Super Tuner 9.0: এক বছর পর

ছবিঃ ইমরান আবিদ।

ভাবতে অবাক লাগে, Super Tuner 9.0 রাজপথ কাঁপিয়ে যাওয়ার পর কীভাবে যেন একটি বছর পার হয়ে গেছে। সেই জমকালো আয়োজনটি এখনও স্মৃতির পাতায় উজ্জ্বল

বাংলাদেশের গাড়িপ্রেমীদের ক্যালেন্ডারে এটি ছিল অন্যতম প্রতীক্ষিত একটি উইকএন্ড। ছুটির দিনের আরামের ঘুম আর সপ্তাহের জমানো কাজ ফেলে গাড়ি পাগল মানুষেরা তাদের চমৎকার গাড়িগুলো নিয়ে হাজির হয়েছিল গতির উদযাপনে।

ঐতিহ্য মেনে এবারও অনুষ্ঠানটির মূল আয়োজক ছিলেন ওয়াসি উদ্দিন। তাঁর সুদূরপ্রসারী ভাবনার কারণেই দেশের সেরা সেরা সব গাড়িকেগুলো আবারও এক আকাশের নিচে জড়ো হয়েছিল।

সকাল ৮টার মধ্যেই ৩০০ ফিটের প্রবেশমুখে JDM লেজেন্ড আর ইউরোপিয়ান এক্সোটিক গাড়ির মেলা বসে যায়। ফাঁকা রাস্তায় ঝড়ের গতিতে ছুটে চলার জন্য গাড়িগুলো সারিবদ্ধভাবে প্রস্তুত হচ্ছিল।

Super Tuner 9.0 স্মরণীয় হয়ে থাকার মূল কারণই ছিল বৈচিত্র্যময় গাড়ির সমাহার। সেখানে ছিল উচ্চ গতির Chaser, ট্র্যাকে জন্ম নেওয়া Evo, মার্জিত ডিজাইনের জার্মান ক্রুজার, আর সেই সাথে এমন বহু গাড়ি—যেগুলোর পেছনে মালিকেরা নিজের চেয়েও বেশি যত্ন ঢেলে দিয়েছেন! তবে এত সবকিছুর মাঝেও একটি গাড়ি এক বছর পরও মনে বিশেষ জায়গা নিয়ে আছে: Audi R8। স্থির দাঁড়িয়ে থেকেও গাড়িটা যে কী পরিমাণ আগ্রাসী একটা রূপ ধরে রেখেছিল, তা ভুলবার নয়।

বাংলাদেশের কার কালচার কতটা প্রাণবন্ত, এই ইভেন্টটি তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছিল।

এরপর দেখতে দেখতে বেজে যায় সকল ১০টা। ৩০০ ফিটের মোড় থেকে পুরো বহরটি একসাথে নির্দিষ্ট মিলনস্থলের দিকে এগোতে শুরু করে। সত্যি বলতে, পুরো আয়োজনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল এই ড্রাইভটিই। কারণ এসব গাড়ির আসল সৌন্দর্যই হলো রাস্তায় গর্জন তুলে দাপিয়ে বেড়ানো। গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখে অনর্থক মডিফিকেশনের গল্প শোনার চেয়ে, একঝাঁক গর্জনশীল গাড়িকে একসাথে রাজপথ কাঁপিয়ে ছুটতে দেখার অনুভূতিই একদম আলাদা।

সেদিন মোটরগাড়ির অনবদ্য নির্মাণশৈলী প্রদর্শনের পাশাপাশি ছিলো আরো নানা আয়োজন। ড্রোনের মাধ্যমে পুরো জমায়েতের অসাধারণ এক স্মৃতি ফ্রেমবন্দী করা হয়। এরপর শুরু হলো দিনের সবচেয়ে জরুরি পর্ব: ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি নিয়ে আড্ডা, তর্ক আর গভীর প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের জন্য শরীরেরও তো ফুয়েলের প্রয়োজন আছে, পরিবেশিত হলো গরুর মাংস আর পরোটার নাস্তা!

২০২৪-র পূর্বাচল রানের চেয়ে Super Tuner 9.0 ছিল আরও এক ধাপ এগিয়ে। তবে এর আসল সার্থকতা গাড়িগুলোর মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি ছিল মূলত সেই মেলবন্ধন ও ভালোবাসার গল্প, যা বাংলাদেশের কার কালচারকে টিকিয়ে রেখেছে। কেউ এক্সোটিকের টানে এসেছেন, কেউ JDM আইকনের জন্য, আবার কেউ মমতায় আগলে রাখা পুরোনো Toyota দেখতে এসেছেন—কিন্তু দিনশেষে সবার ভেতরের আবেগ ছিল একই।

এক বছর পর এসে এই বিষয়টি মনে দাগ কাটে। সময়ের সাথে গাড়ি বদলাতে পারে, টিউনিংয়ের রূপ বদলাতে পারে, কিন্তু মানুষের এক জায়গায় জড়ো হওয়ার মূল কারণটা আজও একই রয়ে গেছে। তারা গাড়ি ভালোবাসে, গাড়ি নিয়ে কথা বলতে ভালোবাসে, আর নিজেদের মতো গাড়ি পাগল মানুষের সাথে সময় কাটাতে ভালোবাসে।

Super Tuner 9.0 ছিল ঠিক সেই অনুভবেরই এক চমৎকার স্মারক।

Previous
Previous

গাড়িপ্রেমিদের পরিভাষা: অদ্ভুত শব্দের সহজ গাইড

Next
Next

সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা ৪টি গাড়ি