কাস্টম CZ26 Berlinetta আনলো Ferrari

ইতালীয় স্পোর্টস কার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Ferrari তাদের বিশেষ 'Special Projects' প্রোগ্রামের অধীনে একজন আমেরিকান গ্রাহকের চাহিদানুযায়ী 'CZ26' নামের একটি ইউনিক Berlinetta সুপারকার উন্মোচন করেছে। এটি মূলত তাদের জনপ্রিয় SF90 Stradale প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।

Flavio Manzoni-র নির্দেশনায় Ferrari Design Studio গাড়িটি ডিজাইন করেছে। গ্রাহকের নির্দেশনা অনুযায়ী গাড়িটিতে নিচু ও অনুভূমিক গঠন, কেন্দ্রীয় ক্যাপসুল আকৃতির প্যাসেঞ্জার কেবিন এবং বেশ ফুটিয়ে তোলা চাকার খিলান বা হুইল আর্চ রাখা হয়েছে।

গাড়ির এক্সটেরিয়রে ব্যাপক ডিজাইনিং ও অ্যারোডাইনামিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সামনের অংশে রয়েছে পুরো প্রস্থ জুড়ে থাকা ফ্রন্ট গ্রিল, যার ভেতরে রয়েছে গোপন পাতলা লাইট, ব্রেক-কুলিং ইনটেক, সেন্সর এবং অ্যারোডাইনামিক উপাদান। পেছনের ট্রাঙ্কে রয়েছে প্রফেশনাল ক্যান্টিলিভারড টেললাইট এবং একটি চওড়া ডিফিউজার, যা গাড়ির চওড়া গঠনকে আরো ফুটিয়ে তোলে।

এর সার্বিক অ্যারোডাইনামিক পারফরম্যান্স পুনর্গঠন করা হয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে সংশোধিত আন্ডারবডি, ভর্টেক্স জেনারেটর, ইন্টিগ্রেটেড এয়ার-কার্টেন সিস্টেম এবং অতিরিক্ত ডাউনফোর্স তৈরির জন্য নতুন আপার রিয়ার স্পয়লার। গাড়িটিতে ব্যবহার করা হয়েছে এক্সক্লুসিভ 'Argento Veloce' সিলভার পেইন্ট এবং তার সাথে কন্ট্রাস্ট দেওয়ার জন্য রয়েছে 'Rosso Lampante'-র ছোঁয়া। হুইল আর্চ ও অ্যারোডাইনামিক উপাদানে ব্যবহৃত কার্বন ফাইবার এমনভাবে বসানো হয়েছে যা দেখলে মনে হয় বডিওয়ার্কের সাথেই সরাসরি ঢালাই করা হয়েছে।

ভেতরের কেবিনে 3D-প্রিন্টেড সিট ইনসার্টসহ কালো টেকনিক্যাল ফেব্রিক ফেব্রিকের কভার দেওয়া হয়েছে, যেখানে 'Rosso Lampante' ডিটেইলিং এবং এমব্রয়ডারি করা 'CZ26' লোগো রয়েছে। কেবিনের ড্যাশবোর্ড এবং ডোর প্যানেলে মেটালিক ফিলামেন্টযুক্ত গ্লস কার্বন ফাইবার, স্যাটিন কার্বন ফাইবার এবং বডি-কালার অংশ ব্যবহার করা হয়েছে।

এর ইঞ্জিন ও মেকানিক্যাল আর্কিটেকচার সরাসরি SF90 Stradale থেকে নেওয়া হয়েছে, যা একটি প্লাগ-ইন হাইব্রিড সেটআপ। এতে রয়েছে ৭৮৬ হর্সপাওয়ারের 4.0-litre twin-turbocharged V8 ইঞ্জিন এবং অতিরিক্ত ১৬২ কিলোওয়াট শক্তি জোগানো তিনটি ইলেকট্রিক মোটর। সাথে থাকা 7.9kWh ব্যাটারির সাহায্যে কেবল বিদ্যুৎ শক্তিতে ১৫.৫ মাইল পর্যন্ত চলা যায়। Eight-speed dual-clutch transmission-এর মাধ্যমে চার চাকাতেই শক্তি পৌঁছায়, যা মাত্র ২.৫ সেকেন্ডে ০ থেকে ৬২ mph এবং ৬.৭ সেকেন্ডে ০ থেকে ১২৪ mph গতি তুলতে সক্ষম। গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি ২০৪ mph।

গাড়িটির চ্যাসিসে ২০ ইঞ্চির চাকা ব্যবহার করা হয়েছে (সামনে 255/35 এবং পেছনে 315/30 সাইজের টায়ার)। এতে থাকা কার্বন-সিরামিক ব্রেক ৬২ mph গতিতে থাকা অবস্থাতেও গাড়িকে মাত্র ৯৬.৮ ফুটের কম দূরত্বের মধ্যে সম্পূর্ণ থামাতে সক্ষম। গাড়িটির দৈর্ঘ্য ১৮৭.৫ ইঞ্চি, চওড়া ৭৯.০ ইঞ্চি এবং উচ্চতা ৪৬.৮ ইঞ্চি। এর মোট ওজনের ৪৫ শতাংশ সামনে এবং ৫৫ শতাংশ পেছনের অংশে বণ্টন করা হয়েছে।

Previous
Previous

রোড-ফোকাসড S1 আনলো Gordon Murray

Next
Next

ম্যানুয়াল McL 6GT উন্মোচন করল McLaren