গাড়ি ধোয়ার টুকিটাকি
ছবিঃ Unsplash
জনবহুল এই শহরে সব গাড়িই মাত্র দুই-তিন দিনের ব্যবধানে ধুলোবালির আস্তরণে ঢাকা পড়ে যায়। তাই গাড়ি ধোয়া আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তবে রঙের ক্ষতি না করে কীভাবে গাড়ি পরিষ্কার করতে হয় তা হয়তো অনেকেই জানেন না। তাই পরবর্তীতে গাড়ি ধোয়ার সময় নিচের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে পারেন।
সরাসরি রোদে গাড়ি ধোবেন না
সরাসরি সূর্যের আলো গাড়ি পরিষ্কারের প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কড়া রোদে পানি এবং ডিটারজেন্ট খুব দ্রুত শুকিয়ে যায়। ফলে সাবান-পানি ঘষে ময়লা পরিষ্কার করার আগেই শুকিয়ে যাওয়া কণাগুলো গাড়ির ক্লিয়ার কোটে স্ক্র্যাচ ফেলে দেয়।
এছাড়া দ্রুত পানি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে গাড়ির গায়ে জলকণার ছোট ছোট সাদা দাগ পড়ে যায়, যা আমাদের পাইপলাইনের হার্ড ওয়াটার বা ক্ষারযুক্ত পানির কারণে আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই সবসময় ছায়াযুক্ত স্থানে গাড়ি পরিষ্কারের চেষ্টা করুন।
মাইক্রোফাইবার তোয়ালে ব্যবহার করুন
মানুষের ত্বকের জন্য গামছা বেশ উপযোগী হলেও গাড়ি পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে এটি মোটেও ভালো কোনো উপাদান নয়। গাড়ি মুছার জন্য আদর্শ হলো একটি প্রপার মাইক্রোফাইবার তোয়ালে, যাতে থাকে প্রয়োজনীয় পুরুত্ব আর কোমলতা। কিন্তু গামছা বেশ পাতলা আর নরম হওয়ায় আপনার অজান্তেই এই কাপড়টি ধুলোবালি মুছার সময় গাড়ির ক্লিয়ার কোটের উপর চেপে বসে তাতে দাগ ফেলে দেয়।
অন্যদিকে মাইক্রোফাইবার তোয়ালে ধূলিকণাগুলোকে নিজের ভেতর আটকে নেয় এবং পেইন্ট থেকে দূরে রাখে।
একাধিক বালতি ব্যবহার করুন
গাড়ি মোছার গামছা বা তোয়ালে যাই ব্যবহার করা হোক না কেন, জমে থাকা ধুলোবালি পরিষ্কার করতে বারবার তা পানিতে চুবিয়ে নিতে হয়। একটিমাত্র বালতি ব্যবহার করলে কিছুক্ষনের মধ্যেই ভেতরের পানি ময়লা হয়ে যায়। সেই পানিতে কাপড় চুবিয়ে আবার গাড়ি মুছলে ময়লাগুলো কাপড়টির সাথে পুনরায় গাড়ির ওপরই ফিরে আসে।
এর সহজ সমাধান হলো দুটি বালতি ব্যবহার করা—একটি সাবান-পানির জন্য এবং অন্যটি পরিষ্কার পানির জন্য। সাবান-পানিতে কাপড় ভিজিয়ে গাড়ি মুছুন, তারপর ময়লা হওয়া কাপড়টি অন্য বালতির পানিতে ধুয়ে নিন। পুরো গাড়ি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত এই নিয়মটি মেনে চলুন। এতে কোনো স্ক্র্যাচ পড়ার ঝুঁকি ছাড়াই নিরাপদে গাড়ির বেশিরভাগ ময়লা পরিষ্কার করা সম্ভব হবে।
প্রেশার ওয়াশার ও ভ্যাকুয়াম ক্লিনার
পানির পাইপ এবং বালতি দিয়ে গাড়ি কেবল ভেজানো যায়, তবে বডির সাথে লেগে থাকা আঠালো ঝুল বা ময়লা কণাগুলো তোলা যায় না। এগুলো হাত দিয়ে মুছতে গেলে গাড়ির ক্লিয়ার কোটে গভীর দাগ পড়ার ঝুঁকি থাকে। একটি ভালো মানের প্রেসার ওয়াশার ক্লিয়ার কোটের তুলনামুলক ক্ষতি না করেই সব শক্ত ময়লা এবং গভীরে জমে থাকা ধূলিকণা এক নিমিষেই দূর করে দেয়। সঠিক নজলের সাহায্যে একটি প্রেসার ওয়াশার পুরো গাড়িতে খুব সুন্দরভাবে ঘন ফোমের আস্তরণ তৈরি করতে পারে, যা খালি হাতে কোনোভাবেই সম্ভব না।
তবে প্রেসার ওয়াশার কেবল গাড়ির বাইরের অংশ পরিষ্কারের জন্যই উপযোগী। ভেতরের অংশ পরিষ্কার করতে গাড়ির ১২-ভোল্ট চার্জারে চলা একটি ছোট ভ্যাকুয়াম ক্লিনার সিটের ফেব্রিক ও মেঝের ময়লা দূর করতে দারুণ কাজে আসে। বিশেষ করে ব্রাশ দিয়ে ভেতরের ময়লা আগে আলগা করে নিলে পরে সহজেই তা ভ্যাকুয়াম দিয়ে টেনে নেওয়া যায়।
ধোয়া শেষে ভালো করে শুকিয়ে নিন
ক্ষারযুক্ত পানির ক্ষতিকারক দাগের কথা আগেই বলেছি। খেয়াল করে দেখবেন, আমাদের বাথরুমের টাইলসে যে সাদা দাগগুলো পড়ে, তার মূল কারণ হলো এই ক্ষারযুক্ত পানি। কিন্তু গাড়ির পেইন্ট মোটেও বাথরুমের টাইলসের মতো শক্ত নয়, তাই পেশাদারদের সহায়তা ছাড়া এই দাগ তুলতে গেলে বেশ ক্ষতি হয়ে যায়।
গাড়িকে নিজের মতো শুকিয়ে যেতে দিলে এই দাগগুলো তৈরি হয়, আর পানি জমে থাকলে মেটাল পার্টসে মরিচাও ধরে যেতে পারে। তাই সহজ উপায়টি হলো গাড়ি ধোয়া শেষে একটি শুকনো তোয়ালে দিয়ে সব পানি মুছে নেওয়া।
মাঝে মাঝে কিছু পুরনো গাড়িতে এমন সব বৈশিষ্ট্য দেখা যায় যা দেখে মনে হয় গাড়িটি ডিজাইনার ভবিষ্যৎ থেকে নিয়ে থেকে এসেছেন। আর কখনো কখনো গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলি এমন ভবিষ্যৎমুখী গাড়ি তৈরি করে যা বাজারের চাহিদা ও সময়ের থেকেও যুগ যুগ এগিয়ে থাকে। এরকম চারটি গাড়ি নিয়ে কিছু কথা বলব আজ।