BMW M: হাইব্রিড ম্যানুয়াল গিয়ার সহজ নয়
ছবিঃ BMW
BMW M জানে, তাদের ক্রেতারা ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স চান এবং এর জন্য বাড়তি দাম দিতেও রাজি। সমস্যা চাহিদার অভাব নয়; বরং হাইব্রিড প্রযুক্তি।
BMW M-এর CEO Frank van Meel আশ্বস্ত করেছেন, ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন “এখনও বাতিল হয়ে যায়নি”। তবে তিনি আরো যোগ করেন, “আমি কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারছি না।” ফলে ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।
এই চ্যালেঞ্জের একটি বড় অংশ হাইব্রিড প্রযুক্তি। ইঞ্জিনের টর্ক বাড়ানোর পাশাপাশি ৪৮-ভোল্টের মাইল্ড-হাইব্রিড ব্যবস্থা যুক্ত করায় ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সের ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া “সত্যিই কঠিন” হয়ে উঠছে। BMW-এর বর্তমান ছয়-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স সর্বোচ্চ পারফরম্যান্সের সংস্করণগুলোতে ব্যবহৃত S58 টুইন-টার্বোচার্জড ইনলাইন-সিক্স ইঞ্জিনের পূর্ন টর্ক সামলাতে পারে না। এর সাথে যখন একটি বৈদ্যুতিক মোটর, সেটির নিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যার এবং বাড়তি ওজন যুক্ত হয়, তখন ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশনকে বসানোর কাজটি আরও জটিল হয়ে পড়ে।
এর বাইরেও রয়েছে আরেকটি তুলনামূলক কম আলোচিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি সংকট তা হলো যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অভাব। উচ্চ টর্ক সামলাতে সক্ষম ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স তৈরি করে, এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ক্রমাগত কমে আসছে। অন্যদিকে সাধারন বাজারে ম্যানুয়াল গিয়ারের চাহিদা কমে যাওয়ায় সরবরাহকারীদের ওপর BMW M-এর প্রভাবও কমেছে। নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী বিশেষভাবে প্রস্তুত গিয়ারবক্স তৈরিতে আগ্রহী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া এখন বেশ কঠিন।
বিষয়টি হতাশাজনক, কারণ গাড়িপ্রেমীদের মধ্যে ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সের চাহিদা এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী। van Meel-ও তা স্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষায়, “আমরা স্বীকার করি যে এর চাহিদা অনেক বেশি, এবং এটি অত্যন্ত আবেগের সঙ্গে জড়িত একটি বিষয়।”
বিক্রির পরিসংখ্যানও তাঁর বক্তব্যের পক্ষে কথা বলে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন G87 M2-র প্রায় ৫০ শতাংশ ক্রেতা স্বয়ংক্রিয় গিয়ারবক্সের বদলে ছয়-স্পিডের ম্যানুয়াল বেছে নিয়েছেন। যেসব গাড়ি নির্মাতা ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশনকে প্রায় বিলুপ্তপ্রায় প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে, তাদের জন্য এই হার উল্লেখযোগ্য।
বর্তমানে শুধু রিয়ার-হুইল ড্রাইভ M2-তেই ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স পাওয়া যায়। অন্যদিকে, G82 চ্যাসিসের BMW M4 CS-এ রয়েছে কেবল আট-স্পিডের M Steptronic স্বয়ংক্রিয় গিয়ারবক্স।
একই সঙ্গে ম্যানুয়াল প্রেমীদের জন্য BMW ২০২৭ M3 CS Handschalter বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সীমিত সংখ্যায় তৈরি এই রিয়ার-হুইল ড্রাইভ সেডানে থাকবে ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স, যার দাম হবে ১ লাখ ৭ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি, বা ১ কোটি ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে। এত উচ্চ দামের পরও উত্তর আমেরিকায় ডিলারদের জন্য বরাদ্দ করা গাড়িগুলো ইতিমধ্যেই দ্রুত বুক হয়ে গেছে।
এই Handschalter-ই এই প্রজন্মের শেষ ম্যানুয়াল সংস্করণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরবর্তী M3-তে মাইল্ড-হাইব্রিড ইনলাইন-সিক্স ইঞ্জিনের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় গিয়ারবক্স থাকবে। তবে BMW আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করেনি।
তবে সব দোষ বিদ্যুতায়নের ওপর চাপিয়ে দেওয়াটা ঠিক হবে না। এর চেয়ে বড় সমস্যা আধুনিক পারফরম্যান্স গাড়ির লাগামছাড়া হর্সপাওয়ারের দৌড়। শক্তি বাড়লে টর্ক বাড়ে, তাপ উৎপন্ন হয় বেশি এবং ড্রাইভট্রেনের ওপর চাপও বাড়ে। এর সঙ্গে হাইব্রিড যন্ত্রাংশ এবং ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা যুক্ত হবার পর মানুষ দ্বারা চালিত সাধারণ ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স যে পাল্লা দিতে পারবে না, সেটাই তো স্বাভাবিক।
কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, বাড়তি শক্তির কারণে যদি ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, তাহলে পারফরম্যান্স গাড়ির আদৌ এত শক্তি কি প্রয়োজন?
প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার ক্ষেত্রে BMW M সঠিক পথেই রয়েছে। কিন্তু গাড়িপ্রেমীরা যখন এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ম্যানুয়াল গাড়ি কিনছেন, তখন সমাধান কি শুধুই ইঞ্জিনের শক্তি বাড়িয়ে যাওয়া—যতক্ষণ না গিয়ারবক্স সেই শক্তি সামলাতে পুরোপুরি অক্ষম হয়ে পড়ে? হয়তো সময় এসেছে পুরো গাড়িশিল্পের কেবল কাঁচা শক্তির পরিসংখ্যানের পেছনে ছোটার প্রবণতা থেকে একটু সরে এসে নতুন করে ভাবার।
BMW M জানে, তাদের ক্রেতারা ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স চান এবং এর জন্য বাড়তি দাম দিতেও রাজি। সমস্যা চাহিদার অভাব নয়; বরং হাইব্রিড প্রযুক্তি।