জার্মানিতে কারখানা বন্ধের ঝুঁকিতে Mercedes

ছবিঃ Mercedes

খরচ কমানোর আগ্রাসী পদক্ষেপে Germany-তেই কারখানা বন্ধের সক্রিয় চিন্তাভাবনা করছে বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Mercedes-Benz।

Carscoops-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শক্তিশালী শ্রমিক ইউনিয়ন IG Metall-এর সাথে দরকষাকষির টানাপোড়েনের জেরে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিজ দেশের দুটি কারখানা—একটি গাড়ি সংযোজন কারখানা এবং একটি পাওয়ারট্রেন কারখানা—বন্ধের পথ বেছে নিতে পারে।

বর্তমানে Germany জুড়ে Mercedes-Benz-এর সাতটি পাওয়ারট্রেন কারখানা ও তিনটি গাড়ি সংযোজন কারখানা চালু রয়েছে। তবে সম্ভাব্য ছাঁটাইয়ের তালিকায় সুনির্দিষ্ট কোন কারখানাগুলো রয়েছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

Sindelfingen প্লান্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে Mercedes-Benz-এর প্রোডাকশন চিফ Michael Schiebe জানান, “আমাদের মূল লক্ষ্য জার্মানির সবকটি কেন্দ্র চালু রাখা। কিন্তু তা সম্ভব না হলে আমাদের অবশ্যই একটি জার্মান সংযোজন কারখানা এবং একটি পাওয়ারট্রেন কারখানা বন্ধ করে দিতে হবে।” অন্যদিকে, বার্তা সংস্থা Reuters-কে প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, “জার্মানিতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আমাদের নতুন নীতি ও উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন।”

ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এই চিন্তাভাবনাকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে শ্রমিক ইউনিয়ন IG Metall। এক বিবৃতিতে তারা ঘোষণা দিয়েছে, কারখানা বন্ধের ভয় দেখিয়ে ভবিষ্যৎ গড়া যায় না। ইউনিয়নটির মন্তব্য, “বোর্ড যদি মনে করে ‘ছাড় দাও নইলে কারখানা বন্ধ হবে’ এমন আলটিমেটাম দিয়ে কর্মীদের চাপে ফেলা যাবে, তবে আমাদের সোজা জবাব—আমাদের উপস্থিতিতে তা কোনোভাবেই হতে দেওয়া হবে না।”

চীনে হঠাৎ করে বিক্রির ধস এবং আন্তর্জাতিক বাজারে একের পর এক শুল্কের আঘাতে রীতিমতো কোণঠাঁসা হয়ে পড়েছে জার্মান অটোমোবাইল খাত। শুধু ২০২৫ সালেই United States-এর আরোপিত শুল্কের কারণে Mercedes-Benz-এর ক্ষতি হয়েছে ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার—যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা।

এই বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে পুরো জার্মান অটোমোবাইল শিল্পেই। সংকট মোকাবিলায় Volkswagen Group সম্প্রতি ‘Future Plan 2030’ অনুমোদন করেছে, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ৩১ বিলিয়ন ইউরো পরিচালন মুনাফা নিশ্চিত করা এবং মুনাফার মার্জিন ৯ শতাংশে উন্নীত করা। এই নির্মম ব্যয়সংকোচন পরিকল্পনার আওতায় ২০৩৫ সালের মধ্যে গাড়ির জটিলতা ৭৫ শতাংশ কমানো, মডেলের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা, প্রায় ১ লাখ কর্মী ছাঁটাই এবং দেশের অভ্যন্তরে থাকা চারটি কারখানা বন্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই পরিকল্পনার জেরে স্প্যানিশ সাবসিডিয়ারি Seat বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছে; কারণ মূল প্রতিষ্ঠান সব নজর দিচ্ছে বেশি মুনাফাজনক Cupra ব্র্যান্ডের দিকে। এমনকি নিজেদের ঐতিহ্যবাহী ফলকগুলোও বেচে দিতে বাধ্য হচ্ছে তারা। Porsche তাদের Bugatti Rimac-এর নিয়ন্ত্রক শেয়ার প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরোতে বিক্রি করে দিয়েছে। অন্যদিকে Giorgetto Giugiaro ও Aldo Mantovani-র প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক কোচবিল্ডার Italdesign-এ থাকা নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে Audi।

একদিকে চীন যখন একচ্ছত্রভাবে পুরো বাজার দখলের দিকে এগোচ্ছে, অন্যদিকে জার্মান নির্মাতারা তখন ডুবন্ত জাহাজের মতো নিজেদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে টিকে থাকার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এই উদ্বেগজনক আত্মঘাতী লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত তারা টিকে থাকতে পারবে কি না, তা কেবল সময়ই বলে দেবে।

Previous
Previous

চীনা গাড়ি রিব্যাজিং বাড়াচ্ছে Mazda

Next
Next

বাজারে আসছে Subaru-র দুটি বিশেষ গাড়ি