সারওয়ার চৌধুরী: ডক্টর, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, রেসিং ড্রাইভার
ছবিঃ সংগৃহীত
ডা. সারওয়ার হুসাইন চৌধুরী—একদিকে ডক্টর, শিক্ষক ও ব্যবসায়ী, অন্যদিকে একজন নিবেদিতপ্রাণ পেট্রোলহেড ও রেসিং ড্রাইভার। নিজ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ নেওয়া এই পেট্রোলহেড ছোটবেলা থেকেই Formula 1-এর ভক্ত। বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রশিক্ষণের সুযোগ কিংবা একটি সাধারণ রেসিং ট্র্যাক পর্যন্ত নেই, সেখানে সীমিত সামর্থ্য আর নিজস্ব উদ্যোগকে পুঁজি করেই তিনি গড়ে তুলেছেন তাঁর রেসিং ক্যারিয়ার।দেশের Rallycross-এর চাম্পিওন হবার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক Gymkhana প্রতিযোগিতায়ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে পডিয়াম অর্জন করেছেন তিনি। Automobile Association of Bangladesh (AAB)-এর নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে ২০২৬ সালের Asia Pacific Motorsports Championship-এ অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি, দেশের মোটরস্পোর্টসের সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কিছু কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলাম আমরা।
প্রশ্ন: আপনি একইসাথে ডক্টর, শিক্ষক ও ব্যবসায়ী। মোটরস্পোর্টসের প্রতি আগ্রহ কীভাবে তৈরি হলো?
ডা. সারওয়ার চৌধুরী: প্রথমত, আমি ডক্টর হলেও এখন প্র্যাকটিস করছি না। এখন আমি মূলত শিক্ষকতা করি। আমার নিজস্ব একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে, QED Academy, শেখানে মূলত ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়। ব্রিটিশ কারিকুলামের পাশাপাশি আমরা অস্ট্রেলিয়ান কারিকুলামও চালু করেছি।
মোটরস্পোর্টসের প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই। ১৯৯১-৯২ সালের দিকে Ayrton Senna-র Formula 1 রেস দেখতাম। তিনিই আমার প্রথম মোটরস্পোর্টসের অনুপ্রেরণা। পরে Michael Schumacher এবং Lewis Hamilton-ও আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন। Hamilton এখনও আমার প্রিয় ড্রাইভার।
ছোটবেলায় ঘরে গাড়ির পোস্টার লাগাতাম, ছবি আঁকলে স্পোর্টস কার আঁকতাম। তবে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ও কাজের দায়িত্ব বেড়েছে। বাংলাদেশে মোটরস্পোর্টসে প্রবেশের সুযোগও খুব সীমিত ছিল।
কিন্তু পরবর্তীতে Bangladesh Motorsports যখন Rallycross আয়োজন শুরু করে, তখন আমার বন্ধু অভিক আনোয়ার আমাকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানায়। মোটরস্পোর্টস ভালোবাসতাম, তাই আর দেরি করিনি।
প্রশ্ন: আপনার মোটরস্পোর্টসে অংশ নেবার সিদ্ধান্ত আপনার পরিবার কীভাবে নিয়েছিল?
ডা. সারওয়ার চৌধুরী: আমার পরিবার জানে, আমি দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালাই। ছোটবেলায় হয়তো একটু দ্রুত চালাতাম, কিন্তু মোটরস্পোর্টসে আসার পর রাস্তায় দ্রুত চালানোর অভ্যাস আর নেই। সড়কে আমি ট্রাফিক আইন মেনে চলি।
রেসিংয়ের পরিবেশ আর সাধারণ রাস্তা এক নয়। ট্র্যাকে নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং চিকিৎসা সহায়তা থাকে। দুর্ঘটনা ঘটলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে মোটরস্পোর্টস আগের তুলনায় অনেক নিরাপদ।
আমি ভারতে Formula 4-এর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। ভবিষ্যতে নিজের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াতে পারলে সেখানে আবার ফিরতে চাই। Touring Car Racing-এও আগ্রহ রয়েছে। তবে রেসিংয়ের জন্য নির্ধারিত ট্র্যাককে আমি বাংলাদেশের সাধারণ রাস্তায় গাড়ি চালানোর চেয়ে নিরাপদ মনে করি!
প্রশ্ন: বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলো কী বলে মনে করেন?
