চীনের গাড়ি রপ্তানিতে রেকর্ড
অভ্যন্তরীণ বাজারে যাত্রীবাহী গাড়ি বিক্রির প্রবণতা কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে গাড়ি রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে চায়না।
চায়না অ্যাসোসিয়েশন অব অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স (CAAM)-এর তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে আগস্ট মাসে চীনের স্থানীয় বাজারে যাত্রীবাহী গাড়ির বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। ক্রেতারা দ্রুত বৈদ্যুতিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির দিকে ঝুঁকতে থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রচলিত জ্বালানিচালিত গাড়িগুলো।
তবে অভ্যন্তরীণ বাজারের এই বড় ধাক্কা পুষিয়ে দিয়েছে রপ্তানি খাতের প্রবৃদ্ধি। চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই দেশটির যাত্রীবাহী গাড়ি রপ্তানি ২০২৫ সালের পুরো বছরের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। CAAM-এর তথ্যে দেখা গেছে, আগস্ট মাসে গাড়ি রপ্তানি ৬৭.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮ লাখ ৯০ হাজারে পৌঁছেছে। ফলে বছরের প্রথম আট মাসে মোট যাত্রীবাহী গাড়ি রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৬২ লাখে।
গত পুরো বছরে চায়না সব মিলিয়ে প্রায় ৭১ লাখ যানবাহন রপ্তানি করেছিল, যার মধ্যে যাত্রীবাহী গাড়ি ছিল ৬০ লাখেরও কম।
রপ্তানির এই ব্যাপক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হলো ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV) এবং প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকল (PHEV)। সাশ্রয়ী মূল্য ও উন্নত মানের গাড়ি নিয়ে ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আক্রমণাত্মকভাবে বাজার বিস্তার করছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো। দেশের ভেতরের তীব্র প্রতিযোগিতা এড়িয়ে বিদেশে বেশি মুনাফা নিশ্চিত করা, কারখানার অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবহার এবং স্থানীয় বাজারের মন্দা সামাল দিতেই বৈশ্বিক বাজারে ঝুঁকছে তারা।
এর স্পষ্ট প্রভাব দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন আঞ্চলিক বাজারে। Cox Automotive Australia-র দাবি, অস্ট্রেলিয়ার সামগ্রিক গাড়ির বাজারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এখন চাইনীজ ব্র্যান্ডগুলোর দখলে। সেখানে হাইব্রিড, EV ও PHEV ছাড়াও Great Wall Motors এবং SAIC-এর কিছু নির্দিষ্ট গ্যাসোলিনচালিত গাড়ি প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া উত্তর আমেরিকায় মেক্সিকো আমদানি করছে বিপুল পরিমাণ চাইনীজ গাড়ি। অন্যদিকে কানাডা আঞ্চলিক বাজারে সম্প্রতি সীমিত সংখ্যক চাইনীজ গাড়ি আমদানির অনুমতি দিয়েছে।
ভূরাজনৈতিক ও নীতিগত নানা বাধা সত্ত্বেও এই রপ্তানি উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে চাইনীজ গাড়ির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে এবং দেশটি সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার কথাও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্যাটারিচালিত গাড়ির ওপর শুল্ক আরোপ করলেও, PHEV ও প্লাগ-ইন হাইব্রিডের ওপরও অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
ইউরোপজুড়ে চীনা গাড়িগুলোর আগ্রাসী উপস্থিতির একটি বড় মাইলফলক রচিত হলো যুক্তরাজ্যে; সেখানে গত মাসে বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া গাড়ির মুকুট ছিনিয়ে নিয়েছে চীনের তৈরি একটি ক্রসওভার।