ইউরোপের বাজার নিয়ে Ford সিইও-র সতর্কবাণী

ছবিঃ Ford সিইও Jim Farley

চীন থেকে আসা বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) জোয়ার থেকে নিজেদের অটোমোবাইল শিল্পকে রক্ষা করার সুযোগ ইউরোপের কাছ থেকে হাতছাড়া হয়ে গেছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন Ford-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) Jim Farley।

Detroit-এ অনুষ্ঠিত 'Automotive News Congress'-এ দেওয়া বক্তব্যে Farley সতর্ক করে বলেন, ইউরোপ যে ভুল করেছে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমেরিকাকে আরও হিসাব-নিকাশ করে ও সতর্কতার সাথে এগোতে হবে; যাতে একই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে না হয়। CNBC-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতিতে ইউরোপের মতো তাড়াহুড়ো করে চীনা গাড়ি নির্মাতাদের জন্য দরজা খুলে না দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

ছবিঃ BYD

সম্প্রতি আগ্রাসী মূল্যছাড় ও দীর্ঘ পরিসরের ড্রাইভিং রেঞ্জের বদৌলতে বিশ্বজুড়ে চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির বাজার প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। Farley উল্লেখ করেন, বর্তমানে ইউরোপের নতুন গাড়ির বাজারের প্রায় ১২ শতাংশ এবং Mexico-র বাজারে প্রায় ২৫ শতাংশ দখল করে নিয়েছে চীনা মডেলগুলো।

ব্যবসায়িক হুমকির পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা তুলে ধরে Autoblog-কে দেওয়া বক্তব্যে Farley বলেন, আমেরিকান রাস্তায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে চাইনিজ স্মার্ট নেটওয়ার্ক সংযুক্ত (connected) গাড়ি চলাচলের সুযোগ দিলে মারাত্মক গোয়েন্দা তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, কারণ আধুনিক আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর এসব গাড়ি "সবকিছুর ভিডিও ধারণ করতে সক্ষম।"

তবে Washington-কে কঠোর শুল্ক ও বাণিজ্য প্রাচীর বজায় রাখার পরামর্শ দিলেও, Ford নিজে কিন্তু একটি দ্বিমুখী কৌশল অবলম্বন করছে। বৈশ্বিক বাজারে একলা না চলে তারা চীনা প্রযুক্তির সাথে হাত মিলিয়েছে। যেমন—ব্যাটারি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান CATL-এর সাথে কাজ করার পাশাপাশি Spain-এ যৌথভাবে গাড়ি তৈরির জন্য Geely-র সাথে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে Ford। Farley-র মতে, নিজ দেশে তীব্র প্রতিযোগিতা ধরে রাখার পাশাপাশি ইউরোপ বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো আন্তর্জাতিক বাজারে চীনা দক্ষতা ও পুঁজি ব্যবহার করাই Ford-এর বাস্তবসম্মত কৌশল।

Washington-এর প্রশাসনিক ও নীতিগত পরিবর্তনের মধ্যেই শীর্ষ এ কর্মকর্তার এই মন্তব্য এল। নীতিগতভাবে চীনা কোম্পানিগুলোর সাথে প্রযুক্তি বা উৎপাদনের আদান-প্রদান নিয়ে রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক বজায় থাকলেও, ইউরোপের মতো নিজেদের বাজার হাতছাড়া করতে রাজি নয় Ford।

ছবিঃ Ford

ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রকরা ইতিমধ্যে তাদের ঘরোয়া বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে—এমনটা ধরে নিয়েই হয়তো মার্কিন শুল্ক প্রাচীরের সুরক্ষায় বাজিমাত করতে চাইছেন Jim Farley। তবে ইতিহাস বলে, বাণিজ্য প্রাচীরের আড়ালে মুখ লুকিয়ে কোনো দিন বৈশ্বিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদী সমকক্ষতা অর্জন করা যায় না; এতে সংরক্ষিত গাড়ি নির্মাতাদের অগ্রগতি স্থবির হয়ে পড়ে, আর অন্য দেশে প্রতিযোগীরা আরও সাশ্রয়ী ও উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে ফেলে।

চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে উৎপাদনের দক্ষতা অর্জন করা হয়তো একটি বুদ্ধিমানের কৌশল, তবে আমেরিকান আত্মমর্যাদা আর রাজনৈতিক অচলাবস্থা ভেঙে Ford শেষ পর্যন্ত এই কৌশল কতটা বাস্তবায়িত করতে পারবে—তা-ই এখন দেখার বিষয়

Previous
Previous

জাপান ছাড়ছে Toyota-র Century

Next
Next

রহস্যময় গাড়ির নাম ঘোষণা Alfa Romeo-র