ডা. সারওয়ার চৌধুরী: আমাদের রাস্তায় এমন অনেক মানুষ যানবাহন চালান, যাঁদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নেই। অনেকেই ট্রাফিক আইন ও সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে যথেষ্ট জানেন না। যেমন টেসলা রিকশা, অটো রিকশা, এগুলোর নকশা ও ব্রেকিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা রাস্তায় প্রচণ্ড ঝুঁকি বাড়ায়।
চিকিৎসক হিসেবে আমি আরও একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই। বাংলাদেশের অসমান রাস্তায় কিছু ছোট বৈদ্যুতিক যানবাহনের সাসপেনশন সীমাবদ্ধতা যাত্রীদের মেরুদণ্ডে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। রাস্তার গর্ত ও ঝাঁকির প্রভাব উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রেও চালকের প্রকৃত দক্ষতা ও ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জ্ঞান নিশ্চিত করা জরুরি। আমি চাই, সড়কে নিরাপদে গাড়ি চালানোর সংস্কৃতি গড়ে উঠুক। আর কেউ দ্রুত গাড়ি চালাতে চাইলে, সেটি রাস্তায় নয়, ট্র্যাকে করা উচিত।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে কোনো পূর্ণাঙ্গ রেসিং সার্কিট নেই। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য আপনি কীভাবে প্রস্তুতি নেন?
ডা. সারওয়ার চৌধুরী: আমি বর্তমানে Gymkhana বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। এই ধরনের প্রতিযোগিতায় বড় রেসিং সার্কিটের প্রয়োজন হয় না। গাড়ির নিয়ন্ত্রণ, ব্রেকিং পয়েন্ট এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখানোর দক্ষতা এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। উপযুক্ত খোলা জায়গায় অনুশীলন করা সম্ভব।
তবে Touring Car Racing, Autocross কিংবা আন্তর্জাতিক মানের Karting-এর জন্য ভালো ট্র্যাক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে কার্টিংয়ের কিছু সুযোগ থাকলেও সেগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ট্র্যাকগুলোর মতো চ্যালেঞ্জিং নয়।
একটি পূর্ণাঙ্গ রেসিং সার্কিট নির্মাণ ব্যয়বহুল। বেসরকারি উদ্যোগে তা আর্থিকভাবে লাভজনক করা কঠিন। তাই সরকারের বিনিয়োগ প্রয়োজন। বাংলাদেশের অভিক আনোয়ার সহ অনেক প্রতিভাবান চালক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য পাচ্ছেন। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামো পেলে এই সাফল্য আরও বাড়তে পারে।
রেসিং ট্র্যাক তৈরি হলে দুটি সুবিধা হবে। প্রতিযোগীরা প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন, আর যারা দ্রুত গাড়ি চালাতে ভালোবাসেন, তাঁরা নিরাপদ পরিবেশে নিজেদের দক্ষতা পরীক্ষা করতে পারবেন।
প্রশ্ন: ট্র্যাক অভিজ্ঞতা কি সড়কে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানোর প্রবণতা কমাতে পারে?
ডা. সারওয়ার চৌধুরী: আমার মনে হয়, এটি সাহায্য করতে পারে। তবে শুধু ট্র্যাক তৈরি করলেই হবে না, ট্রাফিক আইনও সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই, এমন বিষয় নিয়ে চালকদের হয়রানি না করে সরকারের আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। লাইসেন্স থাকলেই একজন চালক ট্রাফিক আইন জানেন, এমন নিশ্চয়তা নেই।
আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সড়কে নিরাপত্তা বাড়ানো এবং মানুষকে আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করা।
প্রশ্ন: Gymkhana-তে প্রতিযোগিতা করতে বিশেষভাবে তৈরি রেসিং কারের বদলে সাধারণ গাড়ি ব্যবহার করা হয় কেন?
