চীনা গাড়ি রিব্যাজিং বাড়াচ্ছে Mazda

ছবিঃ Mazda

বিশ্বজুড়ে কঠোর হতে থাকা কার্বন নিঃসরণ নীতিমালার চাপ সামলাতে চীনা অংশীদারদের কাঁধে ভর করে এক সুবিধাজনক সহজ পথ বেছে নিয়েছে জাপানি অটোমেকার Mazda।

চীনে তৈরি 6e লিফটব্যাক এবং CX-6e স্পোর্ট ইউটিলিটি ভেহিকল (SUV) বাজারে আনার পর, এবার ব্যাটারি-ইলেকট্রিক মডেলের সংখ্যা আরও বাড়াতে চীনা অংশীদার Changan-এর সাথে সক্রিয় আলোচনা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

সংবাদমাধ্যম GoAuto-র সাথে আলাপকালে Mazda Australia-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর Vinesh Bhindi এই অংশীদারত্ব আরও গভীর করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এখানে আর কী কী সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে আমরা কথা বলতে শুরু করেছি।”

নেপথ্যে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ব্যাটারি-ইলেকট্রিক প্রযুক্তির উন্নয়ন কাজ চলতে থাকলেও, অন্তর্বর্তীকালীন এই সময়ে তারা ইভির জন্যChangan-এর ওপরই পুরোপুরি নির্ভর করবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি একবাক্যে উত্তর দেন, “অবশ্যই।”

অন্যের তৈরি গাড়িতে কেবল নিজেদের লোগো বসিয়ে দেওয়া বা ব্র্যান্ডের মান ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগের জবাবে Bhindi দাবি করেন, Hiroshima-র প্রকৌশলীরা গাড়িগুলোর উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তার দাবি, চীনে নির্মিত মডেলগুলো যেন স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ধরে রাখে, তা নিশ্চিত করতে তারা প্রচুর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই আন্তঃসীমান্ত চুক্তির অধীনে গাড়িগুলো তৈরি হয় যৌথ মালিকানাধীন Nanjing অ্যাসেম্বলি কারখানায়। চীনা হার্ডওয়্যারের ওপর নিজেদের উড়ন্ত ‘M’ ব্যাজ সেঁটে দেওয়া সাধারণ কোনো গাড়ি যাতে মনে না হয়, সে জন্য Mazda-র ইউরোপীয় ইঞ্জিনিয়ারিং টিম চ্যাসিস টিউনিং, স্টিয়ারিং ক্যালিব্রেশন এবং সাসপেনশন ডাইনামিক্সের কাজ পরিচালনা করে; যার মূল উদ্দেশ্য হলো চীনা মেকানিক্সে ব্র্যান্ডটির ট্রেডমার্ক ‘Zoom-Zoom’ চরিত্র ফুটিয়ে তোলা। কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৈশ্বিক রপ্তানি অভিযানের অংশ হিসেবে ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে Changan-এর প্রযুক্তিতে তৈরি আরও দুটি নতুন মডেল বাজারে আসার কথা রয়েছে।

মূলত কঠোর সরকারি বিধিনিষেধের চাপে পড়েই আউটসোর্সিংয়ের এই পথ বেছে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে ইউরোপে কঠোর নির্গমন জরিমানার মুখে পড়ে গাড়িপ্রেমীদের অত্যন্ত প্রিয় MX-5 Miata-র 2.0-liter ইঞ্জিন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে তারা। এমনকি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে এই রোডস্টারটিকেও হয়তো শেষ পর্যন্ত বিদ্যুতায়নের কাছে মাথা নত করতে হবে। Changan-কে দিয়ে পারিবারিক বৈদ্যুতিক গাড়ি বানানোর মাধ্যমে একদিকে যেমন বড় অঙ্কের জরিমানা এড়ানো যাচ্ছে, অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী গ্যাসোলিন ও হাইব্রিড ইঞ্জিন বাঁচিয়ে রাখার মূল্যবান পুঁজিও রক্ষা পাচ্ছে।

এই কৌশলগত হাঁফ ছাড়ার সুযোগটি Mazda-র জন্য ভীষণ জরুরি, কারণ তাদের নিজস্ব বৈদ্যুতিক গাড়ির উদ্যোগ শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়েছিল। ব্র্যান্ডটির একমাত্র নিজস্ব ব্যাটারি-ইলেকট্রিক গাড়ি MX-30 শো-রুমগুলোতে চরম ব্যর্থতার মুখে পড়েছিল এর হাস্যকর রকমের ড্রাইভিং রেঞ্জের কারণে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রকৌশলীরা পরে ব্যাটারির সাথে একটি রোটারি রেঞ্জ-এক্সটেন্ডার যোগ করেন, যা কেবল ব্যাটারি চার্জ করত।

তাৎক্ষণিক এই ব্যর্থতা মেনে নিয়ে Mazda তাদের পরবর্তী নিজস্ব ইলেকট্রিক প্ল্যাটফর্ম পিছিয়ে ২০২৯ সালে নিয়ে গেছে এবং অভ্যন্তরীণ ইভি গবেষণা খাতের বাজেট প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। বাঁচিয়ে নেওয়া এই অর্থ সরাসরি ঢালা হচ্ছে আসন্ন Skyactiv-Z গ্যাসোলিন ইঞ্জিনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হাইব্রিড পাওয়ারট্রেনে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, চীনা কারখানার উপর করপোরেট পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে Hiroshima-র রোটারি-পাগল প্রকৌশলীরা মূলত সময় কিনে নিচ্ছেন—যাতে তারা তাদের আসল ভালোবাসার জ্বালানি ইঞ্জিনসহ গাড়িগুলো আরও কিছুদিন স্বাচ্ছন্দ্যে বানিয়ে যেতে পারেন।

Previous
Previous

ANCAP পরীক্ষায় তিন তারকা পেল Sealion 5

Next
Next

জার্মানিতে কারখানা বন্ধের ঝুঁকিতে Mercedes