মোটরবাইক দুর্ঘটনা: অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা
ছবিঃ Unsplash
কথায় আছে, সবচেয়ে ভালো দুর্ঘটনা সেটাই যা থেকে আপনি হেঁটে বাড়ি ফিরতে পারেন। তবুও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি— দুর্ঘটনার পর কিছু বিষয় মেনে চললে সেই হেঁটে ফেরার কষ্টটুকু অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
মানসম্পন্ন রাইডিং গিয়ার ব্যবহার করুন
জেনে হয়তো অবাক হবেন মাত্র ২০ কিমি/ঘণ্টার মতো কম গতিতে আঘাত পেলেও আপনার মাথার খুলি ফেটে যেতে পারে। একটি ভাঙা হাত বা পা নিয়ে হয়তো বেঁচে থাকা সম্ভব, কিন্তু ফাটা খুলি চিরতরে আপনাকে এই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে পারে।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু রোধে হেলমেট প্রায় ৩৭ শতাংশ এবং মস্তিষ্কের আঘাত প্রতিরোধে প্রায় ৬৭ শতাংশ কার্যকর। তাই অন্তত আসল DOT সার্টিফিকেশন রয়েছে এমন একটি হেলমেট কিনুন; আর ECE স্ট্যাম্পযুক্ত হলে তো আরও ভালো। মাথার সুরক্ষার পাশাপাশি হাত ও পায়ের সুরক্ষার জন্য গার্ডে বিনিয়োগ করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করুন, কারণ একজোড়া মানসম্পন্ন গার্ডের দাম দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া একটি কব্জি ঠিক করার খরচের তুলনায় অনেক কম।
সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করুন
প্রকৃতপক্ষে মানবদেহ হাড়-মাংসের তৈরি একটি জটিল কম্পিউটারের চেয়ে খুব বেশি আলাদা নয়। আর কম্পিউটারের মতোই কোনো অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা বা আঘাতের পর সচল হতে শরীরেরও কিছুটা সময় লাগে। তাই বাইক থেকে ছিটকে পরার পর দয়া করে লাফ মেরে উঠে না দাড়িয়ে আগে সাহায্য আসার জন্য অপেক্ষা করুন।
আহত হলে, বিশেষ করে মাথায় আঘাত লাগলে, তৎক্ষণাৎ হাঁটাচলা শুরু করবেন না কিংবা বাইক তুলে আবারও চালানো শুরু করবেন না। এ ধরনের নড়াচড়া যেকোনো ছোটখাটো আঘাতকে আরও গুরুতর করে তুলতে পারে—যেমন কেবল হালকা ফাটল ধরা কব্জিটি কয়েক টুকরো হয়ে যেতে পারে। আর মস্তিষ্কে যদি কোন ক্ষতি হয়, কোনো পূর্বসংকেত ছাড়াই আপনি জ্ঞান হারাতে পারেন এবং এবার জেগে ওঠার সুযোগটা আর না-ও পেতে পারেন। নিকটবর্তী কারো সাহায্য নেওয়া সবচেয়ে ভালো, আর তা সম্ভব না হলে অন্তত সাহায্য পাওয়া যাবে এমন কোথাও ফোন করুন।
আপনার মেডিকেল তথ্য সাথে রাখুন
ধরে নিচ্ছি আপনি রাইডিং গিয়ারের পেছনে কিপ্টেমি করেননি এবং দুর্ঘটনার পরও বেঁচে আছেন; এক্ষেত্রে আপনার কিছু জরুরি মেডিকেল তথ্য সবসময় সাথে রাখা বেশ বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বিপদ ঘটার পর আপনি সচেতন থাকবেন কি না বা ঠিকমতো কথা বলতে পারবেন কি না তার কোনো নিশ্চয়তা থাকেনা। অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আমি নিজের দু পায়ে দাঁড়ানোর প্রায় আধা ঘন্টা পরও ঠিকমত কথা বলার অবস্থায় ছিলাম না। অত্যন্ত জরুরি কিছু তথ্য যেমন আপনার নাম, জরুরি যোগাযোগের নম্বর এবং রক্তের গ্রুপ—এগুলো একটি কাগজে লিখে আপনার হেলমেটের পেছনে টেপ দিয়ে লাগিয়ে রাখুন এবং একটি কপি আপনার মানিব্যাগেও রাখুন।
সর্বশেষে, দেরী না করে হাসপাতালে যান।
শরীরে শুধু ব্যথা অনুভব মানে যে হাড় ভাঙেনি তা নয়। অথবা সামান্য মাথা ঝিমঝিম করার অর্থ এই নয় যে ব্রেন ট্রমার কারণে আপনার বমি হবে না। হাসপাতালে যান, চিকিৎসককে নিশ্চিত হতে দিন যে শরীরের কোন ক্ষতি হয়নি। এতে হয়তো কয়েক সপ্তাহ পর গিয়ে অবহেলা করা কব্জি ঠিক করতে আপনার তিন মাসের পুরো বেতন ঢালতে হবে না।
কথায় আছে, সবচেয়ে ভালো দুর্ঘটনা সেটাই যা থেকে আপনি হেঁটে বাড়ি ফিরতে পারেন। তবুও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি— দুর্ঘটনার পর কিছু বিষয় মেনে চললে সেই হেঁটে ফেরার কষ্টটুকু অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।