চারটি ভাগ হবে নতুন Toyota Corolla
ছবিঃ Toyota
পরবর্তী প্রজন্মের Corolla নিয়ে কাজ করছে Toyota। তবে গাড়িটির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা তৈরিতে এবার ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করছে জাপানি প্রতিষ্ঠানটি।
Nikkei Cross Tech-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরো গাড়ির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা একটি কেন্দ্রীয় কম্পিউটারের অধীনে না এনে Toyota সেটিকে চারটি আলাদা ভাগে বিভক্ত করার পরিকল্পনা করছে।
এই চারটি ভাগ নিয়ন্ত্রণ করবে চালক-সহায়ক প্রযুক্তি, কেবিনের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, বডির ইলেকট্রনিকস এবং গাড়ির চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবস্থা। Tesla-র মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরা তারের ব্যবহার কমাতে এবং গাড়ির ইলেকট্রনিকস সরল করতে যখন কেন্দ্রীয় কম্পিউটিংয়ের দিকে এগোচ্ছে, তখন Toyota বেছে নিচ্ছে এই মডিউলার পদ্ধতি।
নতুন এই আর্কিটেকচার বিভিন্ন বাজারের জন্য আলাদা পাওয়ারট্রেন দেওয়ার ক্ষেত্রেও Toyota-কে আরও বেশি স্বাধীনতা দেবে। পরবর্তী Corolla-র চারটি রুপ থাকার কথা: প্রচলিত হাইব্রিড, সম্পূর্ণ পেট্রোলচালিত ইঞ্জিন, ব্যাটারিচালিত ইলেকট্রিক এবং প্লাগ-ইন হাইব্রিড।
Toyota দাবী করে, তারা যে নতুন ১.৫-লিটার ও ২.০-লিটারের ইনলাইন-ফোর ইঞ্জিন তৈরি করছে, যেগুলো আগের চেয়ে হালকা ও বেশি জ্বালানিসাশ্রয়ী হবে। ১.৫-লিটার ইঞ্জিনটি Corolla-র মতো কমপ্যাক্ট মডেলে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। Toyota-র আশা, নতুন এই ইঞ্জিনগুলো প্রতিটি ক্রেতাকে ইলেকট্রিক গাড়ি কিনতে বাধ্য না করেই জ্বালানি খরচ সাশ্রয়ের আরেকটি উপায় করে দেবে।
এক বছর আগে একটি কনসেপ্ট গাড়ির মাধ্যমে পরবর্তী Corolla-র নকশার আভাস দিয়েছিল Toyota। এতে ছিল ২১ ইঞ্চির চাকা, নিচের দিকে ঢালু বেল্টলাইন এবং ফ্রেমবিহীন দরজা। সাশ্রয়ী এই গাড়ির জন্য সেটি ছিল বেশ উচ্চাভিলাষী নকশা। উৎপাদন সংস্করণেও এসব বৈশিষ্ট্য থাকবে কি না, তা অবশ্য অন্য প্রশ্ন।
বর্তমান দ্বাদশ প্রজন্মের Corolla-র উৎপাদন শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। এখন মডেলটি তার জীবনচক্রের শেষ পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। Toyota আগামী বছর ত্রয়োদশ প্রজন্মের Corolla উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন গাড়িটি ২০২৮ মডেল হিসেবে বাজারে আসতে পারে।
বাংলাদেশে Corolla এখনও ব্যাপক জনপ্রিয়। নির্ভরযোগ্যতা, সহজ-সরল নকশা এবং দেশের রাস্তায় সকল দুর্যোগ ঠেলে টিকে থাকার সক্ষমতার কারণে প্রজন্মের পর প্রজন্মের ক্রেতারা গাড়িটির ওপর আস্থা রেখে এসেছেন। অবশ্য বাংলাদেশের রাস্তায় চলা বেশিরভাগ Corolla এ দেশে আসার আগে কয়েক বছর জাপানে কাটিয়েছে।
তবে ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি বদলাতে পারে। Toyota Bangladesh আগামী কয়েক বছরে দেশে গাড়ি সংযোজনের পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে, বাংলাদেশের রাস্তায় চলা পরবর্তী প্রজন্মের Corolla হয়তো আর কোনো আমদানি করা পুরোনো গাড়ি হবে না। সেটি হতে পারে স্থানীয় কর্মীদের হাতে সংযোজিত একেবারে নতুন গাড়ি।
পরবর্তী প্রজন্মের Corolla নিয়ে কাজ করছে Toyota। তবে গাড়িটির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা তৈরিতে এবার ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করছে জাপানি প্রতিষ্ঠানটি।