যুক্তরাজ্যে বিক্রির শীর্ষে চীনা Jaecoo 7

ছবিঃ Jaecoo

ইউরোপজুড়ে চীনা গাড়িগুলোর আগ্রাসী উপস্থিতির একটি বড় মাইলফলক রচিত হলো যুক্তরাজ্যে; সেখানে গত মাসে বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া গাড়ির মুকুট ছিনিয়ে নিয়েছে চীনের তৈরি একটি ক্রসওভার।

'Society of Motor Manufacturers and Traders' (SMMT)-এর তথ্য অনুযায়ী, গাড়ির বাজারে কৌতুকভরে "Temu Range Rover" নামে পরিচিত 'Jaecoo 7' গত সেপ্টেম্বর মাসে ১০,৮০০-এরও বেশি নিবন্ধনের মাধ্যমে শীর্ষস্থান দখল করে নেয়। এ নিয়ে চলতি বছরে দ্বিতীয়বারের মতো মাসের সর্বাধিক বিক্রিত গাড়ির তালিকায় স্থান করে নিল এই এসইউভি-টি; যা পিছনে ফেলে দিয়েছে Tesla Model 3, Ford Puma এবং Kia Sportage-এর মতো বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয় গাড়িগুলোকে।

Jaecoo 7-এর এই বাণিজ্যিক সাফল্যের বড় কারণ হলো বিলাসবহুল ডিজাইনের অনুকরণ এবং অবিশ্বাস্য রকমের কম দাম। দেখতে অনেকটা Range Rover Velar-এর নকশার কাছাকাছি হলেও, এই প্লাগ-ইন হাইব্রিড ক্রসওভারটির প্রারম্ভিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩০,০০০ পাউন্ড (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা)। অর্থাৎ মূল Velar-এর চেয়ে এর দাম প্রায় ২৬,০০০ পাউন্ড কম (যা প্রায় ৪২ লাখ ২৫ হাজার টাকা সাশ্রয়ী)। European Union যেখানে চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির ওপর কড়া শুল্ক আরোপ করেছে, সেখানে যুক্তরাজ‍্য এখনো চীনা যানবাহনের ওপর কোনো অতিরিক্ত শুল্ক চাপায়নি; ফলে আমদানিকারকরা বিশাল মূল্য সুবিধা পাচ্ছেন।

এই ক্রসওভারের অভাবনীয় সাফল্য ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জে গ্রাহকদের রুচির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। Bloomberg-এর সংগৃহীত তথ্যে দেখা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাজ্যের মোট গাড়ির বাজারের প্রায় ২৩ শতাংশই দখল করে রেখেছিল চীনের তৈরি গাড়িগুলো। SMMT-এর ব্র্যান্ডভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, বাজারে Jaecoo-র শেয়ার ছিল ৪.৩ শতাংশ, পাশাপাশি তাদের মূল প্রতিষ্ঠান Chery-র ২.৮ শতাংশ এবং BYD-র দখলে ছিল ৫.৭৫ শতাংশ। Autocar-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্লাগ-ইন হাইব্রিড নিবন্ধন ৫৫.৭ শতাংশ বেড়ে মোট নিবন্ধিত ইউনিট দাঁড়িয়েছে ৫৯,৫৬৩-তে।

তবে রেকর্ড বিক্রির খবরের মাঝেও গাড়িটির স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর সংশয়। 'What Car'-এর নির্ভরযোগ্যতা সমীক্ষায় চলতি বছর যুক্তরাজ্যের বাজারে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে অনির্ভরযোগ্য ১০টি গাড়ির তালিকায় স্থান পেয়েছে Jaecoo 7। গাড়িটির বেশিরভাগ মালিকেরই প্রধান অভিযোগ এর নন-পাওয়ারট্রেন ইলেকট্রনিকসের যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে। আরও আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, ভুক্তভোগী মালিকদের প্রায় ৬৫ শতাংশ জানিয়েছেন যে এই যান্ত্রিক গোলযোগ মেরামতের জন্য তাদের এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের র বাজারেও গাড়িটি 'J7' নামে বিক্রি হচ্ছে। তবে স্থানীয় ড্রাইভিং পরিস্থিতিতে গাড়িগুলো খুব কম দূরত্ব অতিক্রম করায় যুক্তরাজ্যের বাজারের মতো যান্ত্রিক ও ইলেকট্রনিক সমস্যা এখানেও দেখা দেবে কি না—তা সময়ই বলে দেবে।

Previous
Previous

Porsche 944 Shooting Brake উন্মোচন

Next
Next

বাংলাদেশেই হাইব্রিড গাড়ি বানাবে Toyota