এবার রোবট বানাতে চায় BYD

ছবিঃ কাল্পনিক/অলঙ্করণ

BYD ধীরে ধীরে Tesla-র গাড়ির বাজার দখল করে নিচ্ছে। এবার Tesla-র আরেক প্রযুক্তি ব্যবসার দিকে নজর পড়েছে এই চিনা দানবের; মানুষের মতো দেখতে রোবট বা হিউম্যানয়েড রোবট।

২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর, China’s National Intellectual Property Administration BYD-এর তৈরি একটি ‘Embodied AI Robot’-এর ডিজাইন পেটেন্ট প্রকাশ করেছে। এই নথিতে প্রথমবারের মতো BYD-এর নিজস্ব হিউম্যানয়েড রোবটের নকশার আনুষ্ঠানিক ঝলক পাওয়া গেছে। রোবটটি সেবা ও শিক্ষাক্ষেত্রে এবং শিল্পকারখানার কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।

পেটেন্টে এমন একটি রোবটের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যা হাঁটতে পারে, ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে এবং আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে। এর নকশায় রয়েছে সাদা-কালো রঙের সমন্বয়, ডিসপ্লেবিহীন গোলাকার ও বাঁকানো মাথা এবং ধড়, হাত ও পায়ের বিভিন্ন স্থানে সচল জয়েন্ট। সব মিলিয়ে এর চেহারা মসৃণ এবং মানুষের মতোই চেনা যায়। তবে পেটেন্ট করা এই নকশাই শেষ পর্যন্ত উৎপাদন পর্যায়ে যাবে কি না, তা নিশ্চিত করেনি BYD।

ছবিঃ BYD

নকশাটি কোম্পানির আগে আভাস দেওয়া Xiao Di বা ‘Little D’ নামের হিউম্যানয়েড রোবটের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়। ওই মডেলটির উচ্চতা ১.৬১ মিটার এবং ওজন ৫৮.৫ কেজি। এতে রয়েছে ৩১ ডিগ্রি অফ ফ্রিডম বা নড়াচড়া করার স্বাধীনতা এবং একটি অত্যন্ত দক্ষ ও সংবেদনশীল হাত, যা ±১ মিলিমিটার নিখুঁত সূক্ষ্মতায় বারবার একই স্থানে কাজ করতে সক্ষম। এসব সক্ষমতা দিয়ে বস্তু ধরা, অঙ্গভঙ্গি করা এবং কোনো তথ্য ব্যাখ্যা করার সময় নির্দিষ্ট দিকে আঙুল দিয়ে দেখানোর মতো কাজগুলো সহজেই করতে পারে।

BYD ২০২২ সালে তাদের রোবোটিকস গবেষক দল গড়ে তোলার কাজ শুরু করে। তাদের কৌশল হলো, কোম্পানির বিশাল উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে রোবটের হার্ডওয়্যার ও সিস্টেম তৈরি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলোকে নিজেদের মতো করে সাজানো। তাদের গবেষণার মূল ক্ষেত্র তিনটি: চারপাশের পরিবেশ উপলব্ধি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সেই অনুযায়ী কাজ সম্পাদন। সহজ ভাষায়, রোবটকে আশপাশে কী আছে তা বুঝতে হবে, কী করা উচিত তা ঠিক করতে হবে, তারপর সেই কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

ছবিঃ BYD

গত কয়েক বছরে বৃহত্তর রোবোটিকস শিল্পেও বিনিয়োগ করছে BYD। ২০২৩ সালের আগস্টে প্রতিষ্ঠানটি Agibot-এ বিনিয়োগ করে এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে Percibot-এর অংশীদারত্ব অর্জন করে। এমনকি নিজেদের কারখানাও রোবোটিক প্রযুক্তি পরীক্ষার কাজে ব্যবহার করেছে তারা। উদাহরণস্বরূপ, তাদের Changsha কারখানায় Ubtech-এর তৈরি Walker S1 নামক শিল্পকারখানার উপযোগী হিউম্যানয়েড রোবট দিয়ে মালামাল সরানো ও শনাক্ত করার মতো কাজ করানো হয়েছে।

BYD-এর নিজস্ব মানবসদৃশ রোবটগুলোর প্রথম গন্তব্য কারখানার উৎপাদন লাইন নাও হতে পারে। কোম্পানির কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, গ্রাহকদের স্বাগত জানানো, গাড়ির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা এবং ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেমের কার্যক্রম দেখানোর জন্য রোবটগুলোকে BYD-এর ডিলারশিপ নেটওয়ার্কে ব্যবহার করা হতে পারে। ভাবুন তো, আপনি গাড়ির রেঞ্জ সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন, আর রোবটটি উত্তরে শোনাতে শুরু করল মুখস্থ করা বিক্রয়কৌশল। তবে তার অন্তত দুপুরের খাবারের বিরতির প্রয়োজন হবে না।

ছবিঃ Ubtech

অবশ্য কারখানায় কাজ করাও আরেকটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র হতে পারে। ভবিষ্যতে একই কাজ বারবার করতে হয়—এমন একঘেয়ে দায়িত্বগুলো এই হিউম্যানয়েড রোবটগুলো নিজের কাঁধে তুলে নিতে পারে, যা অনেক ক্ষেত্রে মানুষের শ্রমের বিকল্প হয়ে উঠবে। তবে চীনের বর্তমান অত্যাধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় কারখানাগুলোতে নতুন করে রোবট ব্যবহারের সুযোগ হয়তো কিছুটা কম; সেই তুলনায় কম উন্নত বা সাধারণ কারখানাগুলোতে এদের কাজের সম্ভাবনা অনেক বেশি।

আপাতত এই পেটেন্টের অর্থ এই নয় যে BYD বিপুল সংখ্যায় হিউম্যানয়েড রোবট বিক্রির জন্য প্রস্তুত। তবে এটি স্পষ্ট, চিনা এই প্রতিষ্ঠানটি শিল্পকারখানার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও গ্রাহকসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে এমন একটি খাতে প্রবেশের জন্য কোমর বেধে মাঠে নামছে।

Previous
Previous

১০০ কোটি টাকায় বিক্রি হতে পারে Ruf-এর Dragon

Next
Next

এবার আসল পিকআপ আনছে Honda