Range Rover Sport Electric-এর আত্মপ্রকাশ

ছবিঃ JLR

অভিজাত সাব-ব্র্যান্ড Range Rover-এর অধীনে তাদের তৈরি দ্বিতীয় অল-ইলেকট্রিক যান হিসেবে ‘Range Rover Sport Electric’ উন্মোচন করেছে Jaguar Land Rover। ফ্ল্যাগশিপ Range Rover Electric-এর সাথে ব্র্যান্ডটির পাওয়ারট্রেন বৈদ্যুতিকীকরণের বহরে যুক্ত হলো নতুন এই মডেল।

যুক্তরাজ্যের Solihull-এ অবস্থিত JLR-এর বিশেষ কারখানায় প্রথাগত আইসিই (ইন্টারনাল কম্বাশন ইঞ্জিন) ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড মডেলগুলোর সাথে একই অ্যাসেম্বলি লাইনে এটি তৈরি করা হচ্ছে। মূল মডেলের আইকনিক বাহ্যিক রূপ বজায় রেখেই এতে যুক্ত করা হয়েছে অভাবনীয় পারফরম্যান্স ও পাওয়ারট্রেন প্রযুক্তি।

চার চাকায় শক্তি জোগাতে এতে ব্যবহার করা হয়েছে জোড়া ইলেকট্রিক মোটর, যা সম্মিলিতভাবে ৫৪৩ হর্সপাওয়ার এবং ৮৫০ Nm টর্ক উৎপন্ন করে। এর ফলে এটি ব্র্যান্ডের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী Range Rover সংস্করণের মর্যাদা পেয়েছে—যা BMW-র ৪.৪ লিটার টুইন-টার্বো V8 ইঞ্জিনচালিত ফ্ল্যাগশিপ SV মডেলের শক্তিকেও ছাড়িয়ে গেছে। এর ইনস্ট্যান্ট ইলেকট্রিক পাওয়ারট্রেন সাধারণ Range Rover Electric-এর চেয়ে ৫০ শতাংশ দ্রুত গতিতে টর্ক সরবরাহ করে; যার ফলে এই ভারী এসইউভি মাত্র ৪.৩ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ১০০ কিমি/ঘণ্টা (৯৬ কিমি/ঘণ্টা) গতি তুলতে সক্ষম।

বাহ্যিক রূপ একই থাকলেও এর ভেতরের চ্যাসিস কাঠামোতে আনা হয়েছে বিশাল পরিবর্তন। এটি আগের প্লাগ-ইন হাইব্রিড সংস্করণের চেয়ে ৬১ শতাংশ বেশি শক্ত এবং এর সেন্টার অব গ্র্যাভিটি ৭৩ মিমি নামিয়ে আনা হয়েছে। ব্যাটারির বিপুল ওজন থাকা সত্ত্বেও এর অফ-রোড সক্ষমতায় কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি—এটি ৪৫-ডিগ্রি খাড়া পাহাড়ি পথ অনায়াসে টপকাতে পারে এবং ৯০০ মিমি (প্রায় ৩ ফুট) জমা পানির ভেতর দিয়ে চলতে সক্ষম। এর স্থায়িত্ব ও সক্ষমতা পরীক্ষার জন্য Italy-র কারারা মার্বেল খাদে ৩,০০০ ফুটেরও বেশি উঁচু খাড়া পাহাড়ি পথ ও জটিল ট্রেইলে প্রোটোটাইপ গাড়িগুলোর কঠোর পরীক্ষা চালানো হয়।

দ্রুততম চার্জিংয়ের জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৮০০-ভোল্ট আর্কিটেকচার এবং একটি বিশাল ১১৮.৫ kWh লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্যাক। ইউরোপীয় WLTP স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী এটি এক চার্জে ৩৭৮ মাইল (৬০৯ কিলোমিটার) পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে পারে। হাই-পাওয়ার ডিসি (DC) ফাস্ট চার্জারের সাথে যুক্ত করলে মাত্র ২২ মিনিটে ব্যাটারির ১০ থেকে ৮০ শতাংশ চার্জ সম্পন্ন হয়, কিংবা স্রেফ ১০ মিনিটের চার্জেই গাড়িটি ১৩৬ মাইল (২২০ কিমি) পথ চলার শক্তি সঞ্চয় করতে পারে।

গাড়ির ভেতরে কৃত্রিম অডিও সিগনেচার যুক্ত করা হয়েছে, যা বিভিন্ন ড্রাইভিং মোডের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। বাজারে উচ্চ পারফরম্যান্সের ইলেকট্রিক ক্রসওভার, যেমন—আসন্ন Porsche Cayenne Electric-এর সাথে এটি সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

ক্রেতারা চাইলে এটি Dynamic SE, Autobiography এবং First Edition—এই তিনটি ট্রিম বা স্পেসিফিকেশনে বেছে নিতে পারবেন। যুক্তরাজ্যে এর সর্বনিম্ন সংস্করণ Dynamic SE-র দাম রাখা হয়েছে ১,০৯,৮১০ পাউন্ড। Autobiography সংস্করণের দাম ১,২২,৭৮০ পাউন্ড এবং শীর্ষ সংস্করণ First Edition-এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১,২৬,২৯০ পাউন্ড (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা)।

সুগঠিত এবং আকর্ষণীয় চেহারার পাশাপাশি প্রথাগত আভিজাত্য আর দাম—সবই বজায় রেখেছে নতুন Range Rover Sport Electric। এখন দেখার বিষয়, তাদের এই নতুন ইলেকট্রিক ড্রাইভট্রেন ব্র্যান্ডটির দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্যতার সমস্যা দূর করতে পারে কি না।

Previous
Previous

কোণাকুণি নকশায় নতুন Tucson

Next
Next

জাপান ছাড়ছে Toyota-র Century