প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি পেছাল Aston Martin

ছবিঃ Aston Martin

২০৩০ সালের মধ্যে নিজেদের প্রথম সম্পূর্ণ ব্যাটারিচালিত গাড়ি (BEV) বাজারে আনার পূর্বঘোষিত লক্ষ্য থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে এসেছে ব্রিটিশ বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা Aston Martin।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) Adrian Hallmark বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, Aston Martin বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে না, বরং বর্তমান বাস্তবতায় নিজেদের প্রথম ইভি আনার পরিকল্পনা পিছিয়েছে মাত্র। ২০১৭ সালে তৎকালীন কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সেই লক্ষ্য পরিবর্তন করে এখন ২০৩৩ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যবর্তী তিন বছরের সময়সীমাকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

নতুন সময়ের রূপরেখা নিয়ে Hallmark বলেন, “আমি কোনো নির্দিষ্ট তারিখ দিচ্ছি না, কারণ এটি অনিশ্চিত। এটি ২০৩৫ হতে পারে, আবার ২০৩৩-ও হতে পারে—তবে এই তিন বছরের ভেতরেই তা হবে। এটি ২০৩১ সালে হচ্ছে না।”

নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্র্যান্ডটির ঐতিহ্যবাহী V8 এবং V12 জ্বালানি চালিত ইঞ্জিনগুলো অন্তত ২০৩৫ সাল পর্যন্ত উৎপাদনে থাকছে। আন্তর্জাতিক কড়া পরিবেশ ও নির্গমন নীতি মেনে চলতে নিজেদের ছোট ও বড় ক্ষমতার ইঞ্জিনের প্রযুক্তিকে হালনাগাদ রাখছে তারা।

Hallmark জানান, আগামী এক দশকে তাদের মূল বিক্রি ধরে রাখবে পেট্রোল চালিত গাড়িগুলো—বিশেষ করে ২ লাখ ৬০ হাজার ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা) টুইন-টার্বো V8 DBX GT SUV-র মতো উচ্চ মুনাফার মডেলগুলো। নিয়মকানুন মেনে চলতে প্রথাগত ইঞ্জিনের সাথে মাইল্ড বা স্ট্যান্ডার্ড হাইব্রিড যুক্ত করা হলেও, অতিরিক্ত ব্যাটারির ওজন ও চার্জিং ঝক্কি এড়াতে প্লাগ-ইন হাইব্রিড এড়িয়ে চলছে তারা।

বর্তমানে ইভি খাতকে কেবল প্রাথমিক গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে Aston Martin। এই বিলম্বের কারণে ব্যাটারি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান Lucid-এর চুক্তি থেকে ভবিষ্যতে আরও উন্নত ব্যাটারি প্রযুক্তি পাওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ও কারিগরি সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন তারা।

ছবিঃ Aston Martin Rapide E

বর্তমানে নিজেদের গাড়ির জন্য Mercedes-AMG V8 ইঞ্জিন এবং Mercedes-Benz-এর বৈদ্যুতিক অবকাঠামো ব্যবহার করলেও, পরবর্তী প্রজন্মের নিজস্ব স্পোর্টস কার প্ল্যাটফর্ম ও কাস্টম ইঞ্জিনের বিকাশও অব্যাহত রেখেছে ব্র্যান্ডটি।

সংবাদমাধ্যম Autocar জানিয়েছে, কোনো একটি নির্দিষ্ট তারিখের ওপর ভরসা না করে বাজারের বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে তারা। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের একের পর এক পরিবর্তনের পর এখন প্রতিষ্ঠানটিকে একটি "স্বাভাবিক জায়গায়" ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেন সিইও।

Aston Martin-এর এই সিদ্ধান্ত সুপারকার ও এক্সোটিক গাড়ি শিল্পের সামগ্রিক গতিপথেরই প্রতিফলন। যেখানে Lamborghini, Bentley এবং Porsche-র মতো ব্র্যান্ডগুলো তাদের আগ্রাসী ব্যাটারি-ইলেকট্রিক লক্ষ্যমাত্রা পিছিয়ে এনেছে এবং Pagani-র মতো হাইপারকার নির্মাতারা বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রজেক্ট পুরোপুরি বাতিলই করে দিয়েছে।

ছবিঃ Aston Martin Vanquish

তেল সাশ্রয় বা পরিবেশের বার্তা দেওয়া নয়—যে ব্র্যান্ডের মূল আকর্ষণই হলো ইঞ্জিনের গর্জন আর খাঁটি যান্ত্রিক রোমাঞ্চ, সেখানে বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির আবেদন কার্যত অনুপস্থিত। কারণ, কোটি কোটি টাকা খরচ করে যেসকল বিত্তবান ক্রেতারা এসব গাড়ি কেনেন, পরিবেশবান্ধব নিঃশব্দ বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে তাদের তেমন কোনো আগ্রহই নেই

Previous
Previous

১০ লাখ গাড়ি উৎপাদন করল BMW M

Next
Next

স্মরণসভায় Mazda-র অনন্য ‘পপি আর্ট কার’