V10 সমালোচনা পাত্তা দিচ্ছে না Lamborghini

ছবিঃ Lamborghini

আইকনিক V10 ইঞ্জিন বাদ দেওয়ায় গাড়িপ্রেমীরা যে হাহাকার করবেন, তা আগে থেকেই জানত ইতালীয় সুপারকার নির্মাতা Lamborghini। তবে এসব অভিযোগকে স্রেফ নস্টালজিয়া হিসেবে উড়িয়ে দিচ্ছে তারা।

বিদায় নেওয়া Audi R8-এর সাথে যৌথভাবে ব্যবহার করা দশ সিলিন্ডারের সেই বিখ্যাত ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড 5.2-liter পাওয়ারট্রেনকে অবসরে পাঠিয়ে Huracán-এর উত্তরসূরি Temerario-তে ছোট আকারের টুইন-টার্বোচার্জড প্লাগ-ইন হাইব্রিড V8 বসিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কর্তৃপক্ষের ভাষ‍্য অনুযায়ী এই পরিবর্তন ছিলো যুগোপযোগী, আর বাজারও এটিকে সানন্দে লুফে নিয়েছে।

Milan-এ সংবাদমাধ্যম CarExpert-এর সাথে আলাপকালে Temerario-র প্রোডাক্ট লাইন ডিরেক্টর Paolo Racchetti ব্র্যান্ডের ট্রেডমার্ক ইঞ্জিনের গর্জন বিদায় নেওয়ার মানসিক ধাক্কার বিষয়টি অকপটে মেনে নেন। তিনি বলেন, “আমরা কিছু সমালোচনা তো প্রত্যাশাই করছিলাম। আসলে এটাকে সমালোচনা বলব না, কিছুটা নস্টালজিক অনুভূতি। কারণ আমরা জানতাম যে সত‍্যিই মূল্যবান কিছু আমরা পেছনে ফেলে এসেছি। ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড V10 ছিল Huracán-এর মূল সম্পদ; মূলত এই ইঞ্জিনটাই পুরো গাড়িটার পরিচয় ফুটিয়ে তুলত, বিশেষ করে এর গর্জন বা আওয়াজটাই ছিল গাড়ির আসল প্রাণ।"

এই বদল ব্র্যান্ডটির এন্ট্রি-লেভেল সুপারকারের মৌলিক যান্ত্রিক ও ধ্বনিগত পরিচয়কেই আমূল বদলে দিয়েছে। Huracán যেখানে তার V10 ইঞ্জিনের সুরেলা চিৎকারের জন্য কিংবদন্তির মর্যাদা পেয়েছিল, সেখানে Temerario-তে যুক্ত হয়েছে ফ্ল্যাট-প্লেন ক্র্যাঙ্কশ্যাফ্টসহ একটি 4.0-liter জোড়া-টার্বোর V8 এবং তিনটি বৈদ্যুতিক মোটর, যা চোখ কপালে তোলা ১০,২৫০ আরপিএম পর্যন্ত ঘুরতে পারে। Racchetti-র মতে, এই নতুন শব্দের চরিত্র আগের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষুরধার এবং ‘রক-অ্যান্ড-রোল’। ৭,০০০ আরপিএম-এর নিচে থাকলে এটি একদম শান্ত ও ভদ্র গ্র্যান্ড ট্যুরারের মতো আচরণ করে, আর কাঁটা পাঁচ অঙ্কের ঘরে ছুঁতেই এটি রূপ নেয় এক উন্মাদ দানবে। জানা গেছে, Audi-র আসন্ন সীমিত সংস্করণের ‘Nuvolari’ প্রজেক্টেও এই একই পাওয়ারট্রেন ব্যবহার করা হবে।

মূলত সরকারি ও বৈশ্বিক কড়া নির্গমন বিধিমালার চাপেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বজুড়ে কঠোর হতে থাকা পরিবেশ ও শব্দদূষণ নীতিমালার কারণে বড় আকারের ফ্রি-ব্রিদিং দশ সিলিন্ডারের ইঞ্জিন টিকিয়ে রাখা ব্যবসায়িকভাবে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। ফলে টিকে থাকার স্বার্থেই হাইব্রিডের সাহায্য নিচ্ছে সবাই; কেবল Revuelto-র মতো হাতে গোনা কয়েকটি ফ্ল্যাগশিপ হাইব্রিড V12-এর ভরসায় এখনো বারোটি সিলিন্ডার সচল রাখতে পেরেছে।

ইন্টারনেট জুড়ে কট্টর গাড়িপ্রেমীরা যত হাহুতাশই করুক না কেন, হিসাবের খাতা কিন্তু অন্য কথাই বলছে। বাজারে আসার আগেই Temerario-র আগামী এক বছরের পুরো কোটা অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে। ক্রেতাদের এই বিপুল সাড়া Sant’Agata Bolognese-এর ব্যবসায়িক কৌশলকেই সঠিক প্রমাণ করেছে।

এমনকি তাদের আসন্ন 2+2 গ্র্যান্ড ট্যুরারটিও—যা শুরুতে অল-ইলেকট্রিক বানানোর কথা ছিল—বাজার গবেষণায় ক্রেতাদের "প্রায় শূন্য" আগ্রহ দেখে শেষ পর্যন্ত গ্যাসোলিন ইঞ্জিনেই রাখা হচ্ছে। Lamborghini-র প্রধান নির্বাহী Stephan Winkelmann তো ইলেকট্রিক সুপারকার বানানোর শখকে সরাসরি একটি "ব্যয়বহুল বিলাসিতা" বলেই উড়িয়ে দিয়েছেন।

এই মানসিকতা মূলত সুপারকার দুনিয়ায় ভারী ও আত্মাহীন ব্যাটারি থেকে পিছিয়ে আসারই এক বাস্তব চিত্র। গ্রাহকের অভাবে Pagani তাদের ইলেকট্রিক প্রজেক্ট বাতিল করেছে, বহু কোটি ডলারের হাইপারকার বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছে Rimac, আর Bugatti থেকে Porsche—সবাই এখন কম্বাশন ইঞ্জিনের শিকড়েই মুখ গুঁজেছে।

বাজার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিয়েছে—পরিবেশের কড়া আইনের চাপে ইঞ্জিন থেকে দুটো সিলিন্ডার খোয়া যাওয়া ধনী ক্রেতারা হয়তো ক্ষমা করবেন, কিন্তু গাড়ি থেকে আসল কম্বাশন ইঞ্জিনটাই পুরোপুরি উপড়ে ফেলার মতো পরীক্ষায় তাদের কেউই পয়সা ঢালতে রাজি নন।

Previous
Previous

৬৮ কোটি টাকায় বিক্রি হলো Bugatti Veyron

Next
Next

ANCAP পরীক্ষায় তিন তারকা পেল Sealion 5