Porsche Mission S: জ্বালানী ইঞ্জিনের প্রত্যাবর্তন
ছবিঃ Porsche
গত কয়েক বছর ধরে Porsche বিশ্বকে বোঝানোর চেষ্টা করছিল যে তাদের ভবিষ্যৎ অনিবার্যভাবেই বৈদ্যুতিক। কিন্তু এখন কোম্পানিটি যখন নিজেদের বৈদ্যুতিক পরিকল্পনা নতুন করে ভাবছে এবং অতিধনী ক্রেতাদের জন্য আবার জ্বালানি ইঞ্জিন ফেরত আনছে, তখন Mission S আভাস দিচ্ছে, সামনে কী আসতে পারে।
Porsche দাবিগুলো যদি সত্যি হয় তাহলে, তাহলে শিঘ্রই এই 911-এর ওপরে অবস্থান করা ভবিষ্যতের গাড়িতে থাকতে পারে আট সিলিন্ডারের ইঞ্জিন, ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স এবং চার্জিং কেবলের বালাইহীন এক অভিজ্ঞতা।
Mission S একটি মিড-ইঞ্জিন সুপারকার কনসেপ্ট, যা Porsche-এর ভবিষ্যৎ নকশার দিকনির্দেশনা তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন একটি “Super Sports” কার প্ল্যাটফর্ম তৈরির ভিত্তি স্থাপন করছে। এটি কোম্পানির বৃহত্তর “Sportwagenschmiede '35” কৌশলের প্রথম অংশ। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো 911-এর ওপরে অবস্থান করবে এমন উচ্চক্ষমতার স্পোর্টস কারের একটি নতুন পরিবার তৈরি করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই নতুন মডেলগুলো বৈদ্যুতিক হবে না।
Porsche এখনও গাড়িটির কারিগরি স্পেসিফিকেশন, পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান, দাম কিংবা উৎপাদন শুরুর নিশ্চিত সময়সূচি প্রকাশ করেনি। আপাতত Mission S উৎপাদন মডেলের ঘোষণা নয়, বরং একটি নকশাবিষয়ক ধারণা।
তবে জার্মান ব্যবসায়িক সংবাদপত্র Handelsblatt-এর আগের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, প্রকল্পটি কোম্পানির অভ্যন্তরে “S1” নামে পরিচিত এবং উৎপাদন সংস্করণটির দাম শুরু হতে পারে প্রায় ৫ লাখ ইউরো থেকে। প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিনিময় হার অনুযায়ী, যার মূল্য প্রায় ৫ লাখ ৭৪ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ৭ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থাৎ, এই গাড়িটি শুধু অতি ধনীদের জন্যই তৈরি করা হবে।
তবে সবচেয়ে বড় আশার বিষয় প্রতিষ্ঠানটির গাড়িটিতে একটি উন্মাদনাপূর্ণ ইঞ্জিন বসানোর সম্ভাবনা। আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাড়িটিতে একটি ফ্ল্যাট-এইট ইঞ্জিন ব্যবহার করা হতে পারে। এই ধরনের ইঞ্জিন নিয়ে Porsche আগেও কাজ করেছে। একসময় কোম্পানিটি Cayman-এর চ্যাসিস ব্যবহার করে একটি সচল প্রোটোটাইপ তৈরি করেছিল, যাতে ছিল ৫.০-লিটারের টুইন-টার্বোচার্জড ফ্ল্যাট-এইট ইঞ্জিন। সেটি উৎপন্ন করত ৭৫০ bhp এবং ৭৩৮ lb-ft (১,০০০ Nm) টর্ক। ইঞ্জিনটির রেডলাইন ছিল ৯,০০০ rpm। আর প্রকৌশলগত বিচক্ষণতার এক স্বাগত উদাহরণ হিসেবে এতে ছিল একটি ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স।
এই ইঞ্জিন Mission S ফিরে আসবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে এমন শক্তিশালী ইঞ্জিনসহ একটি মিড-ইঞ্জিন Porsche 911-এর ওপরের শ্রেণিতে কোম্পানিকে গুরুতর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। একই সঙ্গে এটি সুপারকারের জগতে ক্রমেই বিরল হয়ে ওঠা একটি অভিজ্ঞতাও দিতে পারে— ব্যাটারির আকারের বদলে গাড়ি চালানোর অনুভূতিকে কেন্দ্র করে তৈরি একটি জ্বালানি ইঞ্জিনচালিত যান।
Mission S-এর নকশায় Porsche-এর কয়েকটি বিখ্যাত গাড়ির প্রভাব রয়েছে, যার মধ্যে 911, 959, 917, GT1 এবং 928 উল্লেখযোগ্য। সামনের নিচু নাক, টর্পেডোর মতো আকৃতির ফেন্ডার এবং গোলাকার হেডলাইট গাড়িটিকে পরিচিত Porsche-সুলভ চেহারা দিয়েছে। এবং একটি অবিচ্ছিন্ন রেখা সামনে ও পেছনের আলোর উপাদানগুলোকে যুক্ত করেছে।
