প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি উন্মোচন করল Bentley

ছবিঃ Bentley

প্রথমবারের মতো নিজেদের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘Torcal’ উন্মোচন করেছে বিলাসবহুল ব্রিটিশ গাড়ি প্রস্তুতকারক Bentley। মধ্যম আকারের এই বিলাসবহুল ইলেকট্রিক SUV-টি গতি ও সক্ষমতার দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুতগতির গাড়ি।

গাড়িটির বাহ্যিক নকশায় ব্রিটিশ আভিজাত্য পুরোপুরি বজায় রাখা হয়েছে। এর সামনে রয়েছে Bentley-র সিগনেচার চারকোনা গ্রিল, যাতে যুক্ত হয়েছে আলোকোজ্জ্বল ক্রিস্টাল ডায়মন্ড প্যাটার্ন।

পেছনের অংশে ১৯৩০-এর দশকের যুদ্ধপূর্ব ‘Blower’ রেসারের অনুপ্রেরণায় দেওয়া হয়েছে বিশেষ কোচ হাম্প।

তবে ঐতিহ্যের এই ছোঁয়া বাস্তবে ফুটিয়ে তোলার নকশাটি কয়েকটি জায়গায় হোঁচট খেয়েছে; নির্দিষ্ট কিছু কোণ থেকে গাড়িটিকে দেখলে মনে হয় এটি কোনো অপেশাদার ডিজিটাল কারসাজি (digital manipulation) করা ছবি।

Torcal-এর যান্ত্রিক কাঠামো Volkswagen গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান Porsche-র Cayenne Electric প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। গাড়িটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ৫ মিটার, যা Bentley-র বর্তমান পোর্টফোলিওতে সবচেয়ে ছোট চার দরজার গাড়ি।

গাড়িটি বাজারে আসবে দুটি ট্রিমে। প্রারম্ভিক স্ট্যান্ডার্ড মডেলে থাকবে ৮১০ হর্সপাওয়ার এবং ৮৮১ পাউন্ড-ফুট টর্ক। আর শীর্ষ সংস্করণ 'Torcal S' দেবে ৮৭৬ হর্সপাওয়ার ও প্রায় ১,০০০ পাউন্ড-ফুট টর্ক—যা সবচেয়ে শক্তিশালী Bentayga-র চেয়েও ২৩৫ হর্সপাওয়ার বেশি। গাড়িটি মাত্র ২.৮ সেকেন্ডে ঘণ্টায় শূন্য থেকে ৬০ মাইল গতি তুলতে পারে, যা Bentley-র ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম।

যান্ত্রিক সুবিধার্থে এতে Cayenne Electric-এর ‘Active Ride’ সাসপেনশনকে কিছুটা নরম ও আরামদায়ক করে যুক্ত করা হয়েছে। আর ইঞ্জিনপ্রেমীদের রোমাঞ্চ দিতে এতে ড্রামারদের অনিয়মিত বিটে তৈরি বিশেষ কৃত্রিম শব্দ যুক্ত করা হয়েছে।

এতে ৮০০-ভোল্ট আর্কিটেকচারে তৈরি ১০৮ কিলোওয়াট-আওয়ারের (kWh) একটি বিশাল ব্যাটারি প্যাক ব্যবহার করা হয়েছে। ইউরোপীয় WLTP নিয়মানুযায়ী এটি একবার চার্জে প্রায় ৩৭৫ মাইল চলবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের EPA হিসেবে ৩০০ মাইলের কিছু বেশি হতে পারে। এছাড়া ডিসি ফাস্ট চার্জারের মাধ্যমে মাত্র ১৬ মিনিটে গাড়িটির ব্যাটারি ১০ থেকে ৮০ শতাংশ চার্জ করা সম্ভব।

কেবিনের অভ্যন্তরীণ নকশায় Porsche Cayenne-এর কাঠামোর সাদৃশ্য থাকলেও ঐতিহ্যবাহী ধাতব বেজেল ও কাঠের অ্যাকসেন্ট বজায় রাখা হয়েছে। বিলাসবহুল কেবিনের ভেতরে রয়েছে উচ্চমানের চামড়া, কাঠের স্তর, Torcal S-এর কার্বন ফাইবার এবং অটোমোবাইল শিল্পে প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত মেরিনো উল আপহোলস্ট্রি।

ড্যাশবোর্ডে একটি বাঁকানো গ্লাস ডিসপ্লে থাকলেও যাত্রীদের জন্য আলাদা কোনো ডিসপ্লে রাখা হয়নি। প্রোডাক্ট লাইন ডিরেক্টর Martin Page জানিয়েছেন, প্রযুক্তি যেন যাত্রার অভিজ্ঞতায় আধিপত্য বিস্তার না করে এবং কেবল যথার্থ উপযোগিতা যোগ করে, সেজন্য এই কৃত্রিম চমক বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে এতে যুক্ত রয়েছে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় পার্কিং ব্যবস্থা, যা শেষ ৫০০ মিটারের পথ মনে রেখে গাড়িটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট গ্যারেজে পার্ক করতে সক্ষম।

গাড়িটির প্রারম্ভিক মডেলের দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার পাউন্ড, যা প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৮১ লাখ ২৫ হাজার টাকা)। এটি ব্র্যান্ডটির বিদ্যমান Bentayga মডেলের প্রাথমিক দামের প্রায় সমান। অন্যদিকে, এর অধিক শক্তিশালী সংস্করণ ‘Torcal S’-এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা)।

যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক Crewe কারখানায় গাড়িটির উৎপাদন করা হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিমান ইঞ্জিন তৈরির জন্য পরিচিত এই ঐতিহাসিক কারখানায় এখন স্বয়ংক্রিয় স্লেড ও এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ করা হচ্ছে, যা শূন্য-নির্গমন যুগে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়েছে।

Previous
Previous

রেট্রো Z Kaze কনসেপ্টে নব্বইয়ের দশক ফিরিয়ে আনল Nissan

Next
Next

নকল ম্যানুয়াল বানাচ্ছে Porsche