বৈদ্যুতিক সুপারকারকে না বলল Porsche
ছবিঃ Porsche
Porsche একটি নতুন মিড-ইঞ্জিন সুপারকার নিয়ে কাজ করছে। তবে জার্মান এই প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে, এই গাড়ির কোন পুরোপুরি বৈদ্যুতিক সংস্করণ আসবে না।
কারণ খুব সরল। CEO Michael Leiters-এর মতে, এই বাজারের ক্রেতাদের ব্যাটারিচালিত সুপারকারের প্রতি কোনো আগ্রহই নেই।
“এই প্ল্যাটফর্মে BEV থাকবে না, কারণ এই সেগমেন্টে ইলেকট্রিক গাড়ির কোনো চাহিদা নেই,” বলেছেন Leiters।
অর্থাৎ, সুপারকারের পেছনে কয়েক কোটি টাকা খরচ করার মানুষ তাদের নজরকারা গাড়ির সঙ্গে তাক লাগানো শব্দ চান। নিঃশব্দ বৈদ্যুতিক মোটর হয়তো চোখের পলকে গতি তুলতে পারে, কিন্তু যেসব ক্রেতাদের কাছে ইঞ্জিনের গর্জন গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতার এক অপরিহার্য অংশ, তাদের তাতে মন ভরবে না।
Mission S কনসেপ্টের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত নতুন প্ল্যাটফর্মটিতে জ্বালানি ইঞ্জিন, প্রচলিত হাইব্রিড এবং প্লাগ-ইন হাইব্রিড—সব ধরনের পাওয়ারট্রেন ব্যবহার করা যাবে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাড়িটিতে সম্ভবত ব্যবহার করা হবে একটি ফ্ল্যাট-এইট ইঞ্জিন। তবে Porsche এখনও বিস্তারিত কিছু নিশ্চিত করেনি।
এর মানে এই নয় যে Porsche বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি বন্ধ করে দিচ্ছে। কোম্পানিটি Taycan ও Macan-এর মতো বৈদ্যুতিক মডেল তৈরি অব্যাহত রেখেছে। Cayenne এবং আসন্ন 718 Boxster ও Cayman-ও তাদের বৃহত্তর বিদ্যুতায়ন পরিকল্পনার অংশ। পার্থক্য হলো, Porsche মনে করে সুপারকারের ক্রেতাদের চাহিদা আলাদা। বৈদ্যুতিক 911 তৈরি না করার প্রতিশ্রুতিও কোম্পানিটি ধরে রেখেছে।
এই সিদ্ধান্তে Porsche একা নয়। বিলাসবহুল পারফরম্যান্স গাড়ির পুরো জগৎটাই নির্মাতারা বুঝতে পারছেন। দশ কোটি টাকার সুপারকার কেনার সামর্থ্য যাদের আছে, তারা যে ইঞ্জিনের গর্জনের বদলে নিঃশব্দ ব্যাটারি প্রযুক্তিতে আগ্রহী হবেন, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
Lamborghini CEO Stephan Winkelmann বৈদ্যুতিক পারফরম্যান্স গাড়িকে “ব্যয়বহুল শখ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর যুক্তি, “বাজার ও ক্রেতাগোষ্ঠী এখনও প্রস্তুত নয়।” এর ফলে কোম্পানিটি Lanzador 2+2-কে পুরোপুরি বৈদ্যুতিকগাড়ি হিসেবে তৈরির পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে গাড়িটিতে ব্যবহার করা হবে হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন।
হাইপার্কার নির্মাতা Pagani-ও একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। কোম্পানিটি তাদের Utopia হাইপারকারের একটি ইলেকট্রিক সংস্করণ তৈরির কথা বিবেচনা করেছিল। কিন্তু ক্রেতাদের কাছ থেকে কোন আগ্রহ পাননি প্রতিষ্ঠানটি। ডিলার নেটওয়ার্ক ও ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা করার পর অবশেষে প্রকল্পেটি বাতিল করে দেওয়া হয়।
“আমরা ধারণাটি আমাদের ডিলার ও ক্রেতাদের দেখিয়েছিলাম, কিন্তু কেউই আগ্রহ দেখাননি,” বলেন Pagani।
এরপর রয়েছে Rimac, ক্রোয়েশিয়ার সেই গাড়ি নির্মাতা, যারা সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক Nevera হাইপারকারটি তৈরি করেছে। অসাধারণ পারফরম্যান্স থাকা সত্ত্বেও কয়েক মিলিয়ন ডলারের দামের গাড়িটি ক্রেতা পেতে হিমশিম খেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে Mate Rimac-এর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পরিকল্পিত ১৫০টি গাড়ির উৎপাদনের বিপরীতে বিক্রি হয়েছে মাত্র ৭১টি। অন্যদিকে, Bentley, Aston Martin এবং অন্যান্য বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতাও তাদের ইলেকট্রিক গাড়ির পরিকল্পনা বাতিল করেছে, পিছিয়ে দিয়েছে অথবা উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট করেছে।
সমস্যাটি এমন নয় যে ইলেকট্রিক সুপারকার ধীরগতির কিংবা প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে। বরং বিষয়টি উল্টো। ইলেকট্রিক মোটর তাৎক্ষণিক টর্ক সরবরাহ করে, আর ব্যাটারিচালিত গাড়ি এমন পারফরম্যান্স দিতে পারে, যা এক প্রজন্ম আগেও অসম্ভব বলে মনে হতো।
কিন্তু সুপারকার কেনার সিদ্ধান্ত যুক্তির হিসেব মেনে হয় না। কাজের জায়গায় যাতায়াতের জন্য কারও Porsche, Lamborghini বা Pagani প্রয়োজন নেই। ক্রেতারা টাকা খরচ করেন আওয়াজ, উত্তেজনা, যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং বিশেষ কিছু চালানোর অনুভূতির জন্য। ইঞ্জিন কেবল গাড়ি চালানোর যন্ত্র নয়, এটি গাড়িটির আকর্ষণেরই একটি অংশ।
এখানেই ইলেকট্রিক সুপারকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এগুলো প্রচণ্ড গতিতে ছুটতে পারে, কিন্তু উচ্চস্বরে গর্জন করা ইঞ্জিনের আবেগ অনুকরণ করা এক কথায় অসম্ভব। কৃত্রিম শব্দ দিয়ে এমন কাউকে সন্তুষ্ট করা কঠিন, যিনি সারাজীবন একটি ফ্ল্যাট-সিক্স, V12 কিংবা উচ্চ আরপিএমে ঘোরা V8 ইঞ্জিনের স্বপ্ন দেখে এসেছেন।
সুপারকারের বাজার থেকে আসা বার্তাটি এখন আর উপেক্ষা করা কঠিন। ধনী ক্রেতারা প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য নিঃশব্দ বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিন্তু তাঁদের শখের গাড়িটি হতে হবে বিকট।
Porsche একটি নতুন মিড-ইঞ্জিন সুপারকার নিয়ে কাজ করছে। তবে জার্মান এই প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে, এই গাড়ির কোন পুরোপুরি বৈদ্যুতিক সংস্করণ আসবে না।