্সকেও ছাড়িয়ে যাবে।

প্রতিষ্ঠানটি দাবি করছে, Roadster-টি শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতিতে পৌঁছাতে ০.৮১ সেকেন্ড বা এক সেকেন্ডেরও কম সময় নেবে। পরীক্ষায় গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি উঠেছে ঘণ্টায় ২৩০ মাইল। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রকৌশলগত লক্ষ্য হলো শব্দের অর্ধেক গতিতে পৌঁছানো, যা শব্দের গতি ঘণ্টায় ৭৬৭ মাইল ধরে হিসাব করলে প্রায় ৩৮৩ মাইল প্রতি ঘণ্টা।

তবে এই পরিসংখ্যানগুলোর সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। Tesla এখনও গাড়িটির চূড়ান্ত দাম, এক চার্জে চলার দূরত্ব কিংবা সড়কে বৈধভাবে চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। সাকশন ফ্যান ও থ্রাস্টার ব্যবস্থা সব সাধারণ সড়কে বৈধ হবে কি না, তাও Musk এড়িয়ে গেছেন। যানজটের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া গাড়ি অনেককেই মুগ্ধ করতে পারে, কিন্তু একসাথে স্থানীয় পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিশাল মাথাব্যথার কারণও হতে পারে।

Roadster-এর তিনটি সংস্করণ থাকবে। Performance হবে প্রাথমিক সংস্করণ, যাতে সাকশন ফ্যান ব্যবস্থাটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু দাবি করা ০.৮১ সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতিতে পৌঁছানোর সক্ষমতা উপভোগ করতে Thrust সংস্করণটি কিনতে হবে। Tesla-র ওয়েবসাইটে এটিকে “সীমিত” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সবার ওপরে আছে Rocket সংস্করণ, যাতে শূন্যে নানা কসরত করার পুরো ১০টি থ্রাস্টার থাকবে। এই সংস্করণটি “শুধু আমন্ত্রণের মাধ্যমে” পাওয়া যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

যেকোনো সংস্করণ বুকিং দিতে ক্রেতাদের ১০ দিনের মধ্যে ৫০,০০০ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা) অগ্রিম জমা দিতে হবে, যা ফেরতযোগ্য। যে গাড়ির চূড়ান্ত স্পেসিফিকেশন, দাম এবং সড়কে বৈধতা এখনও অনিশ্চিত, তার জন্য এটি বেশ বড় অঙ্কের অর্থ। অবশ্য এ ধরনের অনিশ্চয়তা Tesla-র ভক্তদের আগেও দমিয়ে রাখতে পারেনি, এবারও পারবে বলে মনে হয় না।

Musk জানিয়েছেন, উৎপাদন সংস্করণটি ২০২৮ সালে বাজারে আসবে। অবশ্য এই দাবিটি কতটা বিশ্বাসযোগ্য তা অন্য প্রশ্ন, কেননা যখন ২০১৭ সালে দ্বিতীয় প্রজন্মের Roadster প্রথম উন্মোচন করা হয়েছিল, তখন Musk দাবি  করেছিলেন সেই গাড়িটি বাজারে আসবে ২০২০ সালে। অথচ ২০২০ থেকে  পার হয়ে গেছে ছটি বছর। অর্থাৎ এই গাড়িটি নিয়ে কোম্পানির অতীত ইতিহাস বিবেচনা করলে “সত্যিই আসছে” কথাটি খুব একটা আস্থা জাগায় না। Elon Musk-এর ২০২৮ সহজেই ২০৩৮ হয়ে যেতে পারে।

তবু, এই পাগলামির এক আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। Roadster এমন পারফরম্যান্সের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যা মানুষের সীমাকে চ্যালেঞ্জ করবে। এর সর্বোচ্চ গতি শব্দের অর্ধেকের কাছাকাছি, আর এটি করতে প্রয়োজন এমন সব কসরত, যা সাধারণত শুধু কল্পবিজ্ঞানের চলচ্চিত্রেই দেখা যায়। অবশ্য উৎপাদনের প্রকৌশলগত সীমাবদ্ধতা এবং সড়কের আইনকানুনের মুখোমুখি  হলে এসব প্রতিশ্রুতির কতটা টিকে থাকবে, তা এখনও দেখার বিষয়।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সম্ভবত একটাই: Tesla কি সত্যিই প্রদর্শনীতে দেখানো গাড়িটি তৈরি করে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে পারবে? নয় বছর অপেক্ষার পর ক্রেতারা নিশ্চয়ই আরেকটি জাঁকজমকপূর্ণ উপস্থাপনা আর ক্যালেন্ডারে নতুন একটি তারিখের চেয়ে বেশি কিছু পাওয়ার অধিকার রাখেন।

Previous
Previous

শ্রীলংকার বাজেরে যোগ দিল BYD-র ছোট্ট Racco

Next
Next

BMW M: হাইব্রিড ম্যানুয়াল গিয়ার সহজ নয়