ছোট গাড়ি, বড় হৃদয়: Aqua Club Grand Meet
ছবিঃ আকিফ হামিদ, ইমরান আবিদ
বাংলাদেশের গাড়িজগতে Toyota Aqua তুলনামূলক শান্ত ও নিরীহ এক সদস্য।
আন্তর্জাতিকভাবে Prius C নামে পরিচিত Toyota-র এই ছোট্ট হাইব্রিড হ্যাচব্যাকটি বাংলাদেশে ধীরে ধীরে নিজস্ব একটি অনুসারী দল গড়ে তুলেছে। প্রাণবন্ত চেহারা, ছোটখাটো আকৃতি এবং অসাধারণ জ্বালানি সাশ্রয়ের সক্ষমতার জোরে গাড়িটি জয় করে নিয়েছে বহু ভক্ত ও অনুসারীর মন।
গত শুক্রবার দৈনন্দিন যাতায়াতের এই শান্ত নায়কের গুণগান গাইতে জড়ো হয়েছিলেন এর ভক্তরা।
Toyota Aqua Club Bangladesh-এর উদ্যোগে আয়োজিত এটি ছিল ক্লাবের দ্বিতীয় জমায়েত। প্রথমটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল পাঁচ বছর আগে Chef’s Table Courtside-এ। তবে EventKoi-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এবারের এই সমাবেশের পরিসর ছিল আগের চেয়ে বেশ বড়।
স্বদেশ প্রপার্টিজ লিমিটেডের সৌজন্যে সমাবেশটি বসেছিল সানভ্যালি আবাসন-এর সানভ্যালি গ্র্যান্ড সার্কেলে। একইসঙ্গে এতে যোগ দেয় Automo Japan, Liqui Moly এবং কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবে BYD Bangladesh। গিফট পার্টনার হিসেবে এতে যুক্ত ছিল Autonemo, AuxBeam, Toro এবং CarAid; আর স্টল পার্টনার হিসেবে নিজেদের পসরা সাজিয়ে বসেছিল Liqui Moly ও Halkon। এছাড়া Autovision, Autopia, Chapghor, Ahsanz, iWorks এবং Wash & Works-এর মতো কুপন পার্টনারদের কাছ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা লুফে নেন দর্শনার্থীরা। পুরো দিনের প্রিন্টিংয়ের দিকটি সামলানোর দায়িত্বে ছিল StickR।
নতুন গড়ে ওঠা সানভ্যালি আবাসনে পৌঁছানোই ছিল দিনের প্রথম পরীক্ষা। তবে প্রধান ফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই সবকিছু অনেক সহজ হয়ে যায়। রাস্তাঘাট এবং আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা ছিল বেশ গোছানো, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই হাজির হতে শুরু করে বাহারি রূপের Aqua-গুলো।
ছবিঃ আকিফ হামিদ
এরপর গাড়ির সংখ্যা বাড়তেই থাকে।
আয়োজনে ৬৫ টি গাড়ি নিবন্ধন করলেও সময়ের সাথে সাথে উৎসাহী Acqu চালকরা সমাবেশে এসে যোগ দিতে থাকেন। দিনশেষে দেখা যায় প্রায় ১৫ থেকে ২৫ টি অতিরিক্ত গাড়ি হাজির হয় আর Toyota-র এই নির্ভরযোগ্য ছোট্ট হাইব্রিডের সমাগম জমজমাট এক মিলমমেলা হয়ে উঠে।
স্বাভাবিকভাবেই স্বভাবতই প্রতিটি গাড়ি ফ্যাক্টরি থেকে বের হওয়ার পর একই রকম থাকেনি। বেশ কয়েকজন মালিক তাঁদের গাড়িগুলোকে নিজের পছন্দমতো সাজিয়েছিলেন—এর মধ্যে একটিতে লাগানো হয়েছিল এয়ার সাসপেনশন, যার খরচ সম্ভবত গাড়িটির দামের কাছাকাছি!
আসলে গাড়িপ্রেমিদের পাগলামিটাই এমন। গাড়ির প্রতি ভালোবাসা এসে ভর করলে যুক্তি তখন সবচেয়ে কাছের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।
বিশাল এই সমাবেশে গাড়ির মালিকরা অলস বসে থাকেননি। তাঁদের কুশলবিনিময় পরিণত হয়েছিল দীর্ঘ আলাপে, আলাপ গড়িয়েছিল হাসিতে, আর হাসি একসময় রূপ নিয়েছিল সেই চিরচেনা আড্ডায়—যা গাড়ির প্রতি একই ধরনের উন্মাদনা থাকা একঝাঁক মানুষ এক জায়গায় জড়ো হলে অনিবার্যভাবেই ঘটে থাকে।
ছবিঃ ইমরান আবিদ
চারপাশে অন্যান্য আয়োজনও কম ছিল না। BYD তাদের অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড মডেলগুলো নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল, সাথে ছিল চিরাচরিত র্যাফেল ড্র এবং গাড়িপ্রেমীদের নানা আনন্দ-উচ্ছ্বাস।
দিনশেষে এই সমাবেশটি হর্সপাওয়ারের হিসাব, বিলাসবহুল ব্যাজ বা অতিরঞ্জিত মডিফিকেশনের চেয়ে অনেক বেশি খাঁটি এবং মৌলিক কিছু উদযাপন করেছে।
Aqua প্রমাণ করে যে মানুষের নিখাদ ভালোবাসা পেতে কোনো গাড়িকে দ্রুতগতির, বিকট শব্দের বা অতিরিক্ত দামি হওয়ার প্রয়োজন নেই। এটি নির্ভরযোগ্য হতে পারে। এটি জ্বালানিবান্ধব হতে পারে। এমনকি এটি দেখতে মিষ্টি ও আদুরেও হতে পারে।
আর যখন পর্যাপ্তসংখ্যক মানুষ একই গাড়ির প্রেমে পড়েন, তখন একে অপরকে খুঁজে নেওয়া এবং সেই গাড়িতে ঠাসা বিশাল এক মিলনমেলার আয়োজন করাটাও তাদের জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র।
MG বাংলাদেশে নিজেদের বৈদ্যুতিক উপস্থিতি বাড়াতে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছে। শুরুটা হয়েছিল HS মাঝারি ক্রসওভার দিয়ে—যা ব্র্যান্ডটির Super Hybrid ড্রাইভ সিস্টেমের সহায়তায় কেবল ব্যাটারি শক্তিতেই ১০০ কিলোমিটারের বেশি চলতে পারে। এরপর আসে তুলনামূলক ছোট ZS। তবে MG তাদের তৃতীয় হাইব্রিড গাড়ির জন্য উল্টো পথ অনুসরণ করে দেশের মাটিতে নিয়ে এসেছে তিন সারির আসনবিশিষ্ট বিশাল MGS9 রেঞ্জ-এক্সটেন্ডেড SUV।
আর স্বাভাবিকভাবেই, MG সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই গাড়ির উন্মোচনটি তার আকারের মতোই রাজকীয় ও বিশাল হওয়া উচিত।