চলতে চলতেই চার্জ হবে Honda-র গাড়ি

ছবিঃ Honda

ভাবুন তো, আপনি রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছেন, আর আপনার বৈদ্যুতিক গাড়িটি নিজে থেকেই চার্জ হচ্ছে। Honda এই কল্পনাকেই বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করছে।

Taisei Group-এর সঙ্গে যৌথভাবে Honda এমন একটি ওয়্যারলেস পাওয়ার ট্রান্সফার (WPT) সিস্টেম উন্মোচন করেছে, যার মাধ্যমে চলন্ত অবস্থায় বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ করা সম্ভব হবে। এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হলো প্রথাগত চার্জিং কেবল ও অ্যাডাপ্টারের ব্যবহার কমানো এবং চার্জিং স্টেশনে গাড়ি থামানোর প্রয়োজনীয়তা দূর করা। তত্ত্ব অনুযায়ী, আপনি গাড়ি চালিয়ে যেতে পারবেন, আর রাস্তা নীরবে আপনার গাড়ির ব্যাটারিতে চার্জ যোগ করে যাবে।

এই সিস্টেমে গাড়ির নিচে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রিসিভার ও ট্রান্সমিটার বসানো হবে। Taisei-এর সরবরাহ করা চার্জিং সরঞ্জাম সরাসরি রাস্তার পৃষ্ঠের নিচে স্থাপন করা হবে যা রাস্তার পাশের বৈদ্যুতিক বাক্স থেকে বিদ্যুৎ সংগ্রহ করবে। এই সরঞ্জামযুক্ত সড়কের ওপর দিয়ে যখন কোনো গাড়ি পার হবে, তখন প্রযুক্তিটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় তারবিহীনভাবে (ওয়্যারলেস) গাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। 

Honda-র প্রথম লক্ষ্য বড় বাণিজ্যিক যানবাহনকে অগ্রাধিকার দেওয়া। ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহনকে দীর্ঘ সময় ও দীর্ঘ দূরত্ব জুড়ে রাস্তায় চলতে হয়। তাই চার্জ দেওয়ার জন্য বারবার বিরতির  প্রয়োজনীয়তা  কমানো গেলে এসব বাণিজ্যিক যানবাহন পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাস্তব ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যাবে।

Taisei-এর সঙ্গে মিলে বিশেষভাবে তৈরি একটি পরীক্ষামূলক রাস্তার নির্মাণকাজ চলতি বছরের শেষ দিকে শুরু হওয়ার কথা। পরীক্ষায় রাস্তার পৃষ্ঠের শক্তি ও স্থায়িত্বের পাশাপাশি এর ভেতরে বসানো চার্জিং সরঞ্জামগুলোর কার্যকারিতাও যাচাই করা হবে। ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষমতা বাড়ানো হবে। শেষ পর্যন্ত সিস্টেমটি সর্বোচ্চ 150 kW পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে বলে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত সড়কে পরীক্ষা শেষ হলে ২০২৭ সাল থেকে জাপানের সরকারি রাস্তায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে Honda-র।

এই প্রযুক্তির উদ্দেশ্য প্রচলিত চার্জিং ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে দেওয়া নয়। বাড়ির চার্জার ও পাবলিক চার্জিং স্টেশনগুলোর প্রয়োজন থাকবেই। তবে চলন্ত অবস্থায় চার্জ দেওয়া সম্ভব হলে গাড়িগুলোকে চার্জের জন্য কতবার থামতে হবে, তা কমে আসতে পারে। একই সঙ্গে ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জন এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর Honda-র বৃহত্তর লক্ষ্যের সঙ্গেও এই উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বাজারে আসতে থাকা ক্রমেই শক্তিশালী স্থির চার্জিং ব্যবস্থাগুলোর তুলনায় Honda-র পদ্ধতিটি বেশ আলাদা। উদাহরণ হিসেবে BYD-এর Flash Charging-এর কথা বলা যায়। এটি সর্বোচ্চ 1,500 kW ক্ষমতায় চার্জ দিতে পারে এবং মাত্র নয় মিনিটে ব্যাটারির চার্জ ১০ থেকে ৯৭ শতাংশে উন্নীত করার দাবি করে। চার্জিং স্টেশনে অপেক্ষার সময় কমানোর বদলে Honda চাইছে, কিছু ক্ষেত্রে যেন থামার প্রয়োজনই না হয়।

Honda অবশ্য এই ধারণা নিয়ে কাজ করা প্রথম প্রতিষ্ঠান নয়। Stellantis ২০২১ সালে রাস্তার ভেতর দিয়ে তারবিহীন চার্জিং প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করেছে। ২০২৩ সালে ইসরায়েলের একটি স্টার্টআপও এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছে। Hyundai-ও তারবিহীন চার্জিংয়ের সুবিধাযুক্ত রাস্তা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ধারণাটি বাস্তবে কাজ করে প্রমাণ করার চেয়ে দৈনন্দিন ব্যবহারের উপযোগী, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।

এ নিয়ে কিছু স্বাভাবিক প্রশ্নও রয়েছে। চার্জিং সরঞ্জামযুক্ত রাস্তা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে বিপুল অর্থ ব্যয় হবে। তা ছাড়া, এই ব্যবস্থা থেকে সুবিধা পেতে হলে গাড়িতে উপযুক্ত হার্ডওয়্যার থাকতে হবে। প্রযুক্তিটি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সড়ক নেটওয়ার্কের কতটুকু অংশে এটি স্থাপন করা সম্ভব, তার ওপরও। অনেক জায়গায় পুরো রাস্তা বিশাল তারবিহীন চার্জারে পরিণত করার চেয়ে আরও বেশি চার্জিং স্টেশন নির্মাণ করাই সহজ হতে পারে।

চার্জিংয়ের গতি যেভাবে বাড়ছে, তাতে Honda-র এই ধারণা ভবিষ্যতে কম প্রয়োজনীয়ও হয়ে পড়তে পারে। কোনও গাড়ি যদি অল্প সময়ের বিরতিতেই ব্যাটারির বেশিরভাগ চার্জ ফিরিয়ে আনতে পারে, তাহলে ব্যয়বহুল চার্জিং রাস্তা তৈরিতে বিনিয়োগ করারই বা কী দরকার?

তারপরও, ধারণাটি যে রোমাঞ্চকর, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। বিশ্বের অধিকাংশ জায়গায় এটি বাস্তবসম্মত হয়ে উঠবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এমনকি ব্যাপক ব্যবহারে পৌঁছানোর আগেই আরও উন্নত চার্জিং প্রযুক্তি একে অপ্রয়োজনীয় করে দিতে পারে। কিন্তু গাড়ি চালাতে চালাতেই রাস্তা থেকে চার্জ পাওয়ার ধারণাটি নিঃসন্দেহে দারুণ!

Previous
Previous

চীন ছাড়ছে Nissan-এর বিদ্যুতায়িত পিকআপ

Next
Next

Ghostbusters-এর ডাকে সাড়া দিল Rivian