৮৮৮ হর্সপাওয়ারের ছাদখোলা G-Wagen আনল Brabus
ছবিঃ Brabus
Mercedes-Benz যখন তাদের অফিসিয়াল G-Class ক্যাব্রিওলে বা ছাদখোলা সংস্করণ ফেরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই জার্মান টিউনিং প্রতিষ্ঠান Brabus তাদের আগেই বাজারে নিয়ে এল মাত্রাতিরিক্ত শক্তির এক উন্মাদনা।
Monaco Yacht Show-তে আত্মপ্রকাশ করা নতুন ‘Brabus 900 Rocket Edition Cabrio’ মূলত একটি Mercedes-AMG G 63-কে চার দরজার ছাদখোলা এক দানবে রূপান্তর করেছে। ইট-সদৃশ চারকোনা এই এসইউভিতে গুঁজে দেওয়া হয়েছে প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন পরিমাণ হর্সপাওয়ার।
হুডের নিচে বসানো হয়েছে সম্পূর্ণ পুনর্নির্মিত Twin-Turbocharged 4.5-liter V8 ইঞ্জিন। ফ্যাক্টরির মূল ৪.০-লিটার ক্যাপাসিটিকে বাড়িয়ে এতে যুক্ত করা হয়েছে বিশেষ ফোর্জড পিস্টন, কাস্টম কানেক্টিং রড এবং ক্র্যাঙ্কশ্যাফ্ট। এই যান্ত্রিক কারসাজিতে ইঞ্জিন কি এখন উৎপন্ন করছে ৮৮৮ হর্সপাওয়ার (৯০০ মেট্রিক এইচপি) এবং ৯২২ পাউন্ড-ফুট টর্ক। যদিও ড্রাইভলাইন যাতে ভেঙে চুরমার না হয়ে যায়, সেজন্য ইলেকট্রনিকভাবে চাকায় পৌঁছানো টর্ক ৭৭৪ পাউন্ড-ফুটে সীমিত রাখা হয়েছে। এই ভারী গাড়িটি স্থিরাবস্থা থেকে মাত্র ৩.৭ সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৬২ মাইল (০-১০০ কিমি) গতি তুলতে পারে। চাকা বা টায়ার যেন তীব্র চাপে ছিন্নভিন্ন না হয়ে যায়, সেজন্য এর সর্বোচ্চ গতি ইলেকট্রনিকভাবে ঘণ্টায় ১৪৯ মাইলে আটকে দেওয়া হয়েছে।
আড়াই টনের দানবটিকে বশে রাখতে যুক্ত করা হয়েছে KW-এর বিশেষ অ্যাডজাস্টেবল সাসপেনশন, যা গাড়ির উচ্চতা ১.৮ ইঞ্চি পর্যন্ত নামিয়ে আনতে পারে। চাকায় রয়েছে বিশালাকার ২৪ ইঞ্চির ফোর্জড Monoblock II হুইল। সাইড এক্সহস্ট পাইপের ভালভ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে চালক চাইলে তীব্র গর্জন তুলতে পারবেন, আবার গভীর রাতে প্রতিবেশীদের বিরক্তি এড়াতে শান্ত ‘Coming Home’ মোডেও চালাতে পারবেন।
সামরিক ধাঁচের এমন একটি ভারী এসইউভির ছাদ কেটে ফেলা কোন সহজ ব্যাপার ছিল না। গাড়ির কাঠামোগত শক্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে Brabus ৫০০টিরও বেশি বিশেষ পার্টস তৈরি করেছে। এর দুই খণ্ডের ফেব্রিক ছাদটি বৈদ্যুতিকভাবে মাত্র ২০ সেকেন্ডে খোলে বা বন্ধ হয়। কেবিন যেন বৃষ্টির পানিতে না ভিজে, তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি গাড়িকে ল্যাবে টানা ১০ ঘণ্টার বেশি কৃত্রিম মুষলধারে বৃষ্টিতে পরীক্ষা করা হয়েছে।
যেখানে Mercedes-AMG-র নিজস্ব ছাদখোলা G 63 বাজারে আসতে ২০২৭ কিংবা ২০২৮ সাল লেগে যাবে, তার আগেই Brabus এই ঝড় তুলল। তবে বিশ্বজুড়ে গাড়িটি তৈরি হবে মাত্র ১০টি। প্রতিটি গাড়ির বৈধতা ও মালিকানার তথ্য সংরক্ষণে করবে ব্লকচেইনভিত্তিক ডিজিটাল পাসপোর্ট।
কর ব্যতীত এর রপ্তানি মূল্য ধরা হয়েছে ৮ লাখ ৯০ হাজার ৭৪০ ইউরো বা প্রায় ১০ লাখ ১৯ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ কোটি ৭৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা)। আর জার্মানির ভ্যাটসহ এর দাম দাঁড়াবে প্রায় ১২ লাখ ১০ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা)।
দামটা আমাদের মত সাধারণ মানুষদের জন্য আকাশচুম্বী হলেও বাস্তবতা হলো, এই খবরটি প্রকাশ হবার আগেই খুব সম্ভবত সবগুলো ইউনিট বিক্রি হয়ে যাবে।
বাণিজ্যিক বাজারে ধুঁকলেও চমৎকার নকশার সুপারকার তৈরিতে যে তাদের জুড়ি নেই, তা আবারও প্রমাণ করল ইতালীয় ব্র্যান্ড Alfa Romeo।