গাড়ি ডাম্পিংয়ের অভিযোগ উড়িয়ে দিল Leapmotor

ছবিঃ Leapmotor

অবিক্রীত গাড়ি দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বাজারে সয়লাব করে দিচ্ছে, এমন অভিযোগ নাকচ করেছে চিনা গাড়ি প্রতিষ্ঠান Leapmotor।

কোম্পানিটির দাবি, বিপুলসংখ্যক গাড়ি পাঠিয়ে ক্রেতা খোঁজার বদলে সম্ভাব্য চাহিদার ভিত্তিতেই গাড়ির অর্ডার দেওয়া হয়।

সম্প্রতি BYD-সহ অন্যান্য চীনা ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ায় বিপুলসংখ্যক অবিক্রীত গাড়ি জমিয়ে রাখার খবরের জের ধরে Leapmotor-এর এই দাবি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে উদ্বৃত্ত গাড়ি রাখার জন্য এই চীনা ব্র্যান্ড বেছে নিয়েছে থিম পার্কের পার্কিং লটের মত অনেক অপ্রচলিত জায়গা।

Leapmotor Australia-র প্রধান Andy Hoang CarExpert-কে জানিয়েছেন, Stellantis-এর অংশ হওয়ায় চীনা ব্র্যান্ডটি গাড়ির মজুত ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সুসংগঠিত পদ্ধতির সুবিধা পাচ্ছে।

“Stellantis-এর অংশ হওয়ার অন্যতম বড় সুবিধা হলো... আমাদের গাড়ির মজুত ও ইনভেন্টরি পরিচালনার জন্য একটি অত্যন্ত কঠোর প্রক্রিয়া রয়েছে,” বলেছেন Hoang।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, কোম্পানির প্রধান কার্যালয় থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া কোনো বিক্রির লক্ষ্যমাত্রার ভিত্তিতে তারা গাড়ি গ্রহণ করেন না।

“আমাদের প্রধান কার্যালয় শুধু এমন নির্দেশ দেয় না যে, ‘তোমাদের এক হাজার গাড়ি বিক্রি করতে হবে, তাই আমরা এক হাজার গাড়ি পাঠিয়ে দেব। এরপর তোমরা বাকিটা বুঝে নাও।’”

এর পরিবর্তে, বিক্রির পূর্বাভাস, প্রয়োজনীয় মজুত এবং কোম্পানি কতসংখ্যক গাড়ি হাতে রাখতে চায়—এসব বিষয় বিবেচনা করে গাড়ির অর্ডার দেওয়া হয়। প্রতি মাসে অর্ডার পর্যালোচনা করা হয়।

“আমাদের চাহিদার পূর্বাভাস নির্ধারণের সময় আমরা বিবেচনা করি, ‘আমরা কতগুলো গাড়ি বিক্রি করতে পারব? আমাদের কতগুলো গাড়ি প্রয়োজন? আমরা কতটা মজুত রাখতে চাই?’ প্রতি মাসে অর্ডার দেওয়ার প্রক্রিয়ায় এসব বিষয় নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়। তাই গাড়ির মজুতের দিক থেকে আমাদের অবস্থান বেশ ভালো,” বলেন Hoang।

Leapmotor ২০২৪ সালে C10 মিডসাইজ SUV নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বাজারে প্রবেশ করে। এরপর ২০২৫ সালে আনে ছোট B10। বর্তমানে ব্র্যান্ডটি B05 ছোট হ্যাচব্যাক বাজারে আনছে। অন্যদিকে, B03X ছোট SUV-টি নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার শোরুমগুলোতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

স্বাভাবিকভাবেই, কোন মডেল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে এবং কত দিন আগে সেটি বাজারে এসেছে, তার ওপর গাড়ির মজুতের পরিমাণ নির্ভর করে।

Hoang বলেন, “আমাদের কাছে C10 এবং B10-এর মজুত রয়েছে, কারণ এই গাড়িগুলো ইতিমধ্যে বাজারে এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই, এই মুহূর্তে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত B05 নেই, কারণ মডেলটি একেবারেই নতুন। আর B03X এখনও বাজারে আসেনি।”

তিনি আরও জানান, প্রতিটি মডেলের ক্ষেত্রেই একই অর্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।

“আমরা যে গাড়িগুলো চাই, সেগুলোর অর্ডার দেওয়ার জন্য একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করি। বিষয়টি কখনোই উল্টোভাবে ঘটে না,” তিনি যোগ করেন।

Leapmotor আরও জানিয়েছে, খুব অল্প সময়ে অতিরিক্তসংখ্যক মডেল বাজারে আনার প্রলোভন এড়িয়ে তারা ধীরস্থিরভাবে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চায়।

২০২৫ সালে MG অস্ট্রেলিয়া তে পাঁচটি নতুন মডেল এনেছিল। বর্তমানে ব্র্যান্ডটির মডেলসংখ্যা ১৪, যেখানে ২০২২ সালে ছিল মাত্র তিনটি। গত ১২ মাসে BYD পাঁচটি নতুন মডেল বাজারে এনেছে। ফলে তাদের মডেলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১২, যেখানে ২০২২ সালে ছিল মাত্র একটি।

অস্ট্রেলিয়া তে তুলনামূলকভাবে ছোট উপস্থিতি থাকলেও ২০২৫ সালে চীনের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া গাড়ির ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে Leapmotor ছিল ১৪তম। বিক্রির হিসাবে Haval, Deepal এবং Xpeng-এর মতো ব্র্যান্ডকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল তারা।

চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে Leapmotor-এর মডেল তালিকা আরও বড়। সেখানে ছোট A05 সিটি কার থেকে শুরু করে বড় D19 SUV পর্যন্ত রয়েছে। তবে ডান পাশে স্টিয়ারিং থাকা সব মডেল অস্ট্রেলিয়া তে নিয়ে আসেনি কোম্পানিটি। উদাহরণ হিসেবে, T03 মাইক্রোকারটি Europe ও UK-তে বিক্রি হলেও অস্ট্রেলিয়া র শোরুমে কখনোই আসেনি।

Leapmotor অস্ট্রেলিয়াতে নিজেদের মডেল তালিকা আরও বড় করতে আগ্রহী। C16 এবং D19—দুটি তিন সারির আসনবিশিষ্ট SUV-ও সেই পরিকল্পনার অংশ। তবে বড় D99 ভ্যানটি আপাতত অগ্রাধিকার পাচ্ছে না। যদিও BYD, Denza, GAC এবং Xpeng ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়া তে পিপল মুভার ভ্যান নিয়ে এসেছে।

এই প্রতিদ্বন্দ্বীদের অধিকাংশই প্রিমিয়াম বাজারকে লক্ষ্য করে গাড়ি বিক্রি করছে। অন্যদিকে, Kia Carnival-এর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অবস্থান করছে তাদের মধ্যে মাত্র একটি মডেল। অস্ট্রেলিয়ার পিপল মুভার বাজারে Kia Carnival-ই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া গাড়ি।

Hoang জানিয়েছেন, D99-কে আপাতত অন্য মডেলগুলোর পেছনে অপেক্ষা করতে হবে। তবে ভবিষ্যতে এটি বাজারে আনার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি।

Hoang বলেন, “আগে যে গাড়িগুলোর কথা বলেছি, সেগুলোর তুলনায় এটি অগ্রাধিকারের তালিকায় কিছুটা নিচের দিকে থাকবে। তবে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”

সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ চলতি বছরে বিশ্বজুড়ে Leapmotor-এর গাড়ি সরবরাহের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৫৩৯টি, যা আগের বছরের তুলনায় ৬৮.৫ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে কোম্পানিটির বৈশ্বিক বিক্রির প্রায় ১৭ শতাংশ এসেছে চীনের বাইরের বাজার থেকে। আন্তর্জাতিক বাজারে গাড়ি বিতরণের দায়িত্বে রয়েছে Leapmotor International, যা Leapmotor এবং Stellantis-এর যৌথ উদ্যোগ।

অস্ট্রেলিয়াতে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত Leapmotor ১,১৬৮টি গাড়ি সরবরাহ করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫৮.৪ শতাংশ বেশি। প্রবৃদ্ধির হার আকর্ষণীয় হলেও একই সময়ে ২৩,৬৩২টি গাড়ি সরবরাহ করা Geely-র তুলনায় Leapmotor এখনও অনেক পিছিয়ে। Geely-র সরবরাহ বেড়েছে ৬৩৯.২ শতাংশ।

চলতি বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশের বাজারে Leapmotor-এর অভিষেক হওয়ার কথা রয়েছে। শুরুতে C10 মিডসাইজ SUV-সহ কয়েকটি মডেল আসতে পারে। এর পাশাপাশি থাকতে পারে রেঞ্জ-এক্সটেন্ডার প্রযুক্তির আরও কয়েকটি বৈদ্যুতিক গাড়ি।

অস্ট্রেলিয়াতে Leapmotor সাশ্রয়ী দামে আধুনিক প্রযুক্তিতে ঠাসা গাড়ি সরবরাহের জন্য পরিচিতি পেয়েছে। এখন পর্যন্ত গাড়ির সহজলভ্যতা বজায় রাখতেও সফল হয়েছে ব্র্যান্ডটি। স্থানীয় বাজারে দাম এবং বিক্রয়োত্তর সেবা সন্তোষজনক হলে এই সমন্বয় বাংলাদেশের ক্রেতাদের কাছেও আকর্ষণীয় হতে পারে।

Previous
Previous

V8, V12 ফিরিয়ে আনছে Mercedes

Next
Next

তাইওয়ানের বৈদ্যুতিক গাড়ী “ধার” নিচ্ছে Mitsubishi