চায়নার গাড়িকে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প
নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে চায়নার গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করার সুযোগ দিতে রাজি আছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump।
Fox News-এর অনুষ্ঠান ‘The Ingraham Angle’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, চাইনিজ প্রতিষ্ঠানগুলো যদি আমেরিকাতেই গাড়ি তৈরি করে, তবে তাদের বাজারে প্রবেশাধিকার দিতে তাঁর কোনো আপত্তি থাকবেনা।
ট্রাম্প বলেন, "চায়না যদি এখানে এসে কারখানা খুলে গাড়ি তৈরি করতে চায়, আমি তাতে সম্মতি দেব। জাপান এটা করছে এবং তারা আমাদের দেশের মানুষকে চাকরিতে নেয়। আসল বিষয় হলো, তারা আমাদের দেশের কর্মীদের যেন নিয়োগ দেয়।"
তবে বাণিজ্য নীতিকে পাশ কাটাতে মেক্সিকোতে কারখানা খুলে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও তিনি আমেরিকার মাটিতে চায়নার মালিকানাধীন উৎপাদনের প্রতি এই ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের এই মন্তব্য ওয়াশিংটনে চলমান নীতি এবং আমেরিকার প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের সামগ্রিক অবস্থানের বিপরীতমুখী।
সম্প্রতি Department of Transportation Secretary Sean Duffy গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Ford-এর কড়া সমালোচনা করেন। কারণ Ford তাদের Michigan-এর Marshall প্ল্যান্টে চায়নার শীর্ষ ব্যাটারি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান CATL-এর লাইসেন্সকৃত প্রযুক্তি ব্যবহারের করছে, যদিও সেই প্ল্যান্টটির শতভাগ কর্মীই আমেরিকান।
এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন Michigan-এর সিনেটর Elissa Slotkin, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে চায়নার গাড়ি বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিলের অন্যতম সহ-পৃষ্ঠপোষক। তিনি আশঙ্কা করছেন যে, চলতি মাসের শেষের দিকে চায়নার প্রেসিডেন্ট Xi Jinping-এর সম্ভাব্য সফর এবং ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের সময় একটি বৃহত্তর চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে চায়নার গাড়ি প্রবেশের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
এছাড়া বর্তমান মার্কিন নীতিমালায় চায়নার গাড়ির বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রশাসনিক বিধিনিষেধ জারি রয়েছে। Department of Commerce-এর বর্তমান নিয়ম অনুসারে, চাইনিজ প্রতিষ্ঠানের তৈরি সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যার সংবলিত কোনো গাড়ি যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করা নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে ২০২৭ সাল থেকে এবং হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে ২০৩০ সাল থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর নীতিমালার প্রভাব ইতিমধ্যেই বাজারে পড়তে শুরু করেছে। এর জের ধরেই কয়েক মাস আগে সুইডিশ Polestar ব্র্যান্ডের গাড়ি যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হয়েছে। পাশাপাশি Mercedes-Benz-এর মতো প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী অটোমেকারদের জন্যও আইনি নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে , কারণ কোম্পানিটির আংশিক মালিকানা কয়েকটি চাইনিজ কোম্পানি হাতে রয়েছে ।
ইউরোপজুড়ে চীনা গাড়িগুলোর আগ্রাসী উপস্থিতির একটি বড় মাইলফলক রচিত হলো যুক্তরাজ্যে; সেখানে গত মাসে বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া গাড়ির মুকুট ছিনিয়ে নিয়েছে চীনের তৈরি একটি ক্রসওভার।