মার্কিন বাজার গুঁড়িয়ে দিতে পারে চীন: Hyundai

ছবিঃ Denza

যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল বাজারকে চীনা গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন Hyundai-র চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার Jose Munoz।

California-র San Jose-তে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা Reuters। চীনে Nissan-এর কার্যক্রম পরিচালনার প্রায় এক দশকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে Munoz জানান, সুরক্ষামূলক বাণিজ্য নীতি ও নিয়ন্ত্রক বিধিনিষেধ বজায় রাখা না হলে আমেরিকান গাড়ি নির্মাতারা তীব্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকিতে পড়বে।

Hyundai-র চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার Jose Munoz।

তিনি উল্লেখ করেন, Italy, Spain এবং France-এর মতো ইউরোপীয় বাজারগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শুল্ক ও সর্বনিম্ন মূল্যসীমা নির্ধারণের শর্ত সত্ত্বেও চীনা গাড়িগুলো প্রতিষ্ঠিত প্রতিযোগী ব্র্যান্ডগুলোর চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ২০২০ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের পর দেশটি চীনা আমদানির ওপর ব্রাসেলসের মতো শুল্ক আরোপ করেনি। ফলে কোনো বাণিজ্যিক বাধা না থাকায় যুক্তরাজ্য এখন প্রায় চীনের বাজারের মতো রূপ নিয়েছে এবং শীর্ষ বিক্রিত গাড়িগুলোর জায়গা চীনা ব্র্যান্ডগুলোই দখল করে নিচ্ছে।

সাম্প্রতিক শিল্প তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় বাজারে চীনা ব্র্যান্ডগুলোর দাপট দ্রুত বাড়ছে। European Automobile Manufacturers' Association-এর মতে, বছরের প্রথমার্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বিক্রি হওয়া মোট গাড়ির ৯ শতাংশেরও বেশি ছিল চীনা ব্র্যান্ডের। এছাড়া Society of Motor Manufacturers and Traders-এর তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরুর দিকে ব্রিটেনে নিবন্ধিত নতুন গাড়ির ১৫ শতাংশই চীনা ব্র্যান্ডের দখলে চলে গেছে।

চীনা গাড়ি আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা না চেয়ে ওয়াশিংটনকে নির্দিষ্ট কিছু সুরক্ষামূলক শর্ত আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন Munoz, যাতে বাজারে এর বিরূপ প্রভাব সর্বনিম্ন রাখা যায়। এই সতর্কতা মূলত পুরো অটোমোবাইল খাতের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগেরই প্রতিফলন। এর আগে গত জুলাইয়ে Ford-এর সিইও Jim Farley কর্মীদের জানিয়েছিলেন, আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে চীনা গাড়ি মার্কিন বাজারে ব্যাপকভাবে প্রবেশ করতে পারে। পাশাপাশি বৈশ্বিক যন্ত্রাংশ সরবরাহ চেইনে চীনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে Honda-র মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোও উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।

বাণিজ্যিক উদ্বেগের পাশাপাশি নিজেদের স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে Hyundai Motor Group। Tesla-র Full Self-Driving প্ল্যাটফর্মের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব 'Level 2++' ড্রাইভার-অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম বাজারে আনার সময়সীমা ২০২৭ সালের শেষ থেকে দুই বছর পিছিয়ে ২০২৯ সালের শেষের দিকে নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে নয়, বরং বাড়তি নিরাপত্তা যাচাই ও বাস্তবভিত্তিক ডেটা সংগ্রহের প্রয়োজনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ছবিঃ Hyundai

একই সময়ে উত্তর আমেরিকায় বড় পরিসরে কারখানা সম্প্রসারণে কাজ করছে Hyundai। ২০৩০ সালের মধ্যে এই অঞ্চলে বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা আরও ৫ লাখ ইউনিট বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে স্থানীয় যন্ত্রাংশ ব্যবহারের হার বর্তমানের ৬০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮০ শতাংশেরও বেশি করার পরিকল্পনা চলছে।

Munoz জানান, বর্তমান মার্কিন শুল্ক নীতির কারণেই স্থানীয়ভাবে উৎপাদনে জোর দিচ্ছে Hyundai, যার সফল প্রমাণ Alabama কারখানায় তৈরি Santa Fe।

Previous
Previous

হাইড্রোজেন Hilux আনছে Toyota

Next
Next

AUDI-র বিরুদ্ধে মামলা করল Audi