আসছে ৩২২ হর্সপাওয়ারের Volkswagen ID.3 GTI হট হ্যাচ

ছবিঃ Volkswagen

সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক হট হ্যাচ ID.3 GTX-এর নতুন ফেসলিফ্ট সংস্করণটির নাম বদলে 'ID.3 GTI' হিসেবে উন্মোচন করেছে জার্মান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Volkswagen।

ছোট আকারের ফ্রন্ট-হুইল-ড্রাইভ ID. Polo GTI-এর পর এটি প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় বৈদ্যুতিক গাড়ি, যা তাদের ঐতিহ্যবাহী 'GTI' ব্যাজটি বহন করছে।

নতুন এই মডেলটি কাগজে কলমে এখন পর্যন্ত Volkswagen-এর তৈরি সবচেয়ে শক্তিশালী GTI। ৩২২ হর্সপাওয়ার নিয়ে এটি পেট্রোল চালিত Golf GTI Edition 50 মডেলটিকে মাত্র এক হর্সপাওয়ারের ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে। তবে এর টর্ক বিদায়ী ID.3 GTX-এর মতই ৪০২ পাউন্ড-ফুট (৫৪৫ Nm) রাখা হয়েছে।

এতে রয়েছে ৭৯ কিলোওয়াট-আওয়ারের (kWh) লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্যাক, যা WLTP নিয়মানুযায়ী এক চার্জে ৩৭৩ মাইল (প্রায় ৬০১ কিলোমিটার) পথ চলতে সক্ষম—যা আগের ID.3 GTX-এর তুলনায় ৬ মাইল বেশি। ১৮৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত ডিসি ফাস্ট চার্জিং সুবিধার মাধ্যমে মাত্র ২৯ মিনিটেই এর ব্যাটারি ১০ থেকে ৮০ শতাংশ চার্জ করা সম্ভব।

MEB প্ল্যাটফর্মের ওপর তৈরি এই গাড়িটি Volkswagen-এর ইতিহাসে প্রথম রিয়ার-হুইল-ড্রাইভ GTI মডেল। পেছনের অ্যাক্সেলের সাথে যুক্ত ইলেকট্রিক মোটরের কল‍্যাণে গাড়িটি মাত্র ৫.৬ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ১০০ কিমি/ঘণ্টা গতি তুলতে পারে এবং এর সর্বোচ্চ গতি ইলেকট্রনিকভাবে প্রতি ঘণ্টায় ১২৪ মাইলে (২০০ কিমি) সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

গাড়িটির বিশেষ 'GTI' ড্রাইভ মোডটি চালু করলে এর সর্বোচ্চ শক্তি উন্মুক্ত হয়। একই সাথে কার্যকর হয় লঞ্চ কন্ট্রোল এবং সনাতন গ্যাসোলিনচালিত Golf GTI-এর ইঞ্জিনের মতো কৃত্রিম শব্দ তৈরি হয়।

গাড়িটির বাহ্যিক নকশায় 'ID.3 Neo'-এর অনুরুপে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সামনে রয়েছে GTI সিগনেচার লাল অ্যাকসেন্ট, চকচকে কালো ট্রিম এবং এলইডি ডে-টাইম রানিং লাইট। দরজায় আগের GTX ব্যাজ বদলে GTI ব্যাজ যুক্ত করা হয়েছে।দরজার আগের GTX ব‍্যাজের জায়গায় শোভা পাচ্ছে নতুন GTI বএছাড়া পেছনের কালো প্যানেল বদলে বডি-কালার টেইলগেটেও যুক্ত হয়েছে GTI ব্যাজ। নতুন ডিজাইনের ২০ ইঞ্চির চাকাগুলোতে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ২২৫ টায়ার দেওয়া হয়েছে, তবে গ্রাহকরা চাইলে বিকল্প হিসেবে চওড়া ২৩৫ টায়ারও নিতে পারবেন।

কেবিনের ভেতর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে এর কন্ট্রোল সিস্টেমে। স্পর্শনির্ভর বা টাচ-কন্ট্রোলের বদলে প্রথাগত ফিজিক্যাল সুইচ ফিরিয়ে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। স্টিয়ারিং হুইলে ফিরে এসেছে স্পর্শযোগ্য বাটন, যুক্ত হয়েছে অ্যানালগ ভলিউম নব এবং সেন্টার কনসোলে প্রথাগত সুইচের সারি। এমনকি ডিসপ্লের নিচের বিতর্কিত টাচ স্লাইডার পুরোপুরি বাদ দিয়ে পেছনের জানালার জন্য দেওয়া হয়েছে আলাদা ডেডিকেটেড সুইচ। এছাড়া কেবিনে রয়েছে একটি ১০.২৫ ইঞ্চির ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, ১২.৯ ইঞ্চির ইনফোটেইনমেন্ট স্ক্রিন এবং স্পোর্টস সিট।

উচ্চ পারফরম্যান্সের এই বৈদ্যুতিক হ্যাচব্যাকটি ২০২৭ সালের বসন্তে পুরো ইউরোপজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি শুরু হবে।

Previous
Previous

অবসরে যাচ্ছে McLaren Artura

Next
Next

চায়নার গাড়িকে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প