Honda NSX-এর পুনজন্ম হল Tensei রূপে

ছবিঃ JAS Motorsport

দ্বিতীয় প্রজন্মের Honda NSX কখনোই তার কিংবদন্তিতুল্য পূর্বসূরির মতো গাড়িপ্রেমীদের মন জয় করতে পারেনি।  প্রথম প্রজন্মের মধ্যে এমন এক জাদু ছিল, যা আবার ফিরিয়ে আনা কঠিন। মূল মডেলের সেই চিরচেনা জাদু ফিরিয়ে আনতেই একেবারে গোড়া থেকে কাজ শুরু করেছে JAS Motorsport।

পরিচিত হোন Tensei-এর সঙ্গে। জাপানি ভাষায় যার অর্থ ‘পুনর্জন্ম’। এটি আসল Honda NSX-এর একটি স্বতন্ত্র পুনর্নির্মাণ, যা JAS Motorsport তৈরি করেছে Pininfarina-র সঙ্গে মিলে। এই প্রকল্পে Honda সরাসরি জড়িত নয়। বরং মোটরস্পোর্টসের প্রকৌশলবিদ্যা আর জাপানের অন্যতম বিখ্যাত স্পোর্টস কার একসঙ্গে মিলে কী তৈরি করতে পারে, তা দেখার একটি সুবর্ণ সুযোগ।

মাত্র ৩৫টি গাড়ি তৈরি করা হবে । আর প্রতিটি ক্রেতাকেই নিজের একটি পুরোনো NSX সরবরাহ করতে হবে, যেটিকে ভিত্তি করে নতুন গাড়িটি প্রস্তুত  করা হবে। প্রকৌশলীরা হাত লাগানোর আগেই এই শর্ত Tensei-কে এক্সক্লুসিভ করে তুলেছে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে বনেটের নিচে। Tensei-তে Honda-র C30A ইঞ্জিন ব্লকটি রাখা হয়েছে, তবে এর চারপাশের পার্টসগুলোর সুপরিচিত ব্রিটিশ ইঞ্জিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Judd Power গোড়া থেকে পুননির্মাণ করেছে।  ইঞ্জিনের ডিসপ্লেসমেন্ট বেড়ে হয়েছে 3.5 লিটার। এতে রয়েছে নতুন ক্র্যাঙ্কশ্যাফট, হালকা অ্যালয় সিলিন্ডার হেড এবং টাইটানিয়াম ভালভ। মূল ইঞ্জিনের VTEC সিস্টেমটিও বাদ দিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে স্থির ভালভ টাইমিং। অর্থাৎ, Honda-র পরিবর্তনশীল ভালভ প্রযুক্তির বদলে পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে ভিন্ন পদ্ধতি।

ফলাফল, 8,300 rpm-এ 414 horsepower শক্তি এবং 5,500 rpm-এ 305 pound-feet টর্ক। ইঞ্জিনটির রেডলাইন 8,500 rpm-এ, তাই এটিকে চড়া আরপিএমে চালানোর যথেষ্ট কারণ এখনও রয়েছে। ছয় স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স, কার্বন টুইন-ডিস্ক ক্লাচ এবং Torsen লিমিটেড-স্লিপ ডিফারেনশিয়ালের মাধ্যমে পেছনের চাকায় শক্তি পৌঁছায়। নেই কোনও জটিল হাইব্রিড ব্যবস্থা, নেই ঘাটতি পূরণ করার জন্য বৈদ্যুতিক মোটর। আছে শুধু একটি ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড V6, একটি ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স এবং পেছনের দুটি চাকা।

গাড়িটির বাইরের অংশেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। Pininfarina অ্যালুমিনিয়াম বডির পরিবর্তে নিজস্ব নকশার হাই-মডুলাস কার্বন-ফাইবার প্যানেল বসানো হয়েছে । অ্যারোডাইনামিকস উন্নত করতে Tensei-তে রয়েছে সমতল আন্ডারফ্লোর এবং সক্রিয় রিয়ার ডিফিউজার। এতসব প্রকৌশলগত পরিবর্তন সত্ত্বেও গাড়িটির শুষ্ক ওজন মাএ 2,756 pounds।

চ্যাসিসের দিকটিও উপেক্ষা করা হয়নি। ইলেকট্রনিকভাবে সমন্বয়যোগ্য KW ড্যাম্পারে রয়েছে Dynamic Damping Control প্রযুক্তি। ব্রেকিংয়ের দায়িত্বে রয়েছে সামনে ছয়-পিস্টন এবং পেছনে চার-পিস্টন ক্যালিপারসহ Brembo ব্রেক। লক্ষ্য হলো, প্রথম প্রজন্মের NSX-এর মূল চরিত্র অক্ষুণ্ণ রেখে এর পারফরম্যান্সকে আধুনিক মানে উন্নীত করা।

অবশ্য এমন প্রকল্পের দামও কম নয়। Tensei-এর দাম শুরু হচ্ছে ৮৮০,০০০ ইউরো থেকে, যা বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ১১ কোটি ৯৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে যোগ হবে মূল NSX-এর দাম, স্থানীয় কর এবং অতিরিক্ত কাস্টমাইজেশনের খরচ। JAS Motorsport ও Pininfarina ২০২৬ সালের Paris Motor Show-তে জনসমক্ষে Tensei প্রদর্শন করবে। উপযুক্ত পুরোনো NSX খুঁজে পাওয়া এবং Judd Power-এর তৈরি পাওয়ারট্রেন প্রস্তুত করার ওপর নির্ভর করবে গাড়ি সরবরাহের সময়সীমা।

বাংলাদেশের জন্য অবশ্য এমন একটি গাড়ি দেখার সম্ভাবনা খুবই কম। দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় প্রজন্মের NSX রয়েছে মাত্র একটি। আর মাত্র ৩৫টি উৎপাদনের গাড়ি বাংলাদেশের রাস্তায় দেখা যাবে, এমনটা ভাবারও কারণ নেই। এখানে আসল NSX দেখাও একটি বিরল ঘটনা, সেখানে প্রায় ১২ কোটি টাকার এই পুনর্জন্মের তো স্বপ্ন।

তারপরও, বিরলতা আর দাম একপাশে রাখলে Tensei নিঃসন্দেহে দারুণ লোভনীয় একটি ধারণা। আসল NSX প্রমাণ করেছিল, একটি সুপারকার একই সঙ্গে দ্রুত, নির্ভরযোগ্য এবং প্রতিদিনের ব্যবহারের উপযোগী হতে পারে। JAS Motorsport সেই একই ধারণাকে আরও বেশি শক্তি, আরও বেশি কার্বন ফাইবার এবং এমন এক দাম দিয়ে নতুন করে হাজির করেছে, যা দিয়ে রীতিমতো বৈচিত্র্যময় বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় গাড়ির সংগ্রহ গড়ে তোলা সম্ভব।

তাহলে কি Tensei দ্বিতীয় প্রজন্মের NSX-কে কম আকর্ষণীয় করে তুলেছে? মোটেও না। 

তবে যারা মনে করেন Honda-র সোনালী সময়ের প্রতীক ছিল প্রথম প্রজন্মের NSX, তাদের জন্য Tensei হলো প্রথমবার গাড়িটির প্রেমে পড়ার কারণগুলো নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়ার মতো এক অত্যন্ত ব্যয়বহুল স্মারক।

Next
Next

৫০০-এর বেশি গাছ রোপণ করল BYD