গাড়ি বানাবে সৌদি আরব

ছবিঃ Ceer

উট থেকে অত‍্যাধুনিক বৈদ্যুতিক গাড়ীর যুগে প্রবেশ করছে সৌদি সাম্রাজ্য।

সৌদি আরবের প্রথম নিজস্ব অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান Ceer আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছে তাদের প্রথম দুটি গাড়ি: সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক আর চোখ ধাঁধানো ডিজাইনের 'Exobot' হাইপার-স্যালুন এবং এসইউভি।

দেশটির Public Investment Fund (PIF) এবং তাইওয়ানের প্রযুক্তি জায়ান্ট Foxconn-এর যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি দাবি, আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের অবস্থান জানান দিতেই তারা তৈরি করেছে এই বিলাসবহুল মডেল দুটি।

গাড়িগুলোর যান্ত্রিক বিকাশে যুক্ত ছিল BMW, Rimac এবং Hyundai Transys-এর মতো বৈশ্বিক প্রকৌশল জায়ান্টরা। সোজা ভাষায় বললে, কোম্পানিটি তাদেরকে দিয়ে ৯০ ভাগ কাজ করিয়ে নিয়েছে।

একটি অভিন্ন মডুলার স্কেটবোর্ড প্ল্যাটফর্মে নির্মিত Exobot স্যালুনটির দৈর্ঘ্য ৫.২৬ মিটার এবং এসইউভিটির দৈর্ঘ্য ৫.০২ মিটার। উভয় গাড়ির প্রস্থই ২.১ মিটার এবং সামনে রয়েছে সুবিশাল ২.৪ মিটারের উইন্ডস্ক্রিন। সৌদি আরবের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য 'Hegra'-র খাঁজকাটা নকশা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এর বডি ডিজাইন করা হয়েছে। এর সামনে রয়েছে বিশেষ ত্রিভুজাকার চাকা এবং দেশটির ১৯৩২ সালের একত্রীকরণকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া ৩২টি উপাদানবিশিষ্ট ফ্রন্ট লাইট বার।

গাড়িটির সবচেয়ে বড় চমক এর দুটি ‘Shahin Wing Doors’; মরুভূমির বাজপাখির নামে নামাঙ্কিত তিন মিটারের এই প্রতিটি দরজা ৬০ সেন্টিমিটার বৃত্তচাপে ওপরের দিকে উঠে যায়, যার ফলে এক দরজা দিয়েই সামনের ও পেছনের যাত্রীরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেন।

বিশাল দুটি দরজা দেখতে বেশ চমকপ্রদ। অন্যদিকে এর সমস্যা হল সামনে কেউ গাড়ি থেকে নামতে চাইলে পিছনে মানুষকেও বাহিরের বাতাসের ধাক্কা নিতে হবে। যা মরুভূমিতে চরম বিরক্তি উৎপাদন করতে পারে।

দুটো গাড়িই দেখে মনে হয় এগুলো পৃথিবীর জন্য নয়, মঙ্গল গ্রহে চলার জন্য নকশা করা হয়েছে।

কেবিনের ভেতরটাও সাজানো হয়েছে মহাকাশযানের মতো—স্টিয়ারিং ইয়োক, স্টিয়ার বাই ওয়্যার প্রযুক্তি এবং দরজার নিচের অংশে বিশেষ ইলেকট্রোক্রোমিক গ্লাস প্যানেল, যা প্রয়োজন অনুযায়ী স্বচ্ছ থেকে মুহূর্তে সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ হয়ে যেতে পারে।

চালিকাশক্তি হিসেবে এতে ব্যবহার করা হয়েছে তিন-মোটর অল-হুইল-ড্রাইভ ব্যবস্থা; যার সামনের অংশে রয়েছে Hyundai Transys-এর মোটর এবং পেছনে Rimac-এর শক্তিশালী মোটর।

স্ট্যান্ডার্ড সংস্করণে এটি ৮৫০ হর্সপাওয়ার ও ১,০০০ Nm টর্ক উৎপন্ন করে, যা দিয়ে স্যালুনটি মাত্র ২.৬ সেকেন্ডে এবং এসইউভিটি ২.৯ সেকেন্ডে ০-৬২ মাইল গতি তুলতে পারে। এছাড়া আরও শক্তিশালী ফ্ল্যাগশিপ টিউনিংয়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১,১১১ বিএইচপি এবং ১,৫০০ Nm টর্কে। ফলে স্যালুন গাড়িটি মাত্র ২.১ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ৬২ মাইল গতি তুলে সর্বোচ্চ ১৫৫ মাইল বেগে ছুটতে পারে এবং এসইউভিটি ২.৪ সেকেন্ডে গতি তুলে সর্বোচ্চ ১৩০ মাইল পর্যন্ত যেতে পারে।

গাড়ির মেঝের নিচে বসানো হয়েছে ৮০০ ভোল্ট আর্কিটেকচারে তৈরি ১১২ কিলোওয়াট-আওয়ারের (kWh) এনসিএম ব্যাটারি, যার মাধ্যমে ৩০ মিনিটেরও কম সময়ে ১০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত দ্রুত চার্জ দেওয়া সম্ভব। NEDC সাইকেল অনুযায়ী, একক চার্জে স্যালুনটি প্রায় ৪১৬ মাইল (৬৭০ কিমি) এবং এসইউভিটি ৩৪৮ মাইল (৫৬০ কিমি) পর্যন্ত পথ চলতে পারবে।

প্রাথমিকভাবে ৮৫০ হর্সপাওয়ারের লাল-কালো নাপ্পা লেদারযুক্ত বিশেষ ব্যাজ সংবলিত 'First Edition' দিয়ে গাড়িটির বিক্রি শুরু হবে, যার পর তুলনামূলক সহজলভ্য 'Plus' সংস্করণ বাজারে আনা হবে।

কিং আবদুল্লাহ ইকোনমিক সিটিতে (King Abdullah Economic City) অবস্থিত বিশালাকার Ceer ম্যানুফ্যাকচারিং কমপ্লেক্সে গাড়িগুলো সংযোজন করা হবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম গাড়ি নির্মাণ হাব হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাজারে সাতটি ভিন্ন মডেল আনার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই Exobot প্রকাশ করল সৌদি আরব।

প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মূল্য ঘোষণা করা হয়নি; তবে ধরে নেওয়া যায়, এই গাড়ি শুরুর দিকে কেবল সৌদি রাজপরিবারই কিনতে পারবে।

Previous
Previous

E-Power হাইব্রিড রুপে আসছে Nissan X-Trail

Next
Next

ফ্ল্যাট-এইট সুপারকার আনছে Porsche