ডা. সারওয়ার চৌধুরী: Gymkhana মূলত চালকের দক্ষতা যাচাইয়ের প্রতিযোগিতা। এখানে দ্রুত প্রতিক্রিয়া, গাড়ির নিয়ন্ত্রণ, ব্রেকিং এবং ভিন্ন গাড়ির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। তাই সাধারণ ও তুলনামূলক কম শক্তিশালী গাড়িতে অনুশীলন করাই ভালো।
আমি আমার Mitsubishi Lancer ব্যবহার করে অনুশীলন করছি। এটি আসলে আমার মায়ের গাড়ি। আমার নিজের আরও উপযুক্ত গাড়ি থাকলেও এই সাধারণ গাড়িতে অনুশীলন করে অনেক উন্নতি হয়েছে।
একটি Mitsubishi Lancer বা সাধারণ সামনের চাকা চালিত গাড়িতে যে দক্ষতা তৈরি হয়, তা শক্তিশালী স্পোর্টস কারের তুলনায় ভিন্ন পরিস্থিতিতে কাজে লাগে। বিশেষভাবে তৈরি গাড়িতে গতি তোলার ও ব্রেকিংয়ের সুবিধা বেশি থাকে। কিন্তু Gymkhana-তে সবাই একই গাড়ি ব্যবহার করে বলে মূল পার্থক্য তৈরি হয় চালকের দক্ষতায়।
ভালো চালক সেই ব্যক্তি, যিনি অল্প সময়ে গাড়ির বৈশিষ্ট্য বুঝে নিজের ড্রাইভিং স্টাইলকে তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন।
প্রশ্ন: Simulator Racing কি বাস্তব মোটরস্পোর্টসে প্রবেশের ভালো উপায়? নতুনদের কোথা থেকে শুরু করা উচিত?
ডা. সারওয়ার চৌধুরী: অবশ্যই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে Formula 1-এর চালকরাও সিমুলেটর ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ নেন। সিমুলেটরে রেসিং লাইন, ব্রেকিং এবং Trail Braking-এর মতো কৌশল শেখা যায়।
তবে আমি সিমুলেটর ও কার্টিংকে আলাদা ধাপ হিসেবে না দেখে পাশাপাশি চালানোর পরামর্শ দেব। সিমুলেটরে শেখা কৌশল কার্টিংয়ে বাস্তবে অনুশীলন করা যায়। কার্টিং চালকের প্রতিক্রিয়ার গতি, মোটর স্কিল এবং গাড়ি নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা বাড়ায়। Lewis Hamilton ও Ayrton Senna-র মতো চালকেরাও কার্টিং দিয়ে শুরু করেছিলেন।
বাংলাদেশে AAB নতুনদের জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি করছে। মোটরস্পোর্টসে অংশ নিতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। AAB-এর মগবাজার কার্যালয়ে সিমুলেটর ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে। তাদের National E-Sports Championship-এর মাধ্যমে নতুন চালকেরা প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারছেন।
নতুনদের পরামর্শ দেব, একটি সাধারণ সিম রেসিং সেটআপ দিয়ে শুরু করুন। Logitech G29-এর মতো স্টিয়ারিং হুইলও যথেষ্ট। শুরুতেই সবচেয়ে ব্যয়বহুল সরঞ্জাম কেনার দরকার নেই। পাশাপাশি কার্টিংয়ের সুযোগ থাকলে সেটিও কাজে লাগান।
প্রশ্ন: Gymkhana-তে ভালো করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কী? আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আগে আপনার প্রস্তুতি কেমন ছিল?
ডা. সারওয়ার চৌধুরী: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সময় ও অনুশীলন। Gymkhana-তে কত দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারছেন, কোথায় ব্রেক করছেন এবং গাড়ির নিয়ন্ত্রণ কতটা ভালো, তার ওপর ফল নির্ভর করে।
গত বছর তাইওয়ান ও উজবেকিস্তানে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে আমি কিছুটা পিছিয়ে ছিলাম। Gymkhana-তে তখনও নতুন ছিলাম এবং পর্যাপ্ত অনুশীলন করতে পারিনি। সেখানে ভুল থেকে শিখতে হয়েছে।
পরবর্তীতে মালয়েশিয়া যাওয়ার আগে ঢাকার পূর্বাচলে খোলা জায়গায় অনুশীলন করেছি। কয়েক দিন নিয়মিত প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর আমার দক্ষতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছিল। আগে যেখানে প্রতিযোগিতার নিচের অর্ধে ছিলাম, পরে পডিয়াম অর্জন করেছি।
আমার টিম মেম্বার কাশফিয়া আরফা Gymkhana-তে আমার চেয়ে বেশি অভিজ্ঞ। তিনি ট্র্যাকে দ্রুত এবং বাংলাদেশের নারী Gymkhana চালকদের মধ্যে অন্যতম। অনুশীলনের সময় আমরা একে অপরের ভুল সংশোধন করি। আমাদের আরেক টিম মেম্বার অন্তর ভূঁইয়াও এই প্রস্তুতিতে অংশ নেয়।
ছবিঃ কাশফিয়া আরফা এবং ডা. সারওয়ার চৌধুরী
দলের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সবাই চাই, অন্য টিম মেম্বারও ভালো করুক। কারণ শেষ পর্যন্ত যে-ই জিতুক, সেই বাংলাদেশের পতাকা আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরবে।
Asia Pacific Motorsports Championship-এ প্রায় ৪০টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। তাই প্রতিযোগিতাটি কঠিন। তবে জিততে পারি বা না পারি, প্রতিটি প্রতিযোগিতা থেকে শেখার সুযোগ রয়েছে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে মোটরস্পোর্টসে প্রবেশ করতে চাইলে খরচের বিষয়টি কতটা বড় বাধা?
