Karma-র ১,১৯৫ HP হাইব্রিড দানব

ছবিঃ Karma Automotive

Henrik Fisker-এর গাড়ি নির্মাণের প্রথম প্রচেষ্টাটি এখনও টিকে আছে। আর এবার তারা তৈরি করেছে ১,১৯৫ হর্সপাওয়ারের একটি সুপার সেডান।

Karma Automotive উন্মোচন করেছে Eximius 1, যা Revero-ভিত্তিক একটিমাত্র তৈরি ট্র্যাক-কেন্দ্রিক হাইব্রিড গাড়ি। পুরোনো Fisker প্রকল্পটির মধ্যে যে এখনও যথেষ্ট প্রাণ রয়েছে, তা বোধহয় বলার অপেক্ষা রাখে না।

Karma গত ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে Concours at Wynn Las Vegas-এ Eximius কর্মসূচির অধীনে তৈরি প্রথম গাড়িটির আত্মপ্রকাশ ঘটায়। তবে যিনি গাড়িটি তৈরির অর্ডার দিয়েছেন, তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি বনেটের নিচে। Revero-র ছোট টার্বোচার্জড পেট্রোল জেনারেটরের জায়গায় বসানো হয়েছে ৬.২-লিটারের V8 ইঞ্জিন। তবে গাড়িটিতে Revero-র প্লাগ-ইন সিরিজ-হাইব্রিড কাঠামো বজায় রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, পেট্রোল ইঞ্জিনটি সরাসরি চাকা ঘোরায় না; বরং হাইব্রিড ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজ করে।

Karma-র দাবি, V8 ইঞ্জিনটি ৫৫০ হর্সপাওয়ার শক্তি উৎপাদন করে। অন্যদিকে, ব্যাটারি প্যাক থেকে পাওয়া যায় আরও ৬৪৫ হর্সপাওয়ার। সব মিলিয়ে পুরো সিস্টেমের সম্মিলিত শক্তি ১,১৯৫ হর্সপাওয়ার। তবে অন্য কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে শক্তির পরিমাণ প্রায় ১,২১২ হর্সপাওয়ার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই ২০২৭ সালে গাড়িটির নির্ধারিত ডেলিভারির আগে চূড়ান্ত পরিসংখ্যানে পরিবর্তন আসতে পারে।

Karma-র প্রেসিডেন্ট ও CEO Marques McCammon মনে করেন, প্রচলিত সড়কের গাড়ির সীমা পেরিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কী করতে পারে, এই প্রকল্প তারই প্রমাণ। McCammon বলেন, “Eximius কর্মসূচি সম্ভাবনার আলোচনায় ‘না’ শব্দটিকেই কার্যত বাদ দিয়ে দেয়।” তিনি আরও বলেন, “এটি এখন পর্যন্ত তৈরি সবচেয়ে শক্তিশালী প্লাগ-ইন সিরিজ-হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন ও গাড়ি।”

পরিবর্তন শুধু পাওয়ারট্রেনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। Eximius 1-এ রয়েছে দুই টুকরো স্লটেড রোটরসহ কার্বন-সিরামিক ব্রেক এবং Öhlins-এর সেমি-অ্যাকটিভ সাসপেনশন। গাড়িটির বডি স্ট্যান্ডার্ড Revero-র তুলনায় প্রায় দুই ইঞ্চি চওড়া। বাড়তি প্রস্থ ঢাকতে চওড়া করা হয়েছে চাকার চারপাশের আর্চ। বাইরের আবরণটি ছাড়া প্রতিটি প্যানেলই তৈরি করা হয়েছে প্রি-ইমপ্রেগনেটেড কার্বন ফাইবার দিয়ে। গাড়িটি চলছে ২১ ইঞ্চির ম্যাগনেসিয়াম সেন্টার-লক চাকার ওপর, যার ফিনিশ সাটিন ব্ল্যাক।

Karma-র দাবি, Eximius 1 মাত্র ২.৭ সেকেন্ডে ০–৬০ mph গতিতে পৌঁছাতে পারে এবং এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২০০ মাইলের বেশি। তবে দ্বিতীয় পরিসংখ্যানটি এখনও অনুমাননির্ভর। পারফরম্যান্সের কোনো দাবিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ক্রেতার সঙ্গে এখনো যৌথভাবে গাড়িটির উন্নয়নকাজ চলছে এবং ডেলিভারির পরিকল্পনা রয়েছে ২০২৭ সালে। এর আগে স্বাধীনভাবে পারফরম্যান্স পরীক্ষা করা হবে কি না, Karma তা নিশ্চিত করেনি। একজন নির্দিষ্ট ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী তৈরি একটিমাত্র গাড়ি সাধারণ উৎপাদন মডেলের মতো একই ধরনের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায় না।

Eximius কর্মসূচিটি Karma-র বিদ্যমান Studio ব্যক্তিগতকরণ সেবারও ওপরে অবস্থান করছে।

Karma তাদের ঘোষণায় কর্মসূচিটি সম্পর্কে বলেছে, “Eximius কর্মসূচির মাধ্যমে Karma-র ক্রেতারা গাড়ির বডি, পাওয়ারট্রেন এবং অন্যান্য পারফরম্যান্স যন্ত্রাংশে পরিবর্তনের অনুরোধ জানাতে পারবেন।”

ব্যক্তিগতকরণের প্রক্রিয়ায় যে সকল ক্রেতা সাধারণ রং, ট্রিম কিংবা চাকার নকশা বেছে নেওয়ার চেয়েও আরও বেশি কিছু চান—তাদের আকৃষ্ট করাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য। Karma-র জন্য এই কৌশল বেশ কার্যকর হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর হাজার হাজার নয়, বরং কয়েকশ গাড়ি তৈরি করে। তাই ব্যক্তিগত ক্রেতাদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি গাড়ি উৎপাদন করা তাদের জন্য খুব বড় কোনো সংকট নয়।

প্রতিষ্ঠানটি অন্যান্য মডেল নিয়েও কাজ করছে। Gyesera Grand Coupe-টি আগামী ডিসেম্বরে ডিলারশিপে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। অন্যদিকে, Revero-র উৎপাদন সম্প্রতি বন্ধ হয়েছে। ফলে Revero-র হাইব্রিড কাঠামোর জন্য Eximius 1 হয়ে উঠেছে কিছুটা অদ্ভুত এক শেষ অধ্যায়।

Previous
Previous

পুরোনো GTO-তে ৬৫০ হর্সপাওয়ারের তাণ্ডব!

Next
Next

BYD-র হাইপারকারের ভয়াবহ দুর্ঘটনা