তাইওয়ানের বৈদ্যুতিক গাড়ী “ধার” নিচ্ছে Mitsubishi
ছবিঃ Mitsubishi
একসময় র্যালি রেসিং দানব আর দুর্ধর্ষ অফ-রোডার তৈরির তৈরি জন্য বিশ্বজুড়ে কিংবদন্তী ছিল Mitsubishi। এখন একটি বৈদ্যুতিক SUV-এর জন্য তাইওয়ানের সাহায্য নিচ্ছে জাপানি প্রতিষ্ঠানটি।
Mitsubishi অস্ট্রেলিয়ায় ASX VR-e বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাইওয়ানের নির্মাতা Foxtron-এর সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে তৈরি এই ছোট ইলেকট্রিক SUV-টি মূলত Foxtron Bria-র Mitsubishi ব্যাজ লাগানো সংস্করণ। মজার ব্যাপার হলো, Bria গাড়িটি তাইওয়ানিজ কোম্পানিটির তৈরি প্রথম দিককার যাত্রীবাহী গাড়িগুলোর একটি। অর্থাৎ গাড়ি তৈরির জগতে তাইওয়ানের এই প্রতিষ্ঠানটি একেবারেই প্রবীণ।
অন্যদিকে Foxtron তুলনামূলক নতুন একটি কোম্পানি। ২০২০ সালে iPhone নির্মাতা Foxconn এবং তাইওয়ানের গাড়ি নির্মাতা Yulon-এর যৌথ উদ্যোগ হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। কোম্পানিটি মূলত ইলেকট্রিক গাড়ি ও বাস তৈরি করে।
তবে এই গাড়িটি জাপানি প্রতিষ্ঠানটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই গাড়িটির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার বাজারে প্রায় ১৫ বছর পর বৈদ্যুতিক গাড়ি অফার করছে Mitsubishi। নতুন মডেলটির জন্য অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ বাজার।
Foxtron ইতিমধ্যে বড় আকারের Cavira SUV-সহ আরও কয়েকটি গাড়ির কনসেপ্ট দেখিয়েছে। তবে তাইওয়ানি অংশীদারের সঙ্গে অতিরিক্ত কোনও মডেল নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে না বলে জানিয়েছে Mitsubishi।
ছবিঃ Foxtron
অস্ট্রেলিয়ায় গাড়িটির প্রথম প্রদর্শনীতে Mitsubishi Australia-এর CEO Shunichi Kihara স্পষ্ট করে দিয়েছেন, Foxtron-এর প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও বড় একটি গাড়ির লাইনআপ তৈরির পরিকল্পনা আপাতত নেই।
“এই মুহূর্তে আমাদের প্রকল্পের পরিধি মূলত VR-e-তেই সীমাবদ্ধ। আমাদের মধ্যে চুক্তিটা এমনই।”
তিনি আরও বলেন, “স্বল্পমেয়াদে আমাদের তাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যেতে হবে এবং সর্বাগ্রে VR-e-এর সাফল্যের ওপর মনোযোগ দিতে হবে। এরপর কী হবে, তা নিয়ে এখনও কোনো আলোচনা হয়নি। ASX \[VR-e\]-কে আমরা কতটা সফল করতে পারি, তার ওপরই মূলত ভবিষ্যৎ সবকিছু নির্ভর করছে।”
“মূলত এই মুহূর্তে এটি একটি মডেল। আমাদের এই গাড়িটির ওপর মনোযোগ দিতে হবে, তারপর সামনে কী ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে, তা দেখতে হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি এটাই।”
অর্থাৎ, Mitsubishi ভবিষ্যতের জন্য দরজা খোলা রাখছে। তবে দ্বিতীয় গাড়ি নিয়ে আলোচনা শুরুর আগে প্রথমটিকে সফল হতে হবে।
Mitsubishi কেন এই পথে হাঁটছে, তার উত্তরটি সহজ। নিজেদের উদ্যোগে সম্পূর্ণ নতুন একটি ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরি করার খরচ বহন করার সামর্থ্য প্রতিষ্ঠানটির নেই।
১৮ জুন Mitsubishi-র শেয়ারহোল্ডারদের সভায় CEO Takao Kato কোম্পানির অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট করে বলেন;
“বাস্তবতা হলো, বিশ্বজুড়ে [বৈদ্যুতিক গাড়ির]প্রবৃদ্ধির গতি কমে আসছে। আপাতত সহযোগিতার মাধ্যমেই আমরা এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চাই।”