ডা. সারওয়ার চৌধুরী: মোটরস্পোর্টস ব্যয়বহুল, কিন্তু শুরু করার জন্য সব সময় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ দরকার হয় না। সিমুলেটর রেসিং, কার্টিং এবং Gymkhana—এই তিনটি তুলনামূলক সহজলভ্য পথ।
একটি ভালো সিমুলেটর সেটআপের জন্য কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম মিলিয়ে খরচ হতে পারে। তবে সাধারণ মানের গেমিং কম্পিউটার এবং Logitech G29-এর মতো স্টিয়ারিং হুইল দিয়েও শুরু করা যায়।
Gymkhana-র ক্ষেত্রে নিজের গাড়ি থাকা প্রয়োজন এবং নিয়মিত অনুশীলনে টায়ারের ক্ষয় হয়। বাংলাদেশের রাস্তায় টায়ারের ক্ষয় বেশি হতে পারে, আর টায়ারের দামও বেশি। ফলে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য কখনো কখনো টায়ারের আয়ু বিসর্জন দিতে হয়।
তবুও Touring Car Racing-এর তুলনায় Gymkhana অনেক সাশ্রয়ী। আন্তর্জাতিক মানের Touring Car Racing-এ অংশ নিতে হলে মালয়েশিয়া বা আশপাশের দেশে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
কার্টিংয়ের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সুযোগ বাড়ানো দরকার। বিশেষ করে চট্টগ্রামে একটি ভালো কার্টিং ট্র্যাক তৈরি হলে স্থানীয় চালকেরা উপকৃত হবেন। এশিয়ায় কার্টিং দ্রুত বাড়ছে এবং মালয়েশিয়াতে আন্তর্জাতিক মানের ট্র্যাকে অনুশীলনের সুযোগ রয়েছে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের মোটরস্পোর্টসের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?
ডা. সারওয়ার চৌধুরী: আমি আশাবাদী, কারণ বাংলাদেশে প্রতিভাবান মানুষের অভাব নেই। আমাদের মূল সমস্যা সুযোগের অভাব।
AAB-এর মাধ্যমে এখন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া, প্রশিক্ষণ নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ বাড়ছে। এই উদ্যোগগুলো আরও বিস্তৃত হলে নতুন চালকেরা নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করতে পারবেন।
আমি চাই আরও মানুষ মোটরস্পোর্টসে আসুক এবং এই সুযোগগুলো কাজে লাগাক। আমার প্রজন্ম যে কাজ শুরু করেছে, পরবর্তী প্রজন্ম যেন সেটিকে আরও এগিয়ে নিতে পারে। আমার সামান্য অবদানেও যদি বাংলাদেশের মোটরস্পোর্টস এগিয়ে যায়, তাহলে সেটিই হবে আমার জন্য গর্বের বিষয়।
ডা. সারওয়ার হুসাইন চৌধুরী—একদিকে ডক্টর, শিক্ষক ও ব্যবসায়ী, অন্যদিকে একজন নিবেদিতপ্রাণ পেট্রোলহেড ও রেসিং ড্রাইভার। নিজ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ নেওয়া এই পেট্রোলহেড ছোটবেলা থেকেই Formula 1-এর ভক্ত। বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রশিক্ষণের সুযোগ কিংবা একটি সাধারণ রেসিং ট্র্যাক পর্যন্ত নেই, সেখানে সীমিত সামর্থ্য আর নিজস্ব উদ্যোগকে পুঁজি করেই তিনি গড়ে তুলেছেন তাঁর রেসিং ক্যারিয়ার।দেশের Rallycross-এর চাম্পিওন হবার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক Gymkhana প্রতিযোগিতায়ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে পডিয়াম অর্জন করেছেন তিনি। Automobile Association of Bangladesh (AAB)-এর নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে ২০২৬ সালের Asia Pacific Motorsports Championship-এ অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি, দেশের মোটরস্পোর্টসের সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কিছু কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলাম আমরা।