রেকর্ডভাঙা বৈদ্যুতিক গাড়ি আনল Volkswagen

ছবিঃ Volkswagen

বিশ্বের সবচেয়ে সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক গাড়ি হিসেবে 'Mission Efficiency (2026)' নামের একটি নতুন রেকর্ডভাঙা কনসেপ্ট কার উন্মোচন করেছে জার্মান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Volkswagen।

জার্মান Record Institute এই গাড়িটিকে "উৎপাদন-উপযোগী ও দৈনন্দিন নিয়মিত ব্যবহারের চার আসনের বৈদ্যুতিক গাড়ি" হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই মডেলটিতে সর্বোচ্চ ড্রাইভিং রেঞ্জ নিশ্চিত করতে উন্নত অ্যারোডাইনামিকস এবং পাওয়ারট্রেন ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করা হয়েছে। দুই দরজা ও চার আসনবিশিষ্ট এই ইলেকট্রিক যানটি ইতোমধ্যে কার্যক্ষমতা ও জ্বালানি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে তিনটি নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে।

Volkswagen Mission Efficiency গাড়িটি ID. Polo-র মতো MEB+ প্ল্যাটফর্মে তৈরি। সামনে বসানো একটি APP290 পার্মানেন্ট-ম্যাগনেট সিঙ্ক্রোনাস মোটর থেকে এটি ১৩৩ হর্সপাওয়ার এবং ১৯৫ পাউন্ড-ফুট টর্ক উৎপন্ন করে।

এতে ব্যবহৃত ৫৪.৯ কিলোওয়াট-আওয়ারের নিকেল-ম্যাঙ্গানিজ-কোবাল্ট ব্যাটারি প্যাকটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে সাধারণ ID. Polo-র চেয়ে ২.৯ kWh বেশি ব্যবহারযোগ্য শক্তি দেয়। গাড়িটি ১০৫ কিলোওয়াট ডিসি এবং ১১ কিলোওয়াট এসি চার্জিং সমর্থন করে। পাশাপাশি এর কাঁচের ছাদ ও পেছনের হ্যাচে বসানো৩৭০ ওয়াটের সোলার প্যানেল গাড়িটির অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক সিস্টেম সচল রাখতে অতিরিক্ত শক্তি জোগায়।

গাড়িটির চ্যাসিস তৈরিতে অ্যালুমিনিয়াম স্ট্রাকচারের সাথে শক্তিশালী কার্বন ফাইবার এবং অ্যারামিড কম্পোজিট ব্যবহার করা হয়েছে। ১৮৮ ইঞ্চি দীর্ঘ ও ৬৯ ইঞ্চি চওড়া এই গাড়িতে চারজনের পরিবারের বসার মতো ২+২ সিটিং ব্যবস্থা এবং পেছনে ১৭ কিউবিক ফিট মালামাল রাখার জায়গা রয়েছে। ওজন সর্বনিম্ন রাখতে এতে দেওয়া হয়েছে হালকা আসন, আর বড় ইনফোটেইনমেন্ট স্ক্রিনের বদলে স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট ডক এবং একটি রিমুভেবল ব্লুটুথ স্পিকার যুক্ত করা হয়েছে।

২০১০-এর বিখ্যাত ডিজেল-হাইব্রিড XL1 মডেলের অনুপ্রেরণায় তৈরি এই গাড়িটির সামনের ২২.৪ বর্গফুটের ফ্রন্টাল এরিয়ায় রয়েছে পাঁচটি কনফিগারেশনের তিনটি কুলিং ফ্ল্যাপ, কাস্টম হুইল ডিফ্লেক্টর আর পেছনে আছে প্রায় সম্পূর্ণ ঢাকা রিয়ার হুইল। গাড়িটির তিনটি অ্যাক্টিভ কুলিং ফ্ল্যাপ বন্ধ থাকলে এর ড্র্যাগ কো-এফিসিয়েন্ট দাঁড়ায় মাত্র ০.১৫৮। যা XL1-এর (০.১৮৬) এবং Lightyear-এর (০.১৯-এর নিচে) রেকর্ড ভেঙে রোড-লিগ্যাল গাড়ির অ্যারোডাইনামিক রেকর্ড দখল করে নিয়েছে।

রাস্তায় চলার জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যারোডাইনামিকভাবে অপ্টিমাইজড সাইডওয়ালযুক্ত কন্টিনেন্টালের বিশেষ EcoContact 7 লো-রোলিং-রেজিস্ট্যান্স টায়ার। এছাড়াও নিচের অংশের বাতাস চলাচলের পথ মসৃণ করতে সামনের তুলনায় এর পেছনের অ্যাক্সেল ৬.৭ ইঞ্চি ছোট রাখা হয়েছে।

পরীক্ষার অংশ হিসেবে গাড়িটি জার্মানির Wolfsburg থেকে পোল্যান্ডের Poznan এবং চেক প্রজাতন্ত্রের Olomouc হয়ে অস্ট্রিয়ার Vienna পর্যন্ত সাধারণ রাস্তায় চালানো হয়। পুরো যাত্রায় মাত্র একবার রিচার্জ করে ৭৯৪ মাইল পথ পাড়ি দেয় গাড়িটি ।

যাত্রা শেষেও ব্যাটারিতে আরও ১০২ মাইল চলার মতো চার্জ অবশিষ্ট ছিল, যার অর্থ তাত্ত্বিকভাবে গাড়িটি একবার ফুল চার্জে ৮৭০ মাইলেরও বেশি পাড়ি দিতে পারবে। সর্বোচ্চ ৮৬ মাইল গতি তোলা এই গাড়িটির যাত্রাপথে গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ৪২ মাইল।

জ্বালানি ব্যবহারের দিক থেকেও নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে এটি। চার্জিং লসসহ প্রতি ১০০ কিলোমিটারে এর খরচ হয়েছে মাত্র ৭.৫১ কিলোওয়াট-আওয়ার (kWh) এবং চার্জিং লস ছাড়া ৬.৮৯ kWh। এছাড়া একটি সমতল রাস্তায় ঘণ্টায় ৪২ মাইল স্থির গতিতে এর সহায়ক সিস্টেমগুলো বন্ধ রেখে পরীক্ষার সময় প্রতি ১০০ কিলোমিটারে সর্বনিম্ন ৬.৪৮ kWh বিদ্যুৎ খরচের রেকর্ড করে গাড়িটি।

Previous
Previous

Defender ট্রাক তৈরির ভাবনায় JLR

Next
Next

স্ক্রিনের ব্যবহার কমাচ্ছে Range Rover