জাপান ছাড়ছে Toyota-র Century
ছবিঃ Toyota
উচ্চাভিলাষী এক পরিকল্পনায় নিজেদের আল্ট্রা-লাক্সারি ব্র্যান্ড Century-কে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেবার প্রস্তুতি নিচ্ছে Toyota।
RAV4 বা Camry-র মতো মূলধারার গাড়ির ওপরে প্রিমিয়াম ক্যাটাগরিতে এতদিন Lexus অবস্থান করলেও, Century-কে নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশল বেছে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বের সবচেয়ে অভিজাত লাক্সারি ব্র্যান্ডগুলোর সাথে সরাসরি টেক্কা দিতেই Century-কে মাঠে নামানো হচ্ছে, যাতে Lexus-কে আর আকাশচুম্বী দামের বাজারে খাপ খাইয়ে নিতে না হয় এবং তারা স্বতন্ত্র বিলাসবহুল পরিচয়েই মনোযোগ দিতে পারে।
১৯৬৭ সালে প্রথম বাজারে আসা Century কয়েক দশক ধরে Japan-এর রাজনীতি ও করপোরেট সাম্রাজ্যের শীর্ষ প্রতীক হিসেবে রাজত্ব করেছে। সীমিত সংখ্যায় তৈরি এই লিমুজিন কেবল দেশটির রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজপরিবার, প্রধানমন্ত্রী এবং শীর্ষ করপোরেট প্রধান নির্বাহীদের জন্যই সংরক্ষিত ছিল। অতীতে এটি কিনতে সরাসরি Toyota-র কাছে আনুষ্ঠানিক ক্রয়ের আবেদন পাঠাতে হতো। তবে ২০২৩ সালে Century SUV উন্মোচনের মধ্য দিয়ে সেই বহু বছরের ঐতিহ্যে পরিবর্তন আনে Toyota; একই সাথে একে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও পৃথক একটি ব্র্যান্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করায় তারা।
বিশ্ববাজারে ব্র্যাণ্ডটির এই বৈশ্বিক যাত্রার অংশ হিসেবে সম্প্রতি Detroit-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে Century SUV চালিয়ে উপস্থিত হন Toyota-র চেয়ারম্যান Akio Toyoda—যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গাড়িটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি করা শুরু হয়নি। Bloomberg-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক কৌশলের অংশ হিসেবে বর্ণনা করে প্রতিষ্ঠানটির চিফ টেকনোলজি অফিসার Hiroki Nakajima জানান, তারা Century-র নতুন সংস্করণটি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে চান এবং Detroit-এর অটোমোবাইল খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতামত নিতে আগ্রহী।
V6 ইঞ্জিনচালিত Century SUV বর্তমানে China-তে বিক্রি হচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার কিছু সীমিত পরিসরে রপ্তানি করা হচ্ছে, এমনকি বাংলাদেশেও এসে পৌঁছেছে একটি মডেল। অন্যদিকে প্রথাগত V8 Century সেডানটি এখনও জাপানি স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। তবে গেল বছর উঁচু রাইডের একটি স্পোর্টি Century কুপ কনসেপ্ট প্রদর্শন করে নিজেদের নকশায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে ব্র্যান্ডটি।
ভবিষ্যৎ Century মডেলগুলো যে কেবল ইলেকট্রিক হবে না, তা নিশ্চিত করেছে Toyota। গুঞ্জন রয়েছে, তাদের নতুন এই কুপ কনসেপ্টে ঐতিহ্যবাহী V12 ইঞ্জিনের প্রত্যাবর্তন ঘটতে পারে—যা দ্বিতীয় প্রজন্মের Century সেডানের পর Toyota-র ইতিহাসে আর কোনো গাড়িতে দেখা যায়নি।
এই করপোরেট কাঠামোগত পরিবর্তনের মূল কারিগর স্বয়ং চেয়ারম্যান Akio Toyoda। ২০২৩ সালের ‘Japan Mobility Show’-তে সাধারণ যাত্রীবাহী গাড়ির পাশে Century সেডান ও SUV প্রদর্শিত হতে দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন তিনি, যা পরবর্তীতে Century-কে স্বাধীন ও অনন্য ফ্ল্যাগশিপ ব্র্যান্ড হিসেবে আলাদা করার পথ সুগম করে।
জাপানি সূক্ষ্ম কারুকার্য ও সংযত নকশাকে পুঁজি করে Rolls-Royce, Bentley এবং Mercedes-Maybach-এর মতো বিশ্বসেরা রাজকীয় ব্র্যান্ডগুলোর মুখোমুখি হতে চায় Toyota। তবে দীর্ঘদিন ধরে জাপানি অভ্যন্তরীণ বাজারে একচেটিয়াভাবে সংরক্ষিত একটি ব্র্যান্ড ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলোর ভিড়ে বিশ্ববাজারে নিজের জায়গা কতটা করে নিতে পারবে—তা-ই এখন দেখার বিষয়।
গত বছরই আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করার পর এবার বড় ধরনের বিনিয়োগের ইঙ্গিত দিল জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Toyota।