V10 Fighter নিয়ে ফিরল Bristol

দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবারও ফিরে আসছে ব্রিটিশ সুপারকার Bristol Fighter।

The Autopian-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিমান নির্মাণ খাতের কর্মীদের নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে ১৯৪৫ সালে Bristol Aeroplane Company-র অটোমোবাইল বিভাগ হিসেবে যাত্রা শুরু করে Bristol Cars।

প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছিল AFN Limited-এর হাত ধরে, যারা Frazer Nash-এর উত্তরসূরি এবং যুক্তরাজ্যে BMW-র আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ছিল। ১৯৪৬ সালে যুদ্ধপূর্ববর্তী BMW চ্যাসিস ও ইনলাইন-সিক্স ইঞ্জিনের ওপর ভিত্তি করে তাদের প্রথম গাড়ি Bristol 400-এর উৎপাদন শুরু হয়।  ১৯৬১ সালের আগ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি AC Cars-কে তাদের Ace Bristol মডেলের জন্য ইঞ্জিন সরবরাহ করত।

এরপর Bristol সেই ইঞ্জিনটি অবসর করিয়ে Chrysler-এর V8 ইঞ্জিন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিলে AC বিকল্প খুঁজতে গিয়ে Carroll Shelby-র সঙ্গে যৌথভাবে কিংবদন্তি Cobra গাড়িটি তৈরি করে। এরপর টানা চার দশক গাড়িতে আমেরিকান V8 ইঞ্জিন ব্যবহার করার পর ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি বাজারে এনেছিল তাদের সাড়া জাগানো মডেল Fighter।

Porsche 911-এর সমান আকারের চ্যাসিসে Bristol বসিয়েছিল Dodge Viper-এর দানবীয় ৮.০-লিটারের V10 ইঞ্জিন। সাধারণ মডেল উৎপাদন করত ৫২৫ হর্সপাওয়ার এবং আপগ্রেডেড মডেলে মিলত ৬০০ হর্সপাওয়ার। সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ২১০ মাইল।

আট বছরে মাত্র ১৫টি গাড়ি তৈরি করতে পেরেছিল প্রতিষ্ঠানটি, এবং ২০১১ সালে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় কারখানায় পাঁচটি অসম্পূর্ণ চ্যাসিস পড়ে ছিল বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল Bristol।

দশ বছর পর, Bristol Cars Group Ltd. নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ডটিকে পুনরায় বাজারে ফেরাতে কারখানায় দীর্ঘদিন পড়ে থাকা সেই পাঁচটি চ্যাসিস এবং সংরক্ষিত Viper V10 ইঞ্জিন জোড়া লাগিয়ে গাড়িগুলোর নির্মাণ শেষ করেছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের Salon Privé অনুষ্ঠানে নতুন করে নির্মিত প্রথম গাড়িটি উন্মোচন করা হয়। কাকতালীয়ভাবে একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির গাড়ি উৎপাদনের ৮০ বছরও পূর্ণ হয়।

প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, তারা Fighter T নামে ১,০১২ হর্সপাওয়ার সক্ষমতার একটি টুইন-টার্বোচার্জড সংস্করণ তৈরির পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে। Bristol Cars Group Ltd. আরো জানায়, নবনির্মিত এই গাড়িগুলো যুক্তরাষ্ট্রের "Show or Display" শর্তের আওতায় আমদানির সুযোগ পাবে। তবে এই নিয়ম অনুযায়ী, গাড়িটির বয়স ২৫ বছর না হওয়া পর্যন্ত বছরে ২,৫০০ মাইলের বেশি চালানো যাবে না।

Previous
Previous

গাড়ির ব্যবসা আলাদা করল Tata

Next
Next

Rolls-Royce-এর প্রতিদ্বন্দ্বী আনছে BYD