হাইড্রোজেন Hilux আনছে Toyota

মরুভূমির বুকে Dakar Rally-র জন্য হাইড্রোজেনচালিত মডেলের ঘোষণার পরপরই এবার সাধারণ ক্রেতাদের উপযোগী হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তির Hilux আনার ঘোষণা দিল Toyota।

Hannover-এ আয়োজিত ‘IAA Transportation 2026’-এ প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২৮ সালে তারা এই হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল পিকআপ বাজারে ছাড়বে। এটি মূলত ইউরোপের পেশাদার ও বাণিজ্যিক বহর পরিচালনাকারী (Commercial fleet) গ্রাহকদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হচ্ছে।

গাড়িটিতে হাইড্রোজেন কম্বাশন ইঞ্জিনের পরিবর্তে ফুয়েল সেল ইলেকট্রিক সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে, যা হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে ভেতরেই উৎপন্ন করে এবং সাইলেন্সার দিয়ে ধোঁয়ার বদলে কেবল জলীয় বাষ্প নির্গত করে। প্রতিষ্ঠানটির Mirai যাত্রীবাহী সেডানের পাওয়ারট্রেনের ওপর ভিত্তি করে গাড়িটি তৈরি হচ্ছে।

নবম প্রজন্মের এই মডেলটি Hilux প্ল্যাটফর্মে ব্যাটারি-ইলেকট্রিক, ডিজেল ও গ্যাসোলিন সংস্করণের পাশাপাশি একটি নতুন বিকল্প হিসেবে লাইনআপে যুক্ত হবে। এবং এর ইউরোপের বাজারে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রিত প্রথম মিড-সাইজ হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল পিকআপ ট্রাক হিসেবে জায়গা করে নেয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে।

বাণিজ্যিক সক্ষমতার দিক থেকে গাড়িটি বেশ আশাব্যঞ্জক। WLTP নিয়মানুযায়ী এটি একবার পূর্ণ জ্বালানিতে প্রায় ২৪৮ মাইল চলতে পারবে এবং সর্বোচ্চ ৫,৫১২ পাউন্ড (২,৫০০ কেজি) পর্যন্ত ওজন টানতে সক্ষম।

ব্যাটারি-ইলেকট্রিক Hilux-এর তুলনায় ফুয়েল সেল সংস্করণের বেশ কিছু লক্ষণীয় সুবিধা রয়েছে। ব্যাটারিচালিত সংস্করণটির রেঞ্জ যেখানে মাত্র ১৪৯ থেকে ১৫২ মাইল, সেখানে ফুয়েল সেল গাড়িটির রেঞ্জ ২৪৮ মাইল। এছাড়া ব্যাটারিচালিত গাড়ির সর্বোচ্চ ৪,৪১০ পাউন্ড ওজন টানার ক্ষমতার বিপরীতে হাইড্রোজেন সংস্করণটি টানতে পারে ৫,৫১২ পাউন্ড। সবচেয়ে বড় পার্থক্য জ্বালানি নেওয়ার সময়ে—যেখানে ইলেকট্রিক Hilux-কে ডিসি ফাস্ট চার্জারে ১০ থেকে ৮০ শতাংশ চার্জ করতেই প্রায় ৩০ মিনিট লাগে, সেখানে হাইড্রোজেনের রিফুয়েলিংয়ে সময় লাগে মাত্র ৩ থেকে ৫ মিনিট।

প্রাথমিক বাণিজ্যিক কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যক্তিগত খুচরা ক্রেতাদের চেয়ে করপোরেট ফ্লিট ও লিজিং কোম্পানিগুলোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে Toyota। তবে গাড়িটির আনুষ্ঠানিক মূল্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

তবে ইউরোপজুড়ে হাইড্রোজেন নেটওয়ার্কের প্রসারের ওপরই মডেলটির চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করছে। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১৩ লাখেরও বেশি পাবলিক ইলেকট্রিক চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে, যার বিপরীতে যুক্তরাজ্যসহ পুরো ইউরোপে সর্বসাধারণের উপযোগী হাইড্রোজেন রিফুয়েলিং স্টেশন রয়েছে মাত্র ২০০টির কাছাকাছি।

Previous
Previous

আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন জীবন পেল পরিত্যক্ত Fiat 500

Next
Next

মার্কিন বাজার গুঁড়িয়ে দিতে পারে চীন: Hyundai