ASX VR-e-এর উন্নয়নেও Mitsubishi Australia ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার রাস্তা ও পরিবেশের উপযোগী করে গাড়িটির স্টিয়ারিং, সাসপেনশন এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা সমন্বয় করা হয়েছে। তবে গাড়িটির মূল ভিত্তি এসেছে Foxtron-এর কাছ থেকেই।
অংশীদারত্বের মাধ্যমে অন্য কোম্পানির গাড়ি নিজেদের নামে বিক্রি করা Mitsubishi-র কাছে নতুন কিছু নয়। Nissan ও Renault-এর সঙ্গে জোটের সুবাদে জ্বালানি ইঞ্জিন দ্বারা চালিত Renault Captur-এর নিজেদের ব্যাজ লাগানো সংস্করণ বিক্রি করে তারা, যেটি অস্ট্রেলিয়ার বাজারে ASX নামেই পরিচিত। এবার বৈদ্যুতিক VR-e-এর মাধ্যমে সেই কৌশলই নতুন অংশীদার ও নতুন বাজারে প্রয়োগ করছে Mitsubishi।
এই সহযোগিতা আরও বড় হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রেতারা গাড়িটিকে কীভাবে গ্রহণ করেন তার ওপর। Mitsubishi Australia-এর ASX VR-e পণ্য কৌশল ব্যবস্থাপক Tim Clarke জানিয়েছেন, জাপানের মূল কোম্পানি গাড়িটির বাজারে আসার বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
তিনি বলেন, “MMC স্পষ্টতই আমাদের খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে বোঝা যায় অস্ট্রেলিয়ার বাজারে এই গাড়িটি কেমন সাড়া ফেলে। এটি সফল হলে পরবর্তী আলোচনা শুরু হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে গাড়িটি এবং Foxtron-এর সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটাই আমাদের অবস্থান। তারা আমাদের সঙ্গে আরও আলোচনা এগিয়ে নিতে আগ্রহী। আর এই গাড়িটি সফল হলে ভবিষ্যতের জন্য দরজা খুলে যাবে।”
Mitsubishi ASX VR-e-এর প্রাথমিক কারিগরি বিবরণ নিশ্চিত করেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দাম ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্রেতারা চারটি সংস্করণ থেকে বেছে নিতে পারবেন: LS, Aspire, Exceed এবং GSR।
LS, Aspire ও Exceed সংস্করণে রয়েছে একটি ইলেকট্রিক মোটর, যা পেছনের চাকা চালায়। মোটরটি ১৭১ কিলোওয়াট শক্তি এবং ৩৫০ Nm টর্ক উৎপাদন করে। Mitsubishi-র দাবি, এতে SUV-টি স্থির অবস্থা থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে ৬.৮ সেকেন্ড সময় নেয়।
শক্তি আসে ৫৭.৭ kWh লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারি থেকে। WLTP মানদণ্ড অনুযায়ী, একবার চার্জে গাড়িটির সর্বোচ্চ দাবিকৃত রেঞ্জ ৪০৩ কিলোমিটার।
লাইনআপের শীর্ষে থাকা GSR সংস্করণে রয়েছে দুটি ইলেকট্রিক মোটর এবং অল-হুইল ড্রাইভ। এতে শক্তি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪২ কিলোওয়াটে, আর টর্ক ৭০০ Nm। ফলে স্থির অবস্থা থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র ৩.৯ সেকেন্ড।
এ সংস্করণেও একই ৫৭.৭ kWh ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এর দাবিকৃত রেঞ্জ কমে ৩২৮ কিলোমিটারে নেমে আসে।
Mitsubishi-র দাবি, অস্ট্রেলিয়ায় বিক্রি হওয়া তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুত গতি তুলতে সক্ষম গাড়ি হবে GSR। ছোট একটি SUV-এর জন্য এটি চমকপ্রদ দাবি, যদিও সেই গতির বিনিময়ে গাড়িটিকে কিছুটা রেঞ্জ হারাতে হচ্ছে।
আপাতত ASX VR-e-কে প্রমাণ করতে হবে, এই অংশীদারত্ব ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক। গাড়িটি সফল হলে প্রতিটি প্ল্যাটফর্ম ও পাওয়ারট্রেন নিজস্বভাবে তৈরি করার বিপুল খরচ ছাড়াই Mitsubishi আরও ইলেকট্রিক মডেল বাজারে আনার সুযোগ পেতে পারে।
একসময় র্যালি রেসিং দানব আর দুর্ধর্ষ অফ-রোডার তৈরির তৈরি জন্য বিশ্বজুড়ে কিংবদন্তী ছিল Mitsubishi। এখন একটি বৈদ্যুতিক SUV-এর জন্য তাইওয়ানের সাহায্য নিচ্ছে জাপানি প্রতিষ্ঠানটি।