Porsche তাদের গুরুত্বপূর্ণ নকশাগত ধারণাগুলোর একটির নাম দিয়েছে: “Floating Volumes”। এই কৌশলে গাড়ির বডির কিছু অংশকে এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যেন সেগুলো বাকি অংশের ওপরে ভাসছে। পেছনে Porsche GT1 থেকে অনুপ্রাণিত “car-in-car concept” ইঞ্জিনের চারপাশ ঘিরে রেখেছে। এর সঙ্গে রয়েছে একটি সক্রিয় উইং। ইঞ্জিন কক্ষে ফ্যানের মতো দেখতে শীতলীকরণ উপাদানগুলোও 917 থেকে অনুপ্রাণিত, যা কনসেপ্টটির সঙ্গে Porsche-এর রেসিং ইতিহাসের যোগসূত্র তৈরি করেছে।
কেবিনের নকশাতেও একই রকম চালককেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা হয়েছে। ড্যাশবোর্ডজুড়ে একের পর এক স্ক্রিন বসানোর বদলে Porsche 550 Spyder এবং 356-এর মতো ক্লাসিক স্পোর্টস কার থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছে। ফলে তৈরি হয়েছে এমন একটি কেবিন, যেখানে চালকই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
চালকের সামনে রয়েছে পাঁচটি গোলাকার গেজ। একটি অ্যানালগ ধাঁচের একটি ট্যাকোমিটার ডিজিটাল ডিসপ্লের ঠিক মধ্যিখানে বসানো হয়েছে, যা ত্রিমাত্রিক দৃশ্যমানতার অনুভূতি তৈরি করে। নির্বাচিত ড্রাইভিং মোড অনুযায়ী গেজগুলোর অবস্থান পরিবর্তিত হয়। পুশ-পুল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাসহ প্রচলিত শারীরিক সুইচও এখানে গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে নতুন নকশার একটি Sport Chrono ঘড়ি, যেখানে অ্যানালগ ও ডিজিটাল—উভয় পদ্ধতিতেই সময় দেখার সুবিধা রাখা হয়েছে।
এতে আলাদা কোনো কেন্দ্রীয় টাচস্ক্রিন কিংবা যাত্রীর জন্য ডিসপ্লে নেই। এর বদলে Porsche ব্যবহার করেছে প্রত্যাহারযোগ্য স্মার্টফোন হোল্ডার, যাতে রয়েছে Apple MagSafe প্রযুক্তি। কেবিনের সাদা, ধূসর ও লাল রঙের সমন্বয় Porsche-এর মোটরস্পোর্টস ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়।
Porsche-এর CEO Dr. Michael Leiters বলেছেন, নকশাটির মূল লক্ষ্য ছিল এমন কিছু তৈরি করা, যা “প্রথম দেখাতেই Porsche হিসেবে চেনা যায়”।
Porsche-এর ডিজাইন বিভাগের প্রধান Tobias Sühlmann বলেছেন, এই কনসেপ্ট এমন একটি নকশাগত দিকনির্দেশনা তুলে ধরে, যা কোম্পানির ভবিষ্যতের উৎপাদন মডেলগুলোতেও অনুসরণ করা হবে।
Porsche-এর Mission S প্রতিষ্ঠানটির বেশ সংকটময় সময়ে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির লাভে নেমেছে বিপুল ধস অন্যদিকে তাদের বিদ্যুতায়ন পরিকল্পনা আশানুরূপ সাফল্য পায়নি। তাদের সবচেয়ে উচ্চবিত্ত ক্রেতারা চায় জ্বালানি ইঞ্জিন। নতুন একটি ফ্ল্যাগশিপ স্পোর্টস কার Porsche-কে সেই চাহিদা পূরণের সুযোগ দেবে।
(কোম্পানিটি ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছে যে তারা উচ্চক্ষমতার স্পোর্টস কারের একটি নতুন পরিবার তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে, যেগুলো ভবিষ্যতে তাদের পুরো গাড়ির পরিসরের একেবারে শীর্ষে অবস্থান করতে পারে। গাড়িগুলোর বডির নিচে কী থাকছে, তা এখনও রহস্যেমোড়া থাকলেও Mission S এখন পর্যন্ত সেগুলোর সম্ভাব্য চেহারা সম্পর্কে সবচেয়ে স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে।) বাদ দেওয়া যায়
আপাতত Mission S শুধুই একটি স্বপ্নের নকশা। এতে কোন ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে, কত শক্তি উৎপন্ন হবে কিংবা কখন এটি শোরুমে পৌঁছাবে, তার কিছুই আমরা জানি না। কিন্তু 911-এর ওপরে অবস্থান করা একটি মিড-ইঞ্জিন Porsche, যার থাকবে প্রকৃত জ্বালানি ইঞ্জিন এবং হয়তো একটি ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সও—শুধু এই সম্ভবনাটাই গাড়ি-প্রেমীদের কাছে যথেষ্ট আকর্ষণীয়।
গত কয়েক বছর ধরে Porsche বিশ্বকে বোঝানোর চেষ্টা করছিল যে তাদের ভবিষ্যৎ অনিবার্যভাবেই বৈদ্যুতিক। কিন্তু এখন কোম্পানিটি যখন নিজেদের বৈদ্যুতিক পরিকল্পনা নতুন করে ভাবছে এবং অতিধনী ক্রেতাদের জন্য আবার জ্বালানি ইঞ্জিন ফেরত আনছে, তখন Mission S আভাস দিচ্ছে, সামনে কী আসতে পারে।