নতুন BYD Seagull: দাম মাত্র ১২.২৫ লাখ টাকা!
ছবিঃ BYD
BYD-এর সবচেয়ে সস্তা ইলেকট্রিক গাড়ি কিছুটা বড় হয়ে আবারও বাজারে ফিরেছে। দ্বিতীয় প্রজন্মের Seagull-র রয়েছে প্রশস্ত বডি, বেশি ধারণক্ষমতার ব্যাটারি, উন্নত প্রযুক্তি এবং অবিশ্বাস্য দ্রুত চার্জিংয়ের সুবিধা। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, আগের মডেলের তুলনায় দামও কমেছে।
বাজারভেদে Seagull বিভিন্ন নামে বিক্রি হয়। এর মধ্যে রয়েছে Dolphin, Surf, Dolphin Mini এবং Atto 1। ২০২৫ সালের মডেলটির প্রাথমিক দাম ছিল ৬৯,৯০০ ইউয়ান বা প্রায় ১৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা। নতুন মডেলের প্রাথমিক দাম কমে হয়েছে ৬৫,৯০০ ইউয়ান। অর্থাৎ, নতুন Seagull-এর সবচেয়ে সস্তা সংস্করণটি আগের চেয়ে প্রায় ৮৭ হাজার টাকা সস্তা।
নতুন Seagull মোট পাঁচটি ট্রিমে পাওয়া যাবে। এর মধ্যে সবচেয়ে সস্তা Vitality Edition-এর দাম ৬৫,৯০০ ইউয়ান বা প্রায় ১২ লাখ ২৫ হাজার টাকা। Freedom Edition-এর দাম ৭২,৯০০ ইউয়ান বা ১৩ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা। Ease Edition-এর দাম ৭৫,৯০০ ইউয়ান বা ১৪ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা। Flight Edition-এর দাম ৮২,৯০০ ইউয়ান বা ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর সবচেয়ে দামি Smart Edition কিনতে খরচ হবে ৯৯,৯০০ ইউয়ান বা ১৮ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা।
নতুন Seagull আকারে বেশ বড় হয়েছে। গাড়িটির দৈর্ঘ্য ৪,২০৫ মিমি, প্রস্থ ১,৮১০ মিমি এবং উচ্চতা ১,৫৭০ মিমি। হুইলবেস ২,৬৫০ মিমি। আগের মডেলটির দৈর্ঘ্য ছিল ৩,৭৮০ মিমি, প্রস্থ ১,৭১৫ মিমি এবং উচ্চতা ১,৫৪০ মিমি। হুইলবেস ছিল ২,৫০০ মিমি। অর্থাৎ, নতুন গাড়িটি আগের চেয়ে ৪২৫ মিমি লম্বা এবং সামনের ও পেছনের চাকার মধ্যবর্তী দূরত্ব বেড়েছে ১৫০ মিমি।
বাড়তি জায়গার কারণে এখন চারজনের পরিবর্তে পাঁচজন যাত্রী বহন করতে পারবে নতুন Seagull। পেছনের লাগেজ রাখার জায়গার ধারণক্ষমতা এখন ১,৩৮০ লিটার। এর পাশাপাশি সামনে নতুন একটি ফ্রাঙ্কও রয়েছে, যেখানে আরও ৯৪ লিটার মালপত্র রাখা যাবে। ছোট একটি ইলেকট্রিক হ্যাচব্যাক হিসেবে জায়গার পরিমাণটা বেশ ভালো।
বাইরের নকশায় BYD-এর ‘Marine Aesthetics’ ডিজাইন ধরে রাখা হয়েছে। নিচু, স্পোর্টি গড়নের সঙ্গে রয়েছে স্বতন্ত্র ‘ট্রাইডেন্ট’ আকৃতির পজিশন লাইট। ক্রেতাদের জন্য রয়েছে ছয়টি রঙ: Lime Green, Berry Pink, Cream White, Mango Orange, Ice Coconut Blue এবং Sesame Grey।
ভেতরে রয়েছে সমান্তরাল ড্যাশবোর্ড, উন্নত মানের উপকরণ এবং তিনটি নতুন রঙের সমন্বয়: Shell White, Clear Sky Pink ও Polar Star Grey। ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেমটি BYD-এর DiLink 150 স্মার্ট ককপিট প্ল্যাটফর্মে চলে। এতে রয়েছে ১৫.৬ ইঞ্চির কেন্দ্রীয় ডিসপ্লে, যা DeepSeek AI-এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ দিয়ে পরিচালিত হয়।
চালকের আসনটি ছয়ভাবে বৈদ্যুতিকভাবে এডজাস্ট করা যায়। সামনের যাত্রীর আসনটি এডজাস্ট করা যায় চারভাবে। সামনের দুটি আসনেই রয়েছে তিন স্তরের হিটিং ও ভেন্টিলেশন সুবিধা। চালকের আসনে আরও আছে একাধিক ম্যাসাজ মোডের সুবিধা। অন্যান্য সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ৫০ ওয়াটের ওয়্যারলেস ফোন চার্জিং, ১২৭ রঙের অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং এবং আটটি স্পিকারের অডিও সিস্টেম। মাত্র ১২ লাখ টাকার একটি গাড়িতে এত কিছু বেশ চমকপ্রদ।
এছাড়াও নতুন Seagull-এ রয়েছে BYD-এর DiPilot 300 ‘God’s Eye’ অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম। এটি LiDAR প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এর সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে City Navigation on Autopilot (CNOA), High-speed Navigation on Autopilot (HNOA), কাউন্টডাউনসহ ট্রাফিক লাইট শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বাধা এড়িয়ে চলার ব্যবস্থা। তবে LiDAR-ভিত্তিক এই সিস্টেমটির জন্য ক্রেতাকে আলাদা টাকা গুনতে হবে।
নিরাপত্তার জন্য রয়েছে ‘টেন-হরাইজন্টাল, ফোর-ভার্টিক্যাল’ খাঁচার মতো বডি স্ট্রাকচার, সর্বোচ্চ ছয়টি এয়ারব্যাগ এবং টায়ার ফেটে গেলে গাড়ির স্থিতিশীলতা ধরে রাখার ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে চীনের শহুরে যানজট সামলাতে গাড়িটি কতটা সক্ষম, সেটি এক প্রশ্ন। আর ঢাকার পরিচিত রাস্তাঘাটে এর ইলেকট্রনিক সহায়তা ব্যবস্থাগুলো কতটা কাজে আসবে, সেটি আরেক প্রশ্ন।
নতুন Seagull-এ দুটি বৈদ্যুতিক মোটরের অপশন রয়েছে। একটি ৮৫ কিলোওয়াট বা ১১৪ হর্সপাওয়ার শক্তি উৎপন্ন করে, অন্যটি ৯৫ কিলোওয়াট বা ১২৭ হর্সপাওয়ার। দুটি সংস্করণেই টর্ক ১৩০ নিউটন-মিটার। ব্যাটারির ক্ষেত্রে ক্রেতারা ৩০.১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা এবং ৩৯.২ কিলোওয়াট-ঘণ্টার দ্বিতীয় প্রজন্মের Blade Battery প্যাকের মধ্যে একটি বেছে নিতে পারবেন।
ছোট ব্যাটারির সংস্করণটির CLTC পরীক্ষাপদ্ধতিতে দাবিকৃত রেঞ্জ ৩২০ কিলোমিটার। WLTP পরীক্ষাপদ্ধতিতে এর সমতুল্য রেঞ্জ প্রায় ২৫৯ কিলোমিটার। বড় ব্যাটারির সংস্করণে CLTC রেঞ্জ বেড়ে হয়েছে ৪২০ কিলোমিটার, যা WLTP অনুযায়ী প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার। BYD-এর দাবি, প্রতি ১০০ কিলোমিটারে গাড়িটি ৯.০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ খরচ করে। এতে আরও রয়েছে মাল্টি-লিংক ইন্ডিপেন্ডেন্ট রিয়ার সাসপেনশন এবং ৪.৯৫ মিটার টার্নিং রেডিয়াস।
তবে সবচেয়ে বড় উন্নয়ন হতে পারে Flash Charging প্রযুক্তি। বড় ৩৯.২ কিলোওয়াট-ঘণ্টার ব্যাটারিসহ ওপরের তিনটি ট্রিমে এই সুবিধা পাওয়া যাবে। BYD-এর দাবি, এর মাধ্যমে মাত্র পাঁচ মিনিটে ব্যাটারির চার্জ ১০ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশে নেওয়া সম্ভব।
চীনের ছোট ইলেকট্রিক হ্যাচব্যাকের বাজারে Seagull-কে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে Flash Charging-কে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে দেখছে BYD। এই বাড়তি সুবিধার প্রয়োজনও রয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববাজারে Seagull বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার ইউনিট। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় বিক্রি কমেছে ৩৩ শতাংশ। চীনের বাজারে বিক্রি ৬৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮৩ হাজার ৬০০ ইউনিটে।
Seagull-এর অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী Geely EX2, যা চীনে Xingyuan নামে পরিচিত। গাড়িটি বর্তমানে চীনের বাজারে সর্বাধিক বিক্রিত গাড়ি। ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে এর বিক্রি ছিল ৩ লাখ ১০ হাজার ইউনিট। একই সময়ে ২ লাখ ৭৭ হাজার ইউনিট বিক্রি করে দ্বিতীয় স্থানে ছিল Tesla Model Y।
বিক্রি কমে যাওয়ার ধাক্কা সামলাতে নতুন Seagull-এর কম দাম, বড় কেবিন, উন্নত ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স প্রযুক্তি এবং দ্রুত চার্জিংয়ের ওপর ভরসা করছে BYD। তবে এসব উন্নয়ন বিক্রির পতন ঠেকাতে পারবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের বাজারে কী গাড়িটি আসবে? BYD Bangladesh কখনো Seagull নিয়ে আসবে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের বাজারে হ্যাচব্যাক বিক্রি করাটা একটা কঠিন ব্যাপার। অধিকাংশ ক্রেতারা গাড়ি কিনতে গেলে সেডান কিংবা SUV-ই খোঁজে। এর পাশাপাশি দেশের চার্জিং অবকাঠামো, পুনর্বিক্রয়মূল্য এবং ব্যাটারির স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ সবকিছু মিলিয়ে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার ব্যাপারে সংশয় রয়েই গেছে।
তারপরও, যেখানে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটার ১৬৫ টাকা সেই বিবেচনায় একটি সাশ্রয়ী দামের বৈদ্যুতিক গাড়ি বাংলাদেশের বাজারে বেশ আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে দেশের প্রচলিত উচ্চ কর ও শুল্কের শর্তাবলী ঠেলে আসার পরও দামটি নাগালের মধ্যে থাকবে কিনা তা প্রশ্নসাপেক্ষ।
BYD-এর সবচেয়ে সস্তা ইলেকট্রিক গাড়ি কিছুটা বড় হয়ে আবারও বাজারে ফিরেছে। দ্বিতীয় প্রজন্মের Seagull-র রয়েছে প্রশস্ত বডি, বেশি ধারণক্ষমতার ব্যাটারি, উন্নত প্রযুক্তি এবং অবিশ্বাস্য দ্রুত চার্জিংয়ের সুবিধা। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, আগের মডেলের তুলনায় দামও কমেছে।