পুরোনো GTO-তে ৬৫০ হর্সপাওয়ারের তাণ্ডব!

ছবিঃ Ringbrothers

Ringbrothers আবার তাদের পুরোনো স্বভাবে ফিরে গেছে: একটি ক্লাসিক গাড়ি নিয়ে তাতে বসিয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি, যোগ করেছে অবিশ্বাস্য অশ্বশক্তি। তাদের সর্বশেষ সৃষ্টি, একটি ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত ১৯৬৫ Pontiac GTO Convertible, যার নাম “Billie”।

গাড়িটি কারখানা ত্যাগ করেছিল একটি Pontiac Tempest Convertible হিসেবে। পরে Ringbrothers সেটিকে আইকনিক GTO-এর আধুনিক সংস্করণে রূপ দিয়েছে। পুরো কাজটি করতে প্রয়োজন হয়েছে ৫,৫০০ ঘণ্টারও বেশি সময়। গাড়িটির মূল ১৯৬৫ মডেলের অনুপাত ঠিক রেখেই বডি চওড়া করা হয়েছে পাঁচ ইঞ্চি। নতুন করে তৈরি করা হয়েছে সামনের ফেন্ডার, লম্বা করা হয়েছে রকার প্যানেল এবং আরও চওড়া করা হয়েছে পেছনের কোয়ার্টার প্যানেল।

গাড়িটির পরিচিত আকৃতি নষ্ট না করে চওড়া করার কাজটা মোটেও সহজ ছিল না। Ringbrothers-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা Jim Ring চ্যালেঞ্জটি ব্যাখ্যা করেছেন:

“চ্যালেঞ্জটি ছিল একটি '৬৫ জিটিও-এর সেই পরিচিত অনুপাত না হারিয়ে এর বডি পাঁচ ইঞ্চি চওড়া করা। আমরা কারখানার মূল বডি লাইনগুলোকে সূক্ষ্মভাবে মডিফাই করতে, ফেন্ডারের আকৃতি নতুন করে তৈরি করতে এবং প্রতিটি প্যানেল কীভাবে পরেরটির সাথে মিশে যাবে তা নিখুঁত করতে ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যয় করেছি। ডিজাইনের ছোটখাটো পরিবর্তনের আড়ালে রয়েছে বিশাল পরিমাণ নির্মাণকাজ। আমাদের লক্ষ্য ছিল পরিবর্তনগুলোকে এমন স্বাভাবিক দেখানো, যেন Pontiac শুরু থেকেই গাড়িটি এভাবেই তৈরি করেছিল।’

ওজন কম রাখতে গাড়িটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে প্রচুর পরিমাণ কার্বন ফাইবার। বনেটে রয়েছে বড় এয়ার স্কুপ এবং কার্যকরী ভেন্ট। সামনের চাকার হাউজিং, নিচের সম্মুখ ভ্যালান্স এবং পেছনের ডিফিউজারও তৈরি হয়েছে এই হালকা উপাদান দিয়ে। কাস্টম বাম্পার, নতুন নকশার হেডলাইটের সারাউন্ড এবং এক টুকরো অ্যালুমিনিয়ামে তৈরি টেইললাইট প্যানেল বাইরের পরিবর্তনগুলো সম্পূর্ণ করেছে। গাড়িটিতে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষভাবে তৈরি Billie Goat Blue রং, সঙ্গে পালিশ করা ক্রোমের ছোঁয়া এবং কালো ডিটেইলিং।

বনেটের নিচে রয়েছে Wegner Motorsports-এর সরবরাহ করা সুপারচার্জড ৬.২-লিটারের LT4 V8 ইঞ্জিন। এটি উৎপাদন করে ৬৫০ হর্সপাওয়ার এবং ৬৫০ lb-ft টর্ক। একই ইঞ্জিন Cadillac CT5-V Blackwing সহ General Motors-এর বেশ কয়েকটি মডেলও ব্যবহার করে। তবে এখানে ইঞ্জিনটির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে Bowler Performance-এর ১০-স্পিড অটোমেটিক ট্রান্সমিশন।

গাড়িটির অন্যান্য যান্ত্রিক অংশেও সমান মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে রয়েছে Flowmaster-এর তৈরি কাস্টম এক্সহস্ট সিস্টেম, Fox RS SV কয়েলওভার এবং Fast Track Stage III চ্যাসিস। ব্রেকিংয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছে Brembo ব্রেক, যার সামনে ও পেছনে রয়েছে ছয়-পিস্টন ক্যালিপার। গাড়িটি চলছে সামনে ১৯ ইঞ্চি এবং পেছনে ২০ ইঞ্চির HRE G-Code চাকার ওপর, যাতে লাগানো হয়েছে Michelin Pilot Sport Cup 2 টায়ার।

ভেতরের অংশে Ringbrothers শুধু পুরোনো কেবিনে বিলাসবহুল ট্রিম লাগিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং পুরো বিন্যাসেই পরিবর্তন এনেছে। ড্যাশবোর্ড চার ইঞ্চি এগিয়ে সামনে এবং দুই ইঞ্চি নামানো হয়েছে। কাস্টম অ্যালুমিনিয়াম ট্রিমের পাশাপাশি রয়েছে Dakota Digital-এর ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, Vintage Air-এর ক্লাইমেট কন্ট্রোল এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলো কমে আসা রিয়ার-ভিউ মিরর। কারখানায় লাগানো রেডিওটিও পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, তবে এবার এতে যুক্ত হয়েছে Bluetooth। ড্যাশবোর্ডে “Raised by Ringbrothers” ফলকটি সবাইকে মনে করিয়ে দেয়, গাড়িটি কারা তৈরি করেছে।

ক্লাসিক গাড়ির বিশুদ্ধতাবাদীরা আধুনিক যন্ত্রপাতি লাগানো GTO দেখে হয়তো নাক সিঁটকাবেন। তবে এই পদ্ধতির যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে।

পুরোনো দিনের আকর্ষণীয় নকশার সঙ্গে আধুনিক যন্ত্রাংশের পারফরম্যান্স ও নির্ভরযোগ্যতার সমন্বয়ে তৈরি এমন একটি ভিনটেজ গাড়ি বাস্তবসম্মতভাবে প্রতিদিন চালানো যায়। বিশেষ করে সেটি যখন সাড়ে ৬০০ হর্সপাওয়ার উৎপন্ন করে।

Next
Next

Karma-র ১,১৯৫ HP হাইব্রিড দানব