আবারও হাইব্রিডেই ভরসা রাখছে Honda
ছবিঃ Honda
নিজেদের বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রকল্প বাতিল করে ৯ বিলিয়ন ডলার লোকসানের পর আবার হাইব্রিড প্রযুক্তিতেই ফিরছে জাপানি গাড়ি নির্মাতা Honda।
প্রতিষ্ঠানটি তাদের পরবর্তী প্রজন্মের হাইব্রিড সিস্টেমের নাম দিয়েছে “Honda Hybrid”। তাদের পরিকল্পনা করছে ২০৩০ সালের ৩১ মার্চে শেষ হতে যাওয়া অর্থবছরের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ১৫টি নতুন হাইব্রিড মডেল বাজারে আনবে। নতুন এই মডেলগুলোর বেশিরভাগই তৈরি করা হচ্ছে উত্তর আমেরিকার বাজারকে লক্ষ্য করে। আশা করা হচ্ছে প্রথম গাড়িগুলো আগামী বছরই রাস্তায় নামবে।
গাড়িগুলোর জন্য নতুন একটি ভেহিকল আর্কিটেকচার তৈরি করছে Honda। বডি আরও মজবুত করার পাশাপাশি ওজন কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন লাইনআপে CR-V ও Civic-এর হালনাগাদ সংস্করণও থাকতে পারে। পাশাপাশি থাকবে পূর্ণ আকারের SUV।
নতুন সিস্টেমটি Honda-এর বিদ্যমান e:HEV প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হচ্ছে। এতে রয়েছে একটি পেট্রোল ইঞ্জিন, একটি বৈদ্যুতিক মোটর এবং একটি জেনারেটর। গাড়ির গতি কমানোর সময় জেনারেটর বৈদ্যুতিক শক্তি পুনরুদ্ধার করে ব্যাটারিতে পাঠিয়ে দেয়। বৈদ্যুতিক মোটরটি একাই সামনের চাকা চালাতে পারে, আবার পেট্রোল ইঞ্জিনের সঙ্গেও কাজ করতে পারে। আর প্রয়োজন হলে পেট্রোল ইঞ্জিন সরাসরি চাকায় শক্তি সরবরাহ করতে পারবে।
দুই চাকা চালিত গাড়ির পাশাপাশি Honda e-AWD নামে নতুন একটি বৈদ্যুতিক অল-হুইল-ড্রাইভ সিস্টেমও তৈরি করছে। প্রচলিত ব্যবস্থায় ইঞ্জিন ও গিয়ারবক্স থেকে যান্ত্রিক সংযোগের মাধ্যমে পেছনের চাকায় শক্তি পাঠানো হয়। কিন্তু e-AWD-তে পেছনের চাকা চালানোর জন্য আলাদা একটি বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হবে। এতে রাস্তার সঙ্গে চাকার গ্রিপ বাড়তে পারে। পাশাপাশি গাড়ির নকশা ও প্রকৌশলগত বিন্যাস নিয়ে আরও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে Honda।
ধারণা করা হচ্ছে বাতিল হয়ে যাওয়া 0 Series প্রকল্পের জন্য তৈরি কিছু প্রযুক্তিও e-AWD সিস্টেমে কাজে লাগানো হবে। অর্থাৎ, ৯ বিলিয়ন ডলারের সেই ব্যয়বহুল প্রকল্পের সবকিছুই যে শেষ পর্যন্ত বিফলে যাচ্ছে, তা নয়। তবে সাধারণ হাইব্রিড গাড়ির ব্যাটারি প্লাগ-ইন হাইব্রিডের তুলনায় অনেক ছোট। ফলে এই সিস্টেমে শুধু বৈদ্যুতিক শক্তিতে গাড়ি চালানো যাবে সীমিত দূরত্ব।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারকে লক্ষ্য করে তৈরি বড় SUV-গুলোর ক্ষেত্রে জ্বালানি সাশ্রয়ে আরও উল্লেখযোগ্য উন্নতি আনতে চায় Honda। একটি নতুন V6 পেট্রোল ইঞ্জিনের সঙ্গে নতুন বৈদ্যুতিক মোটর ও উন্নত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করে পূর্ণ আকারের হাইব্রিড SUV-গুলোর জ্বালানি দক্ষতা নন-হাইব্রিড মডেলের তুলনায় ৩০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
Honda-র বৈদ্যুতিক গাড়ি ছেড়ে হাইব্রিড গাড়ির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক। বাজারে পুরোপুরি বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা এখনো কম। নির্মাতাদের ব্যাটারি, প্ল্যাটফর্ম ও উৎপাদন কারখানায় বিপুল বিনিয়োগ করতে হয়, অথচ বিভিন্ন বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার তেমন কোনো আগ্রহ নেই। অন্যদিকে, হাইব্রিড গাড়ি ক্রেতাদের সম্পূর্ণভাবে চার্জিং অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল না করেই জ্বালানি সাশ্রয়ের সুযোগ দেয়। প্রযুক্তিটিও ক্রেতাদের কাছে তুলনামূলক পরিচিত।
বিশেষ করে উত্তর আমেরিকায় হাইব্রিড গাড়ির বাজার বাড়ছে। ক্রেতারা পেট্রোলচালিত গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা ধরে রেখেই জ্বালানি খরচ কমাতে চান। এই প্রযুক্তিতে Honda-এর আগে থেকেই অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে একেবারে শূন্য থেকে শুরু করার বদলে প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তির ভিত্তিতেই নতুন গাড়ি তৈরি করতে পারবে তারা।
Honda-এর পরিকল্পনায় এখনো বৈদ্যুতিক গাড়ি রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির নতুন কৌশল দেখে মনে হচ্ছে, শুধু একটি প্রযুক্তির ওপর তারা আগের মতো বাজি ধরতে আর আগ্রহী নন। 0 Series বাতিলের বিপুল আর্থিক ক্ষতির পর Honda-র এমন গাড়ি প্রয়োজন, যা আরও একটি বিশাল ব্যয়ের বোঝা না চাপিয়েই মুনাফা এনে দেবে।
নিজেদের বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রকল্প বাতিল করে ৯ বিলিয়ন ডলার লোকসানের পর আবার হাইব্রিড প্রযুক্তিতেই ফিরছে জাপানি গাড়ি নির্মাতা Honda।