যন্ত্রাংশের সংখ্যা কমাতে চায় Toyota

ছবিঃ Toyota

গাড়ির উৎপাদন ব্যয় কমাতে নতুন কৌশল খুঁজছে Toyota, আর এই সমস্যার একটি অভিনব সমাধান নিয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রধান যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান Toyota Boshoku।

তারা জানিয়েছে, গাড়ির অভ্যন্তরীণ জটিলতা ও বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরির সংখ্যা কমিয়ে এনে তারা মুনাফা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।

দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের পরিচালন মুনাফার হার বা অপারেটিং প্রফিট মার্জিন ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে Toyota Boshoku। উল্লেখ্য এই মুনাফার হার চলতি বছরে ৩.৮ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

একই সঙ্গে ২০২২ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে Toyota ছাড়া অন্য গ্রাহকদের কাছে যন্ত্রাংশ বিক্রি তিন গুণ বাড়াতে চায় তারা। মূলত পণ্যের মান বৃদ্ধি এবং যন্ত্রাংশের বৈচিত্র্য বা ধরন কমিয়ে পরিচালন ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে মুনাফার হার বাড়ানোই এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য।

এই উদ্যোগের মূলে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির "RPT33" নামের বিশেষ পরিকল্পনা। এর লক্ষ্য হলো যন্ত্রাংশের বাহুল্য ৩৩ শতাংশ কমিয়ে আনা, যা গাড়ির উন্নয়ন, কাঁচামাল ক্রয়, উৎপাদন, ইনভেন্টরি ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন ব্যবস্থাকে অনেক বেশি সহজ করবে। মূল গাড়ি নির্মাতাদের সাথে যৌথভাবে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে তাদের সিটের হেডরেস্টে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের সংখ্যা ৭৬ শতাংশ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

প্রকৌশলগত এই বড় পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে Toyota Boshoku-র পরবর্তী প্রজন্মের সিট ফ্রেমে। তুলনামূলক কম যন্ত্রাংশ দিয়ে এবং সহজ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নিজস্ব কারখানায় এগুলো তৈরি করা হয়েছে। এই নতুন ফ্রেমগুলো বর্তমান বাজারে থাকা সবচেয়ে পাতলা প্রতিযোগী মডেলের চেয়েও ২০ শতাংশ পাতলা এবং সবচেয়ে হালকা সিট ফ্রেমের চেয়ে ৫ শতাংশ হালকা।

হার্ডওয়্যার পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক কাজের দক্ষতা বাড়াতেও সংস্কার আনছে প্রতিষ্ঠানটি। নিজেদের "stop, change, and find a better way" উদ্যোগের আওতায় অভ্যন্তরীণ বৈঠকের মোট সময় ৪২ শতাংশ কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এর পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় ডিজাইন তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে উৎপাদন ও পরিবহন নেটওয়ার্কে যেকোনো অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়।

গাড়ির উৎপাদন ও নকশাগত জটিলতা কমানোর এই প্রবণতা এখন পুরো বিশ্বের অটোমোবাইল শিল্পেই ছড়িয়ে পড়ছে। Volkswagen Group-ও একই ধরনের কৌশল গ্রহন করেছে; তারা তাদের গাড়ির মডেলের সংখ্যা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো এবং ঐচ্ছিক যন্ত্রাংশের (optional equipment) সুযোগ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। একইভাবে Toyota-র নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, তাদের নিজস্ব লাইনআপে বর্তমানে অতিরিক্ত মডেল রয়েছে, যা আরও সংক্ষিপ্ত ও সহজ করা প্রয়োজন।

Previous
Previous

হাইড্রোজেন Hilux দিয়ে মরুভূমি পাড়ি দেবে Toyota

Next
Next

অবসরে যাচ্ছে McLaren Artura