এবার আসল পিকআপ আনছে Honda

ছবিঃ Honda

Honda অবশেষে বডি-অন-ফ্রেম পিকআপের বাজারে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। তবে ছোট্ট একটা সমস্যা: ট্রাকটি আসলে Honda নিজে তৈরি করছে না।

জাপানের অন্যতম প্রাচীন সংবাদপত্র Yomiuri Shimbun-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, Honda Mitsubishi Triton ট্রাকটি নিজেদের ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি করার পরিকল্পনা করছে। ২০২৮ সালে প্রথম গাড়িগুলো বাজারে আসতে পারে। এই চুক্তিটি Honda, Nissan ও Mitsubishi Motors-এর মধ্যে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার প্রথম বড় পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে।

নতুন ব্যাজ লাগানো এই পিকআপটি প্রথমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে অন্যান্য বাজারেও এটি বিক্রির কথা বিবেচনা করছে Honda। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এটি পর্যন্ত যাবে, এমন আশা করবেন না। আমদানি শুল্ক এবং আমদানি করা ট্রাকের ওপর আরোপিত তথাকথিত Chicken Tax-এর কারণে স্থানীয়ভাবে তৈরি Ford Ranger, Chevrolet Colorado ও GMC Canyon-এর সঙ্গে দামের প্রতিযোগিতায় এর টিকে থাকা কঠিন হবে।

ছবিঃ Mitsubishi

কিছু বাজারে L200 নামেও বিক্রি হওয়া Triton-এ রয়েছে প্রচলিত বডি-অন-ফ্রেম ল্যাডার চ্যাসিস, যা ভারী কাজ ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য তৈরি। Honda-র বর্তমান উত্তর আমেরিকান পিকআপ Ridgeline-এর সঙ্গে এর প্রকৌশলগত পার্থক্য আকাশ-পাতাল। Ridgeline-এ যাত্রীবাহী গাড়ির সঙ্গে শেয়ার করা ইউনিবডি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও Honda তৃতীয় প্রজন্মের Ridgeline তৈরির পরিকল্পনা করছে, তবে সেটিতে ল্যাডার ফ্রেম ব্যবহারের সম্ভাবনা নেই।

Triton ধার করার ফলে নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে যে সময় ও অর্থ লাগত, তা খরচ না করেই প্রচলিত পিকআপের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে Honda। পাশাপাশি, একেবারে গোড়া থেকে পিকআপ তৈরির কৌশল আয়ত্ব না করেই ক্রেতাদের জন্য একটি আসল ট্রাক হাজির করতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি।

থাইল্যান্ডে Triton-এর বর্তমান উৎপাদন স্থান Mitsubishi-র অ্যাসেম্বলি কারখানাতেই Honda-র সংস্করণটি তৈরী হওয়ার কথা রয়েছে । ওই কারখানায় Nissan-এর জন্য Navara-ও বানানো হয়। Honda-র ব্যাজ লাগানো আরেকটি মডেল যুক্ত হলে কারখানার কার্যক্ষমতার আরও ভালো ব্যবহার করতে পারবে Mitsubishi। একই সঙ্গে বেশি সংখ্যক গাড়ির মধ্যে প্রস্তুতকরণ ও উন্নয়ন খরচ ভাগ করে নেওয়াও সম্ভব হবে।

ছবিঃ Mitsubishi

Honda-র সংস্করণে বড় কোন রদবদল হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সামনের ও পেছনের নকশায় কিছু পরিবর্তন, Honda-র ব্যাজ, ভিন্ন সরঞ্জাম প্যাকেজ এবং কেবিনের কিছু উপকরণে নতুনত্ব আসতে পারে। বড় ধরনের যান্ত্রিক রূপান্তরের সম্ভাবনাও নেই। তাই খরচও নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।

এই অংশীদারত্ব শুধু পিকআপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, তা নয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, Mitsubishi-র অন্যান্য মডেলও Honda নিজেদের নামে বিক্রির জন্য আগ্রহী। তবে কোন কোন গাড়ি সেই তালিকায় রয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। দুটি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার ও ইনফোটেইনমেন্ট ডিসপ্লেসহ কেবিনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ যৌথভাবে উন্নয়নের বিষয়টিও বিবেচনা করছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে Honda ও Nissan-এর মধ্যে একীভূত হওয়ার আলোচনা ভেস্তে যায়। এরপরও পরবর্তী প্রজন্মের সফটওয়্যার-নির্ভর গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ নিয়ে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয় প্রতিষ্ঠান দুটি। বৃহত্তর সহযোগিতা নিয়ে আলোচনায় Mitsubishi-ও ছিল।

ছবিঃ Mitsubishi

Honda-র সাম্প্রতিক আর্থিক সমস্যা বিবেচনায় এই চেষ্টা অবাক করার মতো নয়। বিপুল বিনিয়োগ করে একেবারে নতুন ল‍্যাডার ফ্রেম পিকআপ তৈরির তুলনায় বিদ‍্যমান একটি মডেল সংগ্রহের কারনে অনেক কম সময়ে এবং কম খরচে বাজারে প্রবেশ করা সম্ভব হচ্ছে। আর ক্রেতাদের জন্য এর মানে হলো এমন একটি Honda পিকআপ, যার ব্যাজ আর সামান্য বাহ্যিক পরিবর্তন বাদ দিলে বাকি সবকিছুই Mitsubishi Triton।

কখনো কখনো নতুন গাড়ি তৈরির সবচেয়ে বুদ্ধিমান উপায় হলো, কঠিন কাজটা অন্য কাউকে করতে দেওয়া। Honda বুদ্ধিমানের পথটাই বেছে নিয়েছে।



Previous
Previous

এবার রোবট বানাতে চায় BYD

Next
Next

কানাডা যাচ্ছে চীনের Geely