গাড়ির যন্ত্রাংশ রপ্তানি করছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান
ছবিঃ Toyota
বাংলাদেশের অটোমোবাইল শিল্প যখন ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে, তখন যন্ত্রাংশ সরবরাহকারীরা ইতিমধ্যেই এক ধাপ এগিয়ে গেছে।
Adamjee Export Processing Zone-এ কার্যক্রম পরিচালনাকারী জাপানি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান TS Tech Bangladesh Limited বৈশ্বিক অটোমোবাইল সাপ্লাই চেইনে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি গত অর্থবছরে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার বা ১৪.৭৫ মিলিয়ন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮৪ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা) পণ্য রপ্তানি করেছে।
সংবাদমাধ্যম The Business Standard (TBS)-এর এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে ৪৬ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার বা ৪.৬৭ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৮ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা) বিনিয়োগ করেছে। Bangladesh Export Processing Zones Authority-র কাছ থেকে ভাড়া করা একটি ছয় তলা বিশিষ্ট Standard Factory Building-এ বর্তমানে তাদের ৩৭৫ জন কর্মী কাজ করছেন। এর মূল অভিভাবক প্রতিষ্ঠান TS Tech বিশ্বজুড়ে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের অধীনে ৭৩টি কারখানা পরিচালনা করে, যেখানে জাপানের প্রায় ১৬,০০০ কর্মীসহ বিশ্বব্যাপী প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার মানুষ কর্মরত রয়েছেন।
ছবিঃ TS Tech Bangladesh Limited
কারখানাটিতে মূলত চামড়া ও অন্যান্য উপকরণ কেটে, সেলাই করে এবং নিখুঁত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সিট-ট্রিম কভার অ্যাসেম্বল করা হয়। এজন্য কাঁচামাল মূলত আনা হয় Japan ও China থেকে। প্রস্তুতকৃত সিট-ট্রিম কভারগুলো সরাসরি জাপানে অবস্থিত TS Tech-এর কারখানায় পাঠানো হয়, যেখানে চূড়ান্ত সিট প্রস্তুত করে শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতাদের অ্যাসেম্বলি লাইনে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে কারখানাটির বার্ষিক উৎপাদন দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার ইউনিটে এবং আগামী বছরও একই পরিমাণ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
TBS-কে দেওয়া এক বক্তব্যে TS Tech Bangladesh-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর Satoru Onishi জানান, "জাপানে আমাদের প্রধান গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে Honda, Yamaha, Suzuki এবং Kawasaki। আমাদের কারখানায় মূলত কার সিট-ট্রিম কভার, মোটরসাইকেল সিট-ট্রিম কভার এবং ডোর ট্রিম ও রুফ ট্রিমের মতো বিভিন্ন প্লাস্টিক পার্টস তৈরি করা হয়।" তিনি আরও যোগ করেন, "কাঁচামাল কাটা ও সেলাইয়ের কাজটি মূলত বাংলাদেশের কারখানায় সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে জাপানে সম্পূর্ণ সিট তৈরি করে অটোমোবাইল নির্মাতাদের কাছে সরবরাহ করা হয়।" Onishi উল্লেখ করেন যে, জাপানের বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সাথেও TS Tech বাণিজ্য পরিচালনা করে থাকে।
ছবিঃ The Business Standard (TBS)
উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ২০২৩ সালের আগস্টে আধুনিকায়ন কার্যক্রম শুরু করে কারখানাটি। সেখানে কনভেয়ার বেল্ট, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং অটো-লে মেশিন যুক্ত করা হয়েছে। এমনকি 3D প্রিন্টার ব্যবহার করে নিজস্ব কাস্টম অ্যাসেম্বলি জিগস এবং সহায়ক সরঞ্জামগুলো কারখানার ভেতরেই নকশা ও তৈরি করা হচ্ছে।
কারখানাটির মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ৬০ শতাংশই নারী, যাদের জন্য বিশেষ কর্মপরিবেশ ও কল্যাণমূলক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ২০২৫ সালে স্থাপিত অভ্যন্তরীণ ডে-কেয়ার সেন্টারে পাঁচজন সেবাকর্মীর তত্ত্বাবধানে বর্তমানে ১৯টি শিশুর দেখাশোনা করা হয়। TS Tech Bangladesh-এর জাপানি ভাষার দোভাষী Asma জানান, এই সুবিধার কারণে সন্তানকে নিরাপদে রেখে নিশ্চিন্তে কাজে মনোযোগ দেওয়া যায়। এছাড়া অন্তঃসত্ত্বা কর্মীদের জন্য ও বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হয়।তাদের সহজে চেনার জন্য এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে তাঁরা আলাদা সবুজ রঙের ফিতা পরিধান করেন।
গত বছরই আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করার পর এবার বড় ধরনের বিনিয়োগের ইঙ্গিত দিল জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Toyota।