আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন জীবন পেল পরিত্যক্ত Fiat 500

প্রায় ২৫ বছর ধরে এক খামারবাড়িতে পড়ে থাকা একটি ক্লাসিক Fiat 500 গাড়িকে প্রায় ২ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নতুন জীবন দিয়েছে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান La Cinquecento।

Cinquecento-র প্রতিষ্ঠাতা Max Kindersley পশ্চিম বার্কশায়ারে নিজের পারিবারিক খামারবাড়িতে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা একটি ১৯৭৩ সালের Fiat 500 R গাড়িকে এই প্রকল্পের জন্য বেছে নেন। এই রেস্টোমোডের পেছনের দর্শন তুলে ধরে Kindersley জানান, আসল গাড়িটিকে যা বিশেষ করে তুলেছিল সেসব বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখেই প্রযুক্তির দিক থেকে এটিকে কতটা নিখুঁত করা যায়, সেটাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।

কাজ শেষে গত ৯ সেপ্টেম্বর Tutto Bene Hillclimb অনুষ্ঠানে গাড়িটি "500 Scattante" নামে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আনা হয়।

ভিন্টেজ লুক ধরে রাখলেও যান্ত্রিকভাবে গাড়িটি সম্পূর্ণ আধুনিক। 500 Scattante মডেলে আগের মতোই পেছনে স্থাপিত দুই সিলিন্ডারের ইঞ্জিন ও ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স রাখা হয়েছে। তবে মূল ইঞ্জিনের জায়গায় এতে যুক্ত করা হয়েছে Fiat 126 থেকে নেওয়া একটি ৮০২ সিসি (802 cc) ইঞ্জিন। এর থ্রটল রেসপন্স বাড়াতে ব‍্যবহার করা হয়েছে টুইন-স্পার্ক ইগনিশন, যদিও এর সঠিক হর্সপাওয়ারের হিসাব প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

কাগজে-কলমে সুবিশাল স্পেসিফিকেশনের চেয়ে চালকের গাড়ি চালানোর নিখুঁত অনুভূতিকে প্রাধান্য দিয়ে গাড়িটির সাসপেনশন, ব্রেক, স্টিয়ারিং, কুলিং ও ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়েছে। কাঠামোগত শক্তি বৃদ্ধি ও আধুনিক যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণে গাড়ির ওজন গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৫০ কেজিতে (১,৪৩৩ পাউন্ড), যা Dante Giacosa-র মূল ডিজাইনের চেয়ে প্রায় ১৫০ কেজি বেশি।

মিলানভিত্তিক ডিজাইন স্টুডিও BorromeodeSilva গাড়িটির বাহ্যিক নকশা নতুন করে সাজিয়েছে। ক্লাসিক Cinquecento-র পরিচিত রূপ বজায় রেখেই এতে চওড়া ফেন্ডার, গভীর সাইড সিল এবং র‍্যালি রেসের অনুপ্রেরণায় চারটি গোলাকার হেডলাইট যুক্ত করা হয়েছে। গাড়ির ভেতরের অংশে ১৯৭০-এর দশকের আবহ বজায় রাখা হয়েছে; যেখানে রয়েছে অ্যানালগ মিটার, টু-স্পোক স্টিয়ারিং হুইল এবং পরিচ্ছন্ন ক্লাসিক সুইচগিয়ার।

সংগ্রাহকদের জন্য প্রতি বছর নির্দিষ্ট নাম্বারিং করা হাতে গোনা কয়েকটি এমন গাড়ি তৈরি করবে La Cinquecento। আগ্রহী ক্রেতারা 500.design ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরাসরি নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী গাড়িটি কাস্টমাইজ করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো দাম প্রকাশ করেনি, কারণ প্রতিটি গাড়ির মূল্য নির্ভর করবে ক্রেতার চাহিদামাফিক পরিবর্তনের ওপর। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, গাড়িটির আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

Previous
Previous

নিজের গাড়ি নিলামে তুলছেন Jeremy Clarkson

Next
Next

হাইড্রোজেন Hilux আনছে Toyota