ANCAP পরীক্ষায় তিন তারকা পেল Sealion 5

ছবিঃ ANCAP

নিরাপত্তা মূল্যায়নে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ মান ধরে রাখার রেকর্ডে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ধাক্কা পেয়েছে হোঁচট খেল চীনা অটোমেকার BYD।

তাদের প্লাগ-ইন হাইব্রিড এসইউভি Sealion 5 অস্ট্রেলিয়ার ক্র্যাশ টেস্ট সংস্থা Australasian New Car Assessment Program (ANCAP)-এর মূল্যায়নে মাত্র তিন তারকা (3 Stars) পেয়েছে। দেশটিতে বিক্রি হওয়া গাড়িটির ‘Essential’ এবং ‘Premium’—উভয় ভ্যারিয়েন্টেই এই রেটিং প্রযোজ্য হবে।

এই রায়ের ফলে অস্ট্রেলিয়ায় BYD-এর লাইনআপে Sealion 5-ই এখন একমাত্র গাড়ি, যার ঝুলিতে পাঁচ তারকা নিরাপত্তা সনদ নেই। এমনকি তাদের সবচেয়ে কমদামী এন্ট্রি-লেভেল মডেল Atto 1—যার ড্রাইভ-অ্যাওয়ে প্রারম্ভিক মূল্য ছিল ১৯,৯৯০ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা)—তা-ও পূর্বে পাঁচ তারকা পেয়েছিল।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, BYD নিজ থেকে Sealion 5 মডেলটিকে পরীক্ষার জন্য জমা দেয়নি; বরং সংস্থাটি তাদের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবে গাড়িটিকে পরীক্ষার জন্য স্বাধীনভাবে বেছে নেয়।

ফলাফল প্রকাশের পর ANCAP-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা Carla Hoorweg এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, "BYD সাধারণত নিজ উদ্যোগে মডেলগুলো পরীক্ষার জন্য নিয়ে আসে। তবে Sealion 5-এর ক্ষেত্রে তারা সক্রিয় উদ্যোগ নেয়নি। ফলে গ্রাহকদের নিরাপত্তার স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরতেই ANCAP নিজ থেকে গাড়িটি বেছে নিয়েছিল।" তিনি আরও যোগ করেন, তাদের সর্বশেষ ২০২৬–২০২৮ রেটিং নীতিমালা অনুযায়ী Sealion 5 ও M9 উভয় মডেলের পরীক্ষা করা হয়েছে। যেখানে একই নিয়মে বড় মডেল BYD M9 PHEV পূর্ণ পাঁচ তারকা (পোস্ট ক্র্যাশে ১০০%, ক্র্যাশ প্রোটেকশনে ৮৯%, ক্র্যাশ অ্যাভয়ড্যান্সে ৭৮% এবং সেফ ড্রাইভিংয়ে ৭৫%) নিশ্চিত করেছে, সেখানে Sealion 5 তার সহোদরের মানের সাথে তাল মেলাতে পারেনি।

এ বিষয়ে BYD Australia সংবাদমাধ্যম CarExpert-কে জানায়, "Sealion 5 সম্পূর্ণ নিরাপদ গাড়ি এবং এটি অস্ট্রেলিয়ার সমস্ত ডিজাইন নিয়ম ও আইনি মানদণ্ড মেনেই তৈরি। ANCAP ২০২৬ সালে তাদের মূল্যায়নের মান কঠোর করেছে, যা গাড়িটির বৈশ্বিক উন্মোচনের সময় কার্যকর থাকা ২০২৩–২০২৫ নিয়মের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর। বর্তমান রেটিং মূলত এই পরিবর্তিত মানদণ্ডকেই প্রতিফলিত করে, নিরাপত্তার প্রশ্নে BYD-র প্রতিশ্রুতির কোন ঘাটতি নয়। ANCAP-এর পরীক্ষায় আমাদের বাকি সব গাড়িই পাঁচ তারকা পেয়েছে, যা আমাদের এই অঙ্গীকারেরই প্রমাণ দেয়।”

প্রযুক্তিগত মূল্যায়নে গাড়িটির অ্যাক্টিভ ও প্যাসিভ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশ কিছু ঘাটতি ধরা পড়েছে। এটি ক্র্যাশ অ্যাভয়ড্যান্সে ৫১ শতাংশ এবং সেফ ড্রাইভিংয়ে মাত্র ৪৮ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। পরীক্ষার সময় গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে গাড়িটির 'ইমার্জেন্সি লেন-কিপিং সিস্টেম' কাজ করতে ব্যর্থ হয়। অথচ প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় আকস্মিক লেন পরিবর্তনের কারণে ৫২ থেকে ৫৫ শতাংশ প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এছাড়া গাড়িটিতে চাইল্ড প্রেজেন্স ডিটেকশন, সিটবেল্ট মিসইউজ অ্যালার্ট, জরুরি উদ্ধারকাজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগাযোগের ‘ই-কল’ সিস্টেম এবং ভুল করে অ্যাক্সিলারেটর চেপে দেওয়া রোধে ‘পেডাল-মিসঅ্যাপ্লিকেশন প্রটেকশন’-এর মতো আধুনিক সুবিধাগুলোর অনুপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।

এই নিরাপত্তা মূল্যায়ন বাংলাদেশের বাজারেও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশেও Sealion 5 বাজারজাত শুরু করেছে BYD। এখানে গাড়িটির প্রারম্ভিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা, যা পরবর্তীতে কমিয়ে ৪৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা করা হয়। গত মার্চে উন্মোচনের প্রথম দিনেই অগ্রিম বুকিং করা ২৫টি গাড়ি গ্রাহকদের বুঝিয়ে দিয়ে বাজারে বেশ সাড়া ফেলেছিল ক্রসওভারটি।

উল্লেখ্য, স্থানীয় বাজারে থাকা অনেক পুরনো রিকন্ডিশন্ড জাপানি গাড়ির তুলনায় Sealion 5-এর আধুনিক কাঠামোগত সুরক্ষা অনেক বেশি। তবে বলা বাহুল্য, ব্র্যান্ডটির নিখুঁত নিরাপত্তা রেকর্ডে এই তিন তারকার রেটিং একটি দুঃখজনক দাগ ফেলল।

Previous
Previous

V10 সমালোচনা পাত্তা দিচ্ছে না Lamborghini

Next
Next

চীনা গাড়ি রিব্যাজিং বাড়াচ্ছে